ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের চলমান অসন্তোষের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, তৈরি পোশাক শ্রমিকদের জন্য নতুন এই মজুরি বোর্ড গঠন করা হচ্ছে এবং একই দিনে এ সংক্রান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
পোশাক খাতের মালিক, শ্রমিক সংগঠন এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে দীর্ঘ রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান শ্রমমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, শ্রমিক নেতাদের সাথে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পরই রোববার প্রজ্ঞাপন প্রকাশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মজুরি বোর্ড গঠনের এ ঘোষণা এসেছে। বোর্ড গঠনের পর অসন্তোষ বা আন্দোলনের আর কোনো যৌক্তিক কারণ থাকে না।
চলমান শ্রমিক আন্দোলন প্রসঙ্গে মন্ত্রী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ করা যাচ্ছে বাইরে থেকে কিছু সংঘবদ্ধ চক্র সাধারণ পোশাক শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার পাঁতারা চালাচ্ছে। এসব গোষ্ঠী প্রকৃত শ্রমিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত কি না এবং তাদের পোশাক খাতের সমৃদ্ধির প্রতি কোনো অঙ্গীকার রয়েছে কি না, তা নিয়ে সচেতন নাগরিক সমাজে প্রশ্ন উঠেছে।
দেশীয় অর্থনীতির প্রাণশক্তি পোশাক খাতকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার ওপর জোর দিয়ে শ্রমমন্ত্রী বলেন, যেহেতু সরকার শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মজুরি বোর্ড গঠন করছে, তাই দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থে অবিলম্বে সবাইকে শান্ত থেকে স্ব-স্ব কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী চার সদস্যের এই মজুরি বোর্ডে একজন নিরপেক্ষ চেয়ারম্যানের পাশাপাশি মালিক ও শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধিরা যুক্ত থাকবেন, যারা পর্যালোচনার মাধ্যমে পোশাক শ্রমিকদের জন্য একটি যুগোপযোগী ন্যূনতম মজুরি সুপারিশ করবেন।
























