বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) পদোন্নতির দাবিতে দুই দিন ধরে একাডেমিক কর্মবিরতি ও শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষকরা। এই অনড় অবস্থানের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেশনজটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া শিক্ষকদের কর্মবিরতি বুধবার ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে রূপ নিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০২ জন শিক্ষকের স্বাক্ষরিত এক লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট, পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা এবং আইনগত অনিশ্চয়তা নিরসনের দাবিতে শিক্ষকরা এই কর্মবিরতি শুরু করেছেন। বুধবার থেকে পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া, প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরাও সকল প্রকার প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শিক্ষকদের অভিযোগ, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনায় চাকরি, পদোন্নতি ও প্রশাসনিক বিধিমালা প্রণয়ন ও সংশোধনে চ্যান্সেলরের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান কার্যক্রম আইনগত অনিশ্চয়তায় পড়েছে এবং পূর্ববর্তী কার্যক্রমের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়াও, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিভাগে তীব্র শিক্ষক সংকট বিরাজ করছে। অনুমোদিত পদ থাকা সত্ত্বেও প্রায় ৫১টি পদ শূন্য রয়েছে এবং খণ্ডকালীন শিক্ষকদের ভাতা বন্ধ থাকায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি, ২৪ জন শিক্ষকের অধ্যাপক পদে পদোন্নতির সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে।
শিক্ষকদের এই সিদ্ধান্তের ফলে দুই দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় অনেকেই সেশনজটের আশঙ্কায় দিন গুনছেন। তাদের মতে, শিক্ষকদের দাবির বলি হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
রিপোর্টারের নাম 





















