মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০১:২১ পূর্বাহ্ন | ৫ই নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহঃস্পতিবার, ২০শে কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

শিরোপার পথে আরও এগিয়ে খুলনা

  • হালনাগাদ সময় : ০৯:৩৩:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) পঞ্চম রাউন্ডের শেষ দিন যেন ছিল নাটকীয়তার এক পূর্ণাঙ্গ চিত্রনাট্য! কোথাও প্রায় নিশ্চিত জয় মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে কঠিন পরীক্ষায়, কোথাও ব্যক্তিগত মাইলফলকের দুয়ারে দাঁড়িয়ে ফিরতে হয়েছে হতাশ হয়ে। শেষ পর্যন্ত রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে সিলেটকে এক উইকেটে হারিয়েছে চট্টগ্রাম। বড় জয় তুলে নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে খুলনা। আর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর পেয়েছে চলতি আসরে প্রথম জয়ের স্বাদ।

চট্টগ্রাম-সিলেট ম্যাচে আজ শেষ দিনটি ছিল বিশেষভাবে রোমাঞ্চকর। জয়ের জন্য চট্টগ্রামের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১০১ রান, হাতে ছিল ৯ উইকেট। এমন সমীকরণে জয় অনেকটাই নিশ্চিত মনে হলেও সিলেটের দুই স্পিনার নাসুম আহমেদ ও শাহানুর রহমান ম্যাচের চিত্র বদলে দেন। মাত্র ২৩ রানের ব্যবধানে ছয় উইকেট হারিয়ে হঠাৎই চাপে পড়ে চট্টগ্রাম।

একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন সাদিকুর রহমান। সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মধ্যেও নিজের স্বাভাবিক ব্যাটিং চালিয়ে যান বাঁহাতি এই ওপেনার। তুলে নেন চলতি লিগে নিজের তৃতীয় সেঞ্চুরি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তার ষষ্ঠ শতক। ১০০ রান করে নাসুমের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেও তখনো জয় থেকে ১৭ রান দূরে চট্টগ্রাম।

শেষ পর্যন্ত নবম উইকেট পতনের পর আশরাফুল হাসান ও সঞ্জিত মজুমদার মিলে বাকি পথ পাড়ি দেন। আশরাফুলের অপরাজিত ১৫ রানের কার্যকর ইনিংসের পাশাপাশি শেষ মুহূর্তে চার হাঁকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। ১ উইকেটের এই জয়ে লিগে চট্টগ্রামের জয়সংখ্যা দাঁড়াল দুইয়ে। পাঁচ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে তারা উঠে এসেছে দ্বিতীয় স্থানে। বল হাতে সিলেটের হয়ে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচের অন্যতম আলোচিত পারফরমার ছিলেন নাসুম।

অন্যদিকে খুলনার জয় ছিল অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। নিজেদের মাঠে ময়মনসিংহকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে তারা। ফলোঅনে পড়ে শেষ দিন ৯ উইকেটে ৩১৫ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে ময়মনসিংহ। আর চার রান যোগ করতেই গুটিয়ে যায় তাদের দ্বিতীয় ইনিংস। খুলনার সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৪০ রান।

রান তাড়ায় ব্যাট হাতে দায়িত্ব নেন এনামুল হক বিজয়। তার অপরাজিত ৮০ রানের ইনিংসে সহজেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় স্বাগতিকেরা। পাঁচ ম্যাচে তিন জয় ও দুই ড্রয়ে ৩২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান আরও সুসংহত করেছে সাতবারের চ্যাম্পিয়ন খুলনা। অন্যদিকে টানা চার ম্যাচ ড্র করার পর পঞ্চম রাউন্ডে এসে প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পেল ময়মনসিংহ।

পঞ্চম রাউন্ডে এসে জয়ের খাতা খুলেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুরও। বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে রাজশাহীকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে তারা। শেষ দিনে রাজশাহীর দ্বিতীয় ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে দিয়ে রংপুরের সামনে ১৬০ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেয় প্রতিপক্ষ। জবাবে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ২৮.৫ ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় রংপুর।

ওপেনার মিম মোসাদ্দেকের ব্যাটে ছিল ধারাবাহিকতার ছাপ। ৮৯ বলে ৬১ রান করে চলতি লিগে টানা পাঁচ ম্যাচেই অন্তত একটি অর্ধশতক করার কীর্তি গড়েছেন তিনি। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন ইকবাল হোসেন, করেন ২৯ রান। শেষ দিকে রিশাদ হোসেনের ১৯ বলে অপরাজিত ৩০ রানের ঝোড়ো ইনিংস দলের জয় ত্বরান্বিত করে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

