আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-২ (নড়াইল সদর একাংশ ও লোহাগড়া) আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম তবে তার মনোনয়ন বাতিল করে আসনটিতে ড.ফরিদুজ্জামান ফরহাদকে মনোনয়ন দেয় দলটি। যার ফলে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মো. মনিরুল ইসলাম।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিনে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল সালাম এর নিকট মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি।
প্রসঙ্গত, মো. মনিরুল ইসলামের মনোনয়ন পুনর্বহালের দাবিতে গত রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) শহরের মালিবাগ মোড়ে মানববন্ধন এর আগে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নড়াইল শহরে মশাল মিছিