রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় তিস্তা নদীর দ্বিমুখী আচরণে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে চরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ। শুষ্ক মৌসুমে নাব্য সংকট আর বর্ষায় তীব্র ভাঙন—এই দুই সংকটের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে উদ্বাস্তু হচ্ছে নদী তীরবর্তী জনপদ। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়া এবং জীবিকার অনিশ্চয়তায় এই এলাকার মানুষের জীবন এখন চরম সংকটে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, শুষ্ক মৌসুম শুরু হতেই তিস্তা নদী ধূ-ধূ বালুচরে পরিণত হয়। পানি কমে যাওয়ায় নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং মৎস্যজীবীরা কর্মহীন হয়ে পড়েন। একই সঙ্গে সেচ সংকটে পড়ে ব্যাহত হচ্ছে কৃষি উৎপাদন। অন্যদিকে, বর্ষা এলেই নদীটি রুদ্রমূর্তি ধারণ করে। প্রতিবছর নদীভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে নোহালী থেকে মহিপুর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
ভুক্তভোগী বাসিন্দারা জানান, দশকের পর দশক ধরে তারা এই ভাঙন আর বন্যার সঙ্গে লড়াই করছেন। অনেকে আট-নয়বার নিজের বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও নদী শাসনের কোনো স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, তিস্তার এই ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। তারা মনে করেন, পরিকল্পিত নদী শাসন ও বাঁধ নির্মাণ করা না গেলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে আরও অনেক গ্রাম, যা চরাঞ্চলের মানুষের দুঃখগাথাকে আরও দীর্ঘায়িত করবে।
রিপোর্টারের নাম 






















