মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৮:৩৬ অপরাহ্ন | ৫ই নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহঃস্পতিবার, ২০শে কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কি বাড়ছে মধ্যযুগীয় সংস্কৃতির প্রতি আকর্ষণ!

  • হালনাগাদ সময় : ১১:৫৫:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

Jousting at Hever Castle and Gardens, Kent - 23 August 2020

মধ্যযুগে নাইটরা ঘোড়ায় চড়ে কাঠের বর্শা হাতে বর্শাযুদ্ধে অংশ নিলেও আধুনিক লন্ডনে দুই ব্যক্তি লাইম বাইকে চড়ে পিভিসি পাইপ হাতে বর্শাযুদ্ধে মেতে উঠেছেন। এমন অদ্ভুত আয়োজন কেবল বিনোদন নয়, বরং এটি দেখায় কীভাবে মধ্যযুগীয় সংস্কৃতি নতুন রূপে ফিরে আসছে তরুণদের জীবনে।

ফ্যাশন, সংগীত, চলচ্চিত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন মধ্যযুগের নানা অনুষঙ্গ দেখা যাচ্ছে। জিভঁশি, লুই ভিটোঁ ও ম্যাক্স মারার মতো ব্র্যান্ডের পোশাকে বর্ম ও মধ্যযুগীয় আবরণের ব্যবহার এই ধারাকে ‘মেডিভ্যালকোর’ নামে পরিচিত করেছে। অস্ট্রেলীয় পপ তারকা ট্রয় সিভানের ‘পার্টি’ গানের মিউজিক ভিডিওতেও উঠে এসেছে মধ্যযুগীয় নাইটের সাজ ও দুর্গের আবহ।

তবে কেন এই আকর্ষণ? অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম্যারিয়ন টার্নারের মতে, আধুনিক শিল্পী ও ফ্যাশন ডিজাইনাররা মধ্যযুগকে আনন্দ ও সৃজনশীলতার উৎস হিসেবে ব্যবহার করছেন। তারা অতীতের বাস্তব জীবন হুবহু তুলে ধরতে চান না, বরং পুরোনো প্রতীককে নিজেদের মতো করে সাজিয়ে নিচ্ছেন।

মধ্যযুগীয় সংস্কৃতিতে রয়েছে নাটকীয়তা, রোমাঞ্চ, বিদ্রোহ এবং প্রচলিত নিয়ম ভাঙার সুযোগ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখুঁত জীবন ও ব্যক্তিত্ব তুলে ধরার চাপের বিপরীতে এই কল্পজগৎ তরুণদের ভিন্নভাবে নিজেকে প্রকাশের সুযোগ দিচ্ছে।

মধ্যযুগের প্রতি আকর্ষণের আরেকটি কারণ ক্ষমতা ও বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা। শিল্পী করবিন শ-এর ‘দ্যা আপরাইজিং’ চলচ্চিত্রে ১৩৮১ সালের ইংল্যান্ডের কৃষক বিদ্রোহের ঘটনা নতুনভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এসব উদাহরণে মধ্যযুগ শুধু অতীত নয়, বরং সামাজিক বৈষম্য ও ক্ষমতার কাঠামো নিয়ে আলোচনার মাধ্যম হিসেবে উঠে আসছে।

বাংলাদেশের তরুণদের জন্যও এই প্রবণতা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। দেশের তরুণদের জন্য নিজেদের ইতিহাস ও লোকজ ঐতিহ্য নতুনভাবে আবিষ্কারের সুযোগ রয়েছে। পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক স্থাপনা, লালবাগ কেল্লা, সোনারগাঁ, পাহাড়পুর ও মহাস্থানগড় অতীতের ইতিহাস জানার পাশাপাশি সৃজনশীল গল্প তৈরির অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।

এ ক্ষেত্রে লোকজ ঐতিহ্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ইউনেসকোর অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় বাংলাদেশের বাউলগান, জামদানি বয়নশিল্প, সিলেটের শীতলপাটি, পয়লা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা, রিকশাচিত্র এবং টাঙ্গাইল শাড়ির বয়নশিল্প স্থান পেয়েছে।

ইন্টারনেট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের যুগে মানুষ প্রকৃতি, লোককথা ও স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি নতুন করে আগ্রহী হচ্ছে। অতীতের প্রতি এই আকর্ষণকে প্রযুক্তিবিমুখতার চেয়ে বর্তমান জীবনের বিকল্প অভিজ্ঞতা খোঁজার চেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

আকাশছোঁয়া খরচ ও চড়া ট্যাক্সের জাঁতাকল: জাপানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্বপ্নভঙ্গের বাস্তবতা

05 November 2026

প্রথমবারের মতো কুবিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াড

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কি বাড়ছে মধ্যযুগীয় সংস্কৃতির প্রতি আকর্ষণ!

