ঢাকা ০২:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

বৈশাখী মেলা ঘিরে ঝালকাঠিতে শীতলপাটি বুননে ব্যস্ত কারিগররা

আসন্ন পহেলা বৈশাখ ও বিভিন্ন গ্রামীণ মেলাকে কেন্দ্র করে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার হাইলাকাঠী গ্রামে ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি বুননের ধুম পড়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের লালদিঘির ময়দানে অনুষ্ঠিতব্য ঐতিহাসিক জব্বারের বলি খেলার মেলাকে সামনে রেখে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কারিগররা। এলাকার প্রায় শতাধিক পরিবারের নারী-পুরুষ এখন পাটি তৈরির নিপুণ শৈলীতে মগ্ন।

একটি মানসম্মত শীতলপাটি তৈরির প্রক্রিয়া বেশ শ্রমসাধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী। কারিগররা জানান, পাটি তৈরির প্রধান কাঁচামাল ‘পাইতরা’ গাছ পরিপক্ক হতে প্রায় এক বছর সময় লাগে। বাজার থেকে পাইতরা কিনে এনে সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করে বুনন উপযোগী করতে হয়। এরপর ভাতের মাড় ও পানির মিশ্রণে ভিজিয়ে পরিষ্কার করে রোদে শুকানোর পর শুরু হয় বুনন। একটি মাঝারি মানের পাটি তৈরি করতে চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগে।

তবে হাড়ভাঙা খাটুনি দিলেও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার আক্ষেপ রয়েছে কারিগরদের মনে। তারা জানান, একটি পাটি সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হলেও এর বড় একটি অংশ চলে যায় মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে। এছাড়া সরকারি কোনো সহায়তা বা সহজ ঋণের ব্যবস্থা না থাকায় অনেকে দাদন ব্যবসায়ীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। স্থানীয়দের দাবি, এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সরাসরি বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা করা জরুরি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কবে হতে পারে পবিত্র ঈদুল আজহা? জানা গেল সম্ভাব্য তারিখ

বৈশাখী মেলা ঘিরে ঝালকাঠিতে শীতলপাটি বুননে ব্যস্ত কারিগররা

আপডেট সময় : ১২:১০:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

আসন্ন পহেলা বৈশাখ ও বিভিন্ন গ্রামীণ মেলাকে কেন্দ্র করে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার হাইলাকাঠী গ্রামে ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি বুননের ধুম পড়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের লালদিঘির ময়দানে অনুষ্ঠিতব্য ঐতিহাসিক জব্বারের বলি খেলার মেলাকে সামনে রেখে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কারিগররা। এলাকার প্রায় শতাধিক পরিবারের নারী-পুরুষ এখন পাটি তৈরির নিপুণ শৈলীতে মগ্ন।

একটি মানসম্মত শীতলপাটি তৈরির প্রক্রিয়া বেশ শ্রমসাধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী। কারিগররা জানান, পাটি তৈরির প্রধান কাঁচামাল ‘পাইতরা’ গাছ পরিপক্ক হতে প্রায় এক বছর সময় লাগে। বাজার থেকে পাইতরা কিনে এনে সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করে বুনন উপযোগী করতে হয়। এরপর ভাতের মাড় ও পানির মিশ্রণে ভিজিয়ে পরিষ্কার করে রোদে শুকানোর পর শুরু হয় বুনন। একটি মাঝারি মানের পাটি তৈরি করতে চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগে।

তবে হাড়ভাঙা খাটুনি দিলেও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার আক্ষেপ রয়েছে কারিগরদের মনে। তারা জানান, একটি পাটি সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হলেও এর বড় একটি অংশ চলে যায় মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে। এছাড়া সরকারি কোনো সহায়তা বা সহজ ঋণের ব্যবস্থা না থাকায় অনেকে দাদন ব্যবসায়ীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। স্থানীয়দের দাবি, এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সরাসরি বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা করা জরুরি।