ঢাকা ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর ফোনালাপ: দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে আলোচনা

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরানি বার্তা সংস্থা মিজান নিউজ জানিয়েছে, এই ফোনালাপে দুই দেশের মধ্যেকার দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে।

আলোচনাকালে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান প্রধানমন্ত্রী শরিফকে জানান যে, যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিকভাবে আবারও ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করতে পারে এমন আশঙ্কা তাদের রয়েছে, যা অতীতেও ঘটেছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, যুদ্ধবিরতি ও আলোচনা চলাকালীন সময়েও ওয়াশিংটন অযৌক্তিক ও ‘গুণ্ডামিমূলক’ আচরণ করছে, যা তাদের মধ্যে সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে। প্রেসিডেন্টের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই আচরণ ইঙ্গিত দেয় যে তারা আলোচনাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না এবং ভবিষ্যতে আবারও হামলার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে, এই টেলিফোনালাপের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে দেওয়া বিবৃতিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফার আলোচনার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।

এর আগে রোববার (১৯ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য সোমবার ইসলামাবাদে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানো হবে। যদিও ইরান ইঙ্গিত দিয়েছিল যে বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা এই আলোচনায় অংশ নাও নিতে পারে। ইরানি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ ও তাসনিম নিউজ ‘অজ্ঞাত সূত্রের’ বরাতে জানিয়েছে, আলোচনার জন্য পরিবেশ এখনো অনুকূল নয়। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রকে আগে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে, যা তেহরানের প্রধান শর্ত।

এদিকে, রোববার ইরানের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। এই ঘটনার জবাব দেওয়া হবে বলে তেহরান সতর্কতা জারি করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বগুড়া পৌরসভা পেল সিটি করপোরেশনের মর্যাদা: ১৫০ বছরের অপেক্ষার অবসান

ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর ফোনালাপ: দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে আলোচনা

আপডেট সময় : ০৯:২৩:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরানি বার্তা সংস্থা মিজান নিউজ জানিয়েছে, এই ফোনালাপে দুই দেশের মধ্যেকার দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে।

আলোচনাকালে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান প্রধানমন্ত্রী শরিফকে জানান যে, যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিকভাবে আবারও ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করতে পারে এমন আশঙ্কা তাদের রয়েছে, যা অতীতেও ঘটেছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, যুদ্ধবিরতি ও আলোচনা চলাকালীন সময়েও ওয়াশিংটন অযৌক্তিক ও ‘গুণ্ডামিমূলক’ আচরণ করছে, যা তাদের মধ্যে সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে। প্রেসিডেন্টের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই আচরণ ইঙ্গিত দেয় যে তারা আলোচনাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না এবং ভবিষ্যতে আবারও হামলার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে, এই টেলিফোনালাপের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে দেওয়া বিবৃতিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফার আলোচনার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।

এর আগে রোববার (১৯ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য সোমবার ইসলামাবাদে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানো হবে। যদিও ইরান ইঙ্গিত দিয়েছিল যে বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা এই আলোচনায় অংশ নাও নিতে পারে। ইরানি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ ও তাসনিম নিউজ ‘অজ্ঞাত সূত্রের’ বরাতে জানিয়েছে, আলোচনার জন্য পরিবেশ এখনো অনুকূল নয়। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রকে আগে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে, যা তেহরানের প্রধান শর্ত।

এদিকে, রোববার ইরানের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। এই ঘটনার জবাব দেওয়া হবে বলে তেহরান সতর্কতা জারি করেছে।