মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৬:০৯ অপরাহ্ন | ৪ঠা নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার, ১৯শে কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে বিজয়ী ভাষণ দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর

  • হালনাগাদ সময় : ০৫:০৪:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেটে যাচ্ছেন আবদুল আল সাইদ। আল সাইদ তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে দুই লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন। সিনেটর নির্বাচিত হয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বিজয়ী ভাষণে আরবিতে আলহামদুলিল্লাহ বলে কৃতজ্ঞতা আদায় করেন তিনি।

মিশিগানের ডেট্রয়েটে নির্বাচনে জয়ের পর বুধবার (৪ নভেম্বর) ভোরে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ‘ইনশাআল্লাহ’ ও ‘আলহামদুলিল্লাহ’র মতো আরবি শব্দ উচ্চারণ করেন এবং আল্লাহকে স্মরণ করেন। তার এই বক্তব্য দ্রুত আলোচনায় আসে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য রাতটি ছিল বড় ধাক্কার। একই রাতে দলটি কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট- উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারায়।

বিজয়ী ভাষণে আল সাইদ আরবিতে ‘ইনশাআল্লাহ’ বলেন, যার অর্থ ‘আল্লাহ চাইলে।’ এ ছাড়া ‘আলহামদুলিল্লাহ’ শব্দটিও ব্যবহার করেন তিনি, যার অর্থ ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।’

জয়ের খবর প্রকাশের পর ডেট্রয়েটে সমর্থকদের সামনে বক্তব্য দেন আল সাইদ। তিনি মিশিগানের ভোটারদের ধন্যবাদ জানান এবং তাদের দেখানো উদারতা, মুক্তচিন্তা, দৃঢ়তা ও আন্তরিকতা নিয়ে সিনেটে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।

তিনি বলেন, ‘মিশিগান, তোমাদের সেবা করার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। নির্বাচনী প্রচারে তোমরা যে উদারতা, মুক্তমন, দৃঢ়তা ও আন্তরিকতা দেখিয়েছ, আমিও সেই মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে চাই।’

প্রতিদ্বন্দ্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তাদের জানিয়ে দিও, খারাপ লোকেরা হেরেছে। আমরা সবাই মিলে বড় একটি লক্ষ্যের জন্য লড়েছি, আর আমরাই জিতেছি।’

আল সাইদ পেশায় একজন চিকিৎসক। তিনি এর আগে কখনো কোনো পদে ছিলেন না। এবার যুক্তরাষ্ট্রে অন্যতম কাদা ছোড়াছুড়ির নির্বাচনী প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তিনি।

তার প্রচারণার শেষ দিনগুলোতে উত্তাপ আরো বেড়ে যায়, যখন তার ডেমোক্র্যাট সহকর্মী হ্যালি স্টিভেন্স, যাকে তিনি দলীয় মনোনয়নের জন্য অল্প ব্যবধানে পরাজিত করেছিলেন, তিনি রিপাবলিকান প্রার্থীর প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেন।

ভোট গণনায় এগিয়ে থাকার একপর্যায়ে নিজের বিজয় দাবি করে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে পরিচালিত প্রচারণা তাদের জীবদ্দশায় দেখা সবচেয়ে কদর্য প্রচারণাগুলোর একটি ছিল। তবে তিনি সমর্থনের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

১৯৮৪ সালে ডেট্রয়েটের উপশহর রচেস্টার হিলসে জন্ম আল সাইদের। তিন বছর বয়সে বাবা-মায়ের বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর বাবা ও সৎ মা জ্যাকুলিন জনসনের কাছে বেড়ে ওঠেন তিনি। বাবা মোহাম্মদ পেশায় প্রকৌশলী।

আবদুল আল সাইদের স্ত্রী সারাহ জুকাকু একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (সাইকিয়াট্রিস্ট)। তিনি নিয়মিত হিজাব পরিধান করেন। তাদের পরিচয় হয় ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে পড়াশোনার সময়। ২০০৬ সালে তারা বিয়ে করেন, তাদের সংসারে দুই মেয়ে রয়েছে।

আল সাইদ মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাবিদ্যায় লেখাপড়া করেন এবং মহামারি বিদ্যায় বিশেষজ্ঞ। ২০১৫ সালে ডেট্রয়েট স্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী পরি

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

আট বছর পর সাফ ফুটবল টুর্নামেন্ট: বাংলাদেশ কি প্রস্তুত?

