ঢাকা ০১:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

জ্বালানি সংকটে ধুঁকছে ইস্টার্ন রিফাইনারি: উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে গভীর সংকটে পড়েছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি এমন নজিরবিহীন অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েল সংকটের মুখে আর কখনো পড়েনি। বর্তমানে শোধনাগারটির উৎপাদন কার্যক্রম প্রায় স্থবির হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট অস্থিরতার কারণে মার্চ মাসের নির্ধারিত ক্রুড অয়েলের পার্সেলগুলো সময়মতো পৌঁছাতে পারেনি। ফলে ইস্টার্ন রিফাইনারি বর্তমানে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে বা ‘লো ফিডে’ চালু রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, স্টোরেজ ট্যাংকের একদম তলানিতে থাকা জরুরি মজুত বা ‘ডেড স্টক’ ব্যবহার করে কোনোভাবে দুটি ইউনিট সচল রাখা হয়েছে। বাকি দুটি ইউনিট উৎপাদন বন্ধ রেখে রক্ষণাবেক্ষণ বা মেইনটেনেন্সে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে তেলের শেষ চালানটি দেশে এসেছিল। এরপর থেকেই আমদানি প্রক্রিয়ায় জটিলতা শুরু হয়। বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, মার্চ ও এপ্রিলের জন্য নির্ধারিত চালানগুলো যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে। তবে ইরানি দূতাবাসসহ সংশ্লিষ্ট সব মহলে যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ক্রুড অয়েলের নতুন চালান দেশে পৌঁছাবে এবং এরপর রিফাইনারি আবারও পূর্ণ শক্তিতে উৎপাদনে ফিরতে পারবে।

শোধনাগার বন্ধ থাকলেও দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছে বিপিসি। সংস্থাটির দাবি, পরিশোধিত তেলের সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় আগেভাগেই অতিরিক্ত ডিজেল ও অকটেন আমদানি করে মজুত রাখা হয়েছে। বর্তমানে রিফাইনারির উৎপাদন কমলেও আমদানিকৃত তেলের মাধ্যমে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংস্কারের ধীরগতিতে আইএমএফের কিস্তি স্থগিত, বাংলাদেশের ঋণের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

জ্বালানি সংকটে ধুঁকছে ইস্টার্ন রিফাইনারি: উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার

আপডেট সময় : ১০:৪০:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে গভীর সংকটে পড়েছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি এমন নজিরবিহীন অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েল সংকটের মুখে আর কখনো পড়েনি। বর্তমানে শোধনাগারটির উৎপাদন কার্যক্রম প্রায় স্থবির হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট অস্থিরতার কারণে মার্চ মাসের নির্ধারিত ক্রুড অয়েলের পার্সেলগুলো সময়মতো পৌঁছাতে পারেনি। ফলে ইস্টার্ন রিফাইনারি বর্তমানে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে বা ‘লো ফিডে’ চালু রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, স্টোরেজ ট্যাংকের একদম তলানিতে থাকা জরুরি মজুত বা ‘ডেড স্টক’ ব্যবহার করে কোনোভাবে দুটি ইউনিট সচল রাখা হয়েছে। বাকি দুটি ইউনিট উৎপাদন বন্ধ রেখে রক্ষণাবেক্ষণ বা মেইনটেনেন্সে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে তেলের শেষ চালানটি দেশে এসেছিল। এরপর থেকেই আমদানি প্রক্রিয়ায় জটিলতা শুরু হয়। বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, মার্চ ও এপ্রিলের জন্য নির্ধারিত চালানগুলো যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে। তবে ইরানি দূতাবাসসহ সংশ্লিষ্ট সব মহলে যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ক্রুড অয়েলের নতুন চালান দেশে পৌঁছাবে এবং এরপর রিফাইনারি আবারও পূর্ণ শক্তিতে উৎপাদনে ফিরতে পারবে।

শোধনাগার বন্ধ থাকলেও দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছে বিপিসি। সংস্থাটির দাবি, পরিশোধিত তেলের সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় আগেভাগেই অতিরিক্ত ডিজেল ও অকটেন আমদানি করে মজুত রাখা হয়েছে। বর্তমানে রিফাইনারির উৎপাদন কমলেও আমদানিকৃত তেলের মাধ্যমে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।