আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বশেষ ম্যাচ খেলেছেন ২০২২ সালে। এরপর ঘরোয়া ক্রিকেটে কখনো সখনো দেখা গেলেও নিয়মিত নন সাব্বির রহমান। বয়সও পেরিয়েছে ৩৪-এর ঘর। জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা এখন অনেকটাই ক্ষীণ। সেই সাব্বিরই এবার জায়গা করে নিয়েছেন উদীয়মান ক্রিকেটারদের টুর্নামেন্টে-রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপে বাংলাদেশের প্রাথমিক দলে।
১৯ সদস্যের বাংলাদেশ ‘এ’ দলের প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সেখানে সাব্বিরের অন্তর্ভুক্তি যেমন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনি দলটির বয়স ও অভিজ্ঞতার মিশ্রণও নজর কেড়েছে। কারণ, নামের সঙ্গে ‘রাইজিং স্টার্স’ থাকলেও বাংলাদেশের দলে আছেন জাতীয় দলের হয়ে খেলা একাধিক ক্রিকেটার, যাদের কারও কারও বয়স ত্রিশের কাছাকাছি কিংবা তার বেশি।
বাংলাদেশের হয়ে তিন সংস্করণ মিলিয়ে ১২৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন সাব্বির। ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তার ব্যাট থেকে এসেছে ২৭৯১ রান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একমাত্র সেঞ্চুরিটি ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডেতে। একসময় জাতীয় দলের নিয়মিত মুখ থাকলেও সময়ের সঙ্গে জায়গা হারিয়েছেন তিনি। এবার তরুণদের প্রতিযোগিতায় তার সুযোগ পাওয়া তাই আলাদা করে নজরে পড়ছে।
শুধু সাব্বির নন, প্রাথমিক দলে আছেন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপানো আরও বেশ কয়েকজন। নাঈম শেখ খেলেছেন একটি টেস্ট, ৯টি ওয়ানডে ও ৩৮টি টি-টোয়েন্টি। পারভেজ হোসেন ইমন, ইয়াসির আলী চৌধুরী, আফিফ হোসেন, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, জাকির হাসান ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনেরও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা আছে। তাদের সঙ্গে আছেন গতবারের আসরে বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা পেসার রিপন মন্ডল।
বয়সের হিসাবেও দলটি পুরোপুরি নবীনদের নয়। ইয়াসির আলী ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বয়স ৩০ বছর। আফিফ হোসেনের ২৭, জাকির হাসানের ২৮। আর সাব্বিরের বয়স ৩৪। উদীয়মানদের আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাওয়া দলটিতে তারুণ্যের পাশাপাশি অভিজ্ঞতার উপস্থিতিও বেশ স্পষ্ট।
রিপন মন্ডল অবশ্য এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের জন্য পরিচিত মুখ। গত আসরে তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। যদিও শিরোপার লড়াইয়ে পাকিস্তানের কাছে হেরে যায় দলটি। এবারও রিপনের কাছ থেকে তেমন পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা থাকবে।
আগামী ১৯ নভেম্বর কাতারে শুরু হবে রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপ, চলবে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত। এবারের আসরটি হবে ওয়ানডে সংস্করণে; গতবার হয়েছিল টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। বাংলাদেশ খেলবে ‘এ’ গ্রুপে। তাদের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা ‘এ’, আফগানিস্তান ‘এ’ ও হংকং। অন্য গ্রুপে রয়েছে ভারত ‘এ’, পাকিস্তান ‘এ’, নেপাল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে দল উঠবে সেমিফাইনালে। ২৬ ও ২৭ নভেম্বর হবে শেষ চারের ম্যাচ। তরুণদের এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের লক্ষ্য নিশ্চয়ই ভালো করা। তবে ঘোষিত স্কোয়াডের দিকে তাকালে আরেকটি প্রশ্নও সামনে আসে-উদীয়মানদের মঞ্চে অভিজ্ঞদের উপস্থিতি দলকে কতটা এগিয়ে নিতে পারে?

























