হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা অনেকের জন্যই বিরক্তিকর হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় মানুষ ওষুধের বদলে এক কাপ চা বা কফির দিকে ঝুঁকে পড়ে, কারণ প্রথম চুমুকে যে স্বস্তি পাওয়া যায়, তা যেন মুহূর্তেই ব্যথা ভুলিয়ে দেয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—চা বা কফি কি সত্যিই মাথাব্যথা কমায়, নাকি উল্টো তা বাড়িয়ে তোলে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যাফেইন রক্তনালী সংকুচিত করে সাময়িকভাবে স্বস্তি এনে দিতে পারে। এজন্য হালকা মাথাব্যথায় চা বা কফি পান করলে তাৎক্ষণিকভাবে আরাম পাওয়া সম্ভব। তবে দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত ক্যাফেইন গ্রহণ করলে শরীর এতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, এবং একসময় এটি উল্টো মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে যারা নিয়মিত অনেক চা বা কফি পান করেন, তারা একদিন না খেলেই মাথাব্যথা অনুভব করতে পারেন, যা ‘ক্যাফেইন উইথড্রয়াল হেডেক’ নামে পরিচিত।
মাথাব্যথার নানা কারণ থাকতে পারে চাপ, উদ্বেগ, ঘুমের অভাব বা পানিশূন্যতা। যদি মাথাব্যথা ডিহাইড্রেশনের কারণে হয়ে থাকে, তাহলে চা বা কফি খেলে তা আরও বেড়ে যেতে পারে, কারণ ক্যাফেইন শরীর থেকে পানি কমিয়ে দেয়। তাই মাথাব্যথা কমাতে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো পর্যাপ্ত পানি পান করা। এছাড়া আদা চা, গ্রিন টি বা ফলের রসও উপকারী হতে পারে। অল্প পরিমাণে ডার্ক চকলেট খেলে কখনো কখনো উপশম মেলে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দৈনিক ৪০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্যাফেইন, অর্থাৎ প্রায় চার কাপ কফি বা আট কাপ চা নিরাপদ বলে ধরা হয়। তবে যাদের ঘন ঘন মাথাব্যথা বা অস্থিরতা থাকে, তাদের জন্য ক্যাফেইন গ্রহণ সীমিত রাখা ভালো। শরীরের সহনক্ষমতা অনুযায়ী ক্যাফেইনের পরিমাণ ঠিক করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
সংক্ষেপে বলা যায়, চা বা কফি তাৎক্ষণিকভাবে কিছুটা আরাম দিলেও এটি মাথাব্যথার স্থায়ী সমাধান নয়। পর্যাপ্ত পানি পান, সঠিক ঘুম ও মানসিক প্রশান্তিই মাথাব্যথা কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
রিপোর্টারের নাম 

