বাসাবাড়ি পরিচ্ছন্ন রাখলে ৫০ শতাংশ মশার লার্ভা শুরুতেই ধ্বংস সম্ভব: ডিএসসিসি

04 November 2026

মার্কিন সিনেটে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন ফিলিস্তিনি নারী আবের কাওয়াস

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

শিরোপার পথে আরও এগিয়ে খুলনা

হালনাগাদ সময় : ০৯:৩৩:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) পঞ্চম রাউন্ডের শেষ দিন যেন ছিল নাটকীয়তার এক পূর্ণাঙ্গ চিত্রনাট্য! কোথাও প্রায় নিশ্চিত জয় মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে কঠিন পরীক্ষায়, কোথাও ব্যক্তিগত মাইলফলকের দুয়ারে দাঁড়িয়ে ফিরতে হয়েছে হতাশ হয়ে। শেষ পর্যন্ত রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে সিলেটকে এক উইকেটে হারিয়েছে চট্টগ্রাম। বড় জয় তুলে নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে খুলনা। আর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর পেয়েছে চলতি আসরে প্রথম জয়ের স্বাদ।

চট্টগ্রাম-সিলেট ম্যাচে আজ শেষ দিনটি ছিল বিশেষভাবে রোমাঞ্চকর। জয়ের জন্য চট্টগ্রামের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১০১ রান, হাতে ছিল ৯ উইকেট। এমন সমীকরণে জয় অনেকটাই নিশ্চিত মনে হলেও সিলেটের দুই স্পিনার নাসুম আহমেদ ও শাহানুর রহমান ম্যাচের চিত্র বদলে দেন। মাত্র ২৩ রানের ব্যবধানে ছয় উইকেট হারিয়ে হঠাৎই চাপে পড়ে চট্টগ্রাম।

একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন সাদিকুর রহমান। সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মধ্যেও নিজের স্বাভাবিক ব্যাটিং চালিয়ে যান বাঁহাতি এই ওপেনার। তুলে নেন চলতি লিগে নিজের তৃতীয় সেঞ্চুরি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তার ষষ্ঠ শতক। ১০০ রান করে নাসুমের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেও তখনো জয় থেকে ১৭ রান দূরে চট্টগ্রাম।

শেষ পর্যন্ত নবম উইকেট পতনের পর আশরাফুল হাসান ও সঞ্জিত মজুমদার মিলে বাকি পথ পাড়ি দেন। আশরাফুলের অপরাজিত ১৫ রানের কার্যকর ইনিংসের পাশাপাশি শেষ মুহূর্তে চার হাঁকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। ১ উইকেটের এই জয়ে লিগে চট্টগ্রামের জয়সংখ্যা দাঁড়াল দুইয়ে। পাঁচ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে তারা উঠে এসেছে দ্বিতীয় স্থানে। বল হাতে সিলেটের হয়ে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচের অন্যতম আলোচিত পারফরমার ছিলেন নাসুম।

অন্যদিকে খুলনার জয় ছিল অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। নিজেদের মাঠে ময়মনসিংহকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে তারা। ফলোঅনে পড়ে শেষ দিন ৯ উইকেটে ৩১৫ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে ময়মনসিংহ। আর চার রান যোগ করতেই গুটিয়ে যায় তাদের দ্বিতীয় ইনিংস। খুলনার সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৪০ রান।

রান তাড়ায় ব্যাট হাতে দায়িত্ব নেন এনামুল হক বিজয়। তার অপরাজিত ৮০ রানের ইনিংসে সহজেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় স্বাগতিকেরা। পাঁচ ম্যাচে তিন জয় ও দুই ড্রয়ে ৩২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান আরও সুসংহত করেছে সাতবারের চ্যাম্পিয়ন খুলনা। অন্যদিকে টানা চার ম্যাচ ড্র করার পর পঞ্চম রাউন্ডে এসে প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পেল ময়মনসিংহ।

পঞ্চম রাউন্ডে এসে জয়ের খাতা খুলেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুরও। বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে রাজশাহীকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে তারা। শেষ দিনে রাজশাহীর দ্বিতীয় ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে দিয়ে রংপুরের সামনে ১৬০ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেয় প্রতিপক্ষ। জবাবে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ২৮.৫ ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় রংপুর।

ওপেনার মিম মোসাদ্দেকের ব্যাটে ছিল ধারাবাহিকতার ছাপ। ৮৯ বলে ৬১ রান করে চলতি লিগে টানা পাঁচ ম্যাচেই অন্তত একটি অর্ধশতক করার কীর্তি গড়েছেন তিনি। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন ইকবাল হোসেন, করেন ২৯ রান। শেষ দিকে রিশাদ হোসেনের ১৯ বলে অপরাজিত ৩০ রানের ঝোড়ো ইনিংস দলের জয় ত্বরান্বিত করে।

Share this news as a Photo Card