ঢাকা ১১:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় ‘জ্বালানি কূটনীতিতে’ জোর দিচ্ছে সরকার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে শুরু করেছে। নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাত শুরু হওয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে, তবে সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাপক ‘জ্বালানি কূটনীতি’ শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে ভারত, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার সাথে যোগাযোগ ও আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে ভারত থেকে তিন দফায় ১৭ হাজার টন ডিজেল আমদানি করা হয়েছে এবং চলতি এপ্রিল মাসে আরও ২৫ হাজার টন আসার কথা রয়েছে।

পাশাপাশি সিঙ্গাপুর থেকে ১১ হাজার টন জেট ফুয়েল ও ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের জাহাজগুলো যেন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে সফল কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হয়েছে। এর ফলে ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি জানিয়েছেন যে বাংলাদেশের ছয়টি জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইরানি রাষ্ট্রদূতের সাথে বৈঠক করে জ্বালানি তেল আমদানিতে ইরানের সহায়তা কামনা করেছেন।

রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়েও সরকার সচেষ্ট রয়েছে, তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট জটিলতা কাটাতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি চেয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন গত ১৫ এপ্রিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সাথে বৈঠক করে জ্বালানি সহায়তার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। পাশাপাশি ভারতের শিলিগুড়ি থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর পর্যন্ত বিস্তৃত ১৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে সাশ্রয়ী উপায়ে ডিজেল আমদানির বিষয়ে দিল্লিতে দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী হরদ্বীপ সিং পুরীর সাথে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান গত ৩১ মার্চ ওয়াশিংটনে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটের সাথেও বৈঠক করেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে এবং রাশিয়ার তেল তৃতীয় দেশে পরিশোধনের পর আমদানির বিকল্প সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, একমুখী উৎসের ওপর নির্ভর না করে জ্বালানি আমদানিতে বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ওবায়দুল হক এবং আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম মনে করেন, সংকটের কথা স্পষ্টভাবে স্বীকার করে দ্রুত বিকল্প উৎস স্থায়ী করা প্রয়োজন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন যে জ্বালানির উৎস বহুমুখী করতে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও সৌদি আরবের সাথে আলোচনা চলছে এবং জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শতভাগ সহযোগিতা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে ছাত্রলীগ-যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল

বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় ‘জ্বালানি কূটনীতিতে’ জোর দিচ্ছে সরকার

আপডেট সময় : ০৯:৪৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে শুরু করেছে। নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাত শুরু হওয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে, তবে সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাপক ‘জ্বালানি কূটনীতি’ শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে ভারত, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার সাথে যোগাযোগ ও আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে ভারত থেকে তিন দফায় ১৭ হাজার টন ডিজেল আমদানি করা হয়েছে এবং চলতি এপ্রিল মাসে আরও ২৫ হাজার টন আসার কথা রয়েছে।

পাশাপাশি সিঙ্গাপুর থেকে ১১ হাজার টন জেট ফুয়েল ও ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের জাহাজগুলো যেন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে সফল কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হয়েছে। এর ফলে ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি জানিয়েছেন যে বাংলাদেশের ছয়টি জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইরানি রাষ্ট্রদূতের সাথে বৈঠক করে জ্বালানি তেল আমদানিতে ইরানের সহায়তা কামনা করেছেন।

রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়েও সরকার সচেষ্ট রয়েছে, তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট জটিলতা কাটাতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি চেয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন গত ১৫ এপ্রিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সাথে বৈঠক করে জ্বালানি সহায়তার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। পাশাপাশি ভারতের শিলিগুড়ি থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর পর্যন্ত বিস্তৃত ১৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে সাশ্রয়ী উপায়ে ডিজেল আমদানির বিষয়ে দিল্লিতে দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী হরদ্বীপ সিং পুরীর সাথে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান গত ৩১ মার্চ ওয়াশিংটনে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটের সাথেও বৈঠক করেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে এবং রাশিয়ার তেল তৃতীয় দেশে পরিশোধনের পর আমদানির বিকল্প সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, একমুখী উৎসের ওপর নির্ভর না করে জ্বালানি আমদানিতে বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ওবায়দুল হক এবং আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম মনে করেন, সংকটের কথা স্পষ্টভাবে স্বীকার করে দ্রুত বিকল্প উৎস স্থায়ী করা প্রয়োজন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন যে জ্বালানির উৎস বহুমুখী করতে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও সৌদি আরবের সাথে আলোচনা চলছে এবং জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শতভাগ সহযোগিতা করা হচ্ছে।