হালনাগাদ সময় : ১১:৫৫:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

মধ্যযুগে নাইটরা ঘোড়ায় চড়ে কাঠের বর্শা হাতে বর্শাযুদ্ধে অংশ নিলেও আধুনিক লন্ডনে দুই ব্যক্তি লাইম বাইকে চড়ে পিভিসি পাইপ হাতে বর্শাযুদ্ধে মেতে উঠেছেন। এমন অদ্ভুত আয়োজন কেবল বিনোদন নয়, বরং এটি দেখায় কীভাবে মধ্যযুগীয় সংস্কৃতি নতুন রূপে ফিরে আসছে তরুণদের জীবনে।

ফ্যাশন, সংগীত, চলচ্চিত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন মধ্যযুগের নানা অনুষঙ্গ দেখা যাচ্ছে। জিভঁশি, লুই ভিটোঁ ও ম্যাক্স মারার মতো ব্র্যান্ডের পোশাকে বর্ম ও মধ্যযুগীয় আবরণের ব্যবহার এই ধারাকে ‘মেডিভ্যালকোর’ নামে পরিচিত করেছে। অস্ট্রেলীয় পপ তারকা ট্রয় সিভানের ‘পার্টি’ গানের মিউজিক ভিডিওতেও উঠে এসেছে মধ্যযুগীয় নাইটের সাজ ও দুর্গের আবহ।

তবে কেন এই আকর্ষণ? অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম্যারিয়ন টার্নারের মতে, আধুনিক শিল্পী ও ফ্যাশন ডিজাইনাররা মধ্যযুগকে আনন্দ ও সৃজনশীলতার উৎস হিসেবে ব্যবহার করছেন। তারা অতীতের বাস্তব জীবন হুবহু তুলে ধরতে চান না, বরং পুরোনো প্রতীককে নিজেদের মতো করে সাজিয়ে নিচ্ছেন।

মধ্যযুগীয় সংস্কৃতিতে রয়েছে নাটকীয়তা, রোমাঞ্চ, বিদ্রোহ এবং প্রচলিত নিয়ম ভাঙার সুযোগ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখুঁত জীবন ও ব্যক্তিত্ব তুলে ধরার চাপের বিপরীতে এই কল্পজগৎ তরুণদের ভিন্নভাবে নিজেকে প্রকাশের সুযোগ দিচ্ছে।

মধ্যযুগের প্রতি আকর্ষণের আরেকটি কারণ ক্ষমতা ও বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা। শিল্পী করবিন শ-এর ‘দ্যা আপরাইজিং’ চলচ্চিত্রে ১৩৮১ সালের ইংল্যান্ডের কৃষক বিদ্রোহের ঘটনা নতুনভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এসব উদাহরণে মধ্যযুগ শুধু অতীত নয়, বরং সামাজিক বৈষম্য ও ক্ষমতার কাঠামো নিয়ে আলোচনার মাধ্যম হিসেবে উঠে আসছে।

বাংলাদেশের তরুণদের জন্যও এই প্রবণতা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। দেশের তরুণদের জন্য নিজেদের ইতিহাস ও লোকজ ঐতিহ্য নতুনভাবে আবিষ্কারের সুযোগ রয়েছে। পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক স্থাপনা, লালবাগ কেল্লা, সোনারগাঁ, পাহাড়পুর ও মহাস্থানগড় অতীতের ইতিহাস জানার পাশাপাশি সৃজনশীল গল্প তৈরির অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।

এ ক্ষেত্রে লোকজ ঐতিহ্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ইউনেসকোর অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় বাংলাদেশের বাউলগান, জামদানি বয়নশিল্প, সিলেটের শীতলপাটি, পয়লা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা, রিকশাচিত্র এবং টাঙ্গাইল শাড়ির বয়নশিল্প স্থান পেয়েছে।

ইন্টারনেট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের যুগে মানুষ প্রকৃতি, লোককথা ও স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি নতুন করে আগ্রহী হচ্ছে। অতীতের প্রতি এই আকর্ষণকে প্রযুক্তিবিমুখতার চেয়ে বর্তমান জীবনের বিকল্প অভিজ্ঞতা খোঁজার চেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে।

Share this news as a Photo Card