04 November 2026

সাভারে শ্রমিক বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ: পুড়ল ওসির গাড়ি, আহত অর্ধশতাধিক

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে বিজয়ী ভাষণ দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর

হালনাগাদ সময় : ০৫:০৪:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেটে যাচ্ছেন আবদুল আল সাইদ। আল সাইদ তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে দুই লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন। সিনেটর নির্বাচিত হয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বিজয়ী ভাষণে আরবিতে আলহামদুলিল্লাহ বলে কৃতজ্ঞতা আদায় করেন তিনি।

মিশিগানের ডেট্রয়েটে নির্বাচনে জয়ের পর বুধবার (৪ নভেম্বর) ভোরে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ‘ইনশাআল্লাহ’ ও ‘আলহামদুলিল্লাহ’র মতো আরবি শব্দ উচ্চারণ করেন এবং আল্লাহকে স্মরণ করেন। তার এই বক্তব্য দ্রুত আলোচনায় আসে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য রাতটি ছিল বড় ধাক্কার। একই রাতে দলটি কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট- উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারায়।

বিজয়ী ভাষণে আল সাইদ আরবিতে ‘ইনশাআল্লাহ’ বলেন, যার অর্থ ‘আল্লাহ চাইলে।’ এ ছাড়া ‘আলহামদুলিল্লাহ’ শব্দটিও ব্যবহার করেন তিনি, যার অর্থ ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।’

জয়ের খবর প্রকাশের পর ডেট্রয়েটে সমর্থকদের সামনে বক্তব্য দেন আল সাইদ। তিনি মিশিগানের ভোটারদের ধন্যবাদ জানান এবং তাদের দেখানো উদারতা, মুক্তচিন্তা, দৃঢ়তা ও আন্তরিকতা নিয়ে সিনেটে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।

তিনি বলেন, ‘মিশিগান, তোমাদের সেবা করার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। নির্বাচনী প্রচারে তোমরা যে উদারতা, মুক্তমন, দৃঢ়তা ও আন্তরিকতা দেখিয়েছ, আমিও সেই মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে চাই।’

প্রতিদ্বন্দ্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তাদের জানিয়ে দিও, খারাপ লোকেরা হেরেছে। আমরা সবাই মিলে বড় একটি লক্ষ্যের জন্য লড়েছি, আর আমরাই জিতেছি।’

আল সাইদ পেশায় একজন চিকিৎসক। তিনি এর আগে কখনো কোনো পদে ছিলেন না। এবার যুক্তরাষ্ট্রে অন্যতম কাদা ছোড়াছুড়ির নির্বাচনী প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তিনি।

তার প্রচারণার শেষ দিনগুলোতে উত্তাপ আরো বেড়ে যায়, যখন তার ডেমোক্র্যাট সহকর্মী হ্যালি স্টিভেন্স, যাকে তিনি দলীয় মনোনয়নের জন্য অল্প ব্যবধানে পরাজিত করেছিলেন, তিনি রিপাবলিকান প্রার্থীর প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেন।

ভোট গণনায় এগিয়ে থাকার একপর্যায়ে নিজের বিজয় দাবি করে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে পরিচালিত প্রচারণা তাদের জীবদ্দশায় দেখা সবচেয়ে কদর্য প্রচারণাগুলোর একটি ছিল। তবে তিনি সমর্থনের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

১৯৮৪ সালে ডেট্রয়েটের উপশহর রচেস্টার হিলসে জন্ম আল সাইদের। তিন বছর বয়সে বাবা-মায়ের বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর বাবা ও সৎ মা জ্যাকুলিন জনসনের কাছে বেড়ে ওঠেন তিনি। বাবা মোহাম্মদ পেশায় প্রকৌশলী।

আবদুল আল সাইদের স্ত্রী সারাহ জুকাকু একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (সাইকিয়াট্রিস্ট)। তিনি নিয়মিত হিজাব পরিধান করেন। তাদের পরিচয় হয় ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে পড়াশোনার সময়। ২০০৬ সালে তারা বিয়ে করেন, তাদের সংসারে দুই মেয়ে রয়েছে।

আল সাইদ মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাবিদ্যায় লেখাপড়া করেন এবং মহামারি বিদ্যায় বিশেষজ্ঞ। ২০১৫ সালে ডেট্রয়েট স্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী পরি

Share this news as a Photo Card