সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় কবুতরের উপস্থিতি বহু পুরোনো এক ঐতিহ্য। মসজিদে হারামের আশপাশে দল বেঁধে উড়ে বেড়ানো, খোলা চত্বরে খাবার খোঁজা কিংবা ভবনের কার্নিশে বসে থাকার দৃশ্য হাজি ও দর্শনার্থীদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত। স্থানীয়ভাবে এসব কবুতর ‘হামাম আল-হিমা’ অর্থাৎ পবিত্র এলাকার কবুতর এবং ‘হামাম রাব্বিল বাইত’ অর্থাৎ কাবাঘরের রবের কবুতর নামে পরিচিত।
এসব কবুতর শুধু মক্কার পরিচিত দৃশ্যের অংশ নয়, বরং নগরীর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। পবিত্র এলাকার বন্যপ্রাণী শিকার বা বিরক্ত করার ওপর দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার ইতিহাস বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিলেও উঠে এসেছে।
মক্কার প্রাচীন ইতিহাস নিয়ে রচিত বিভিন্ন গ্রন্থে পবিত্র এলাকার প্রাণীদের সুরক্ষার প্রসঙ্গ পাওয়া যায়। ইতিহাসবিদ আবুল ওয়ালিদ আল-আজরাকি তার ‘আখবার মক্কা’ গ্রন্থে পবিত্র এলাকার বন্যপ্রাণী সুরক্ষাসংক্রান্ত বিধানের উল্লেখ করেছেন। এছাড়া ইতিহাসবিদ মুহাম্মদ আল-ফাকিহির রচনায় কবুতরকে ঘিরে সাহিত্য ও স্থানীয় রীতিনীতির নানা দিক ফুটে উঠেছে।
কবুতরগুলোর সঙ্গে মক্কার মানুষের এই সুদীর্ঘ সম্পর্কের চিত্র পাওয়া যায় এক শতাব্দীরও বেশি আগের ভ্রমণবৃত্তান্তেও। মিসরীয় ইতিহাসবিদ মুহাম্মদ আল-বাতনুনি ১৯১১ সালে প্রকাশিত তার ভ্রমণবৃত্তান্ত ‘আর-রিহলাতুল হিজাজিয়্যা’ গ্রন্থে মসজিদে হারামের প্রাঙ্গণে বিপুলসংখ্যক কবুতরের উপস্থিতির কথা লিখে গেছেন।
বর্তমানেও মক্কার বিভিন্ন খোলা জায়গা ও ভবনের কার্নিশে কবুতর দেখা যায়। নগর পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার কারণে তারা এসব স্থানে নিয়মিত আশ্রয় নেয় এবং খাবার সংগ্রহ করে।
তবে বিপুলসংখ্যক কবুতরের বিচরণস্থল পরিচ্ছন্ন রাখা নগর ব্যবস্থাপনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, মক্কা নগর কর্তৃপক্ষ কবুতরের আনাগোনার স্থানগুলোতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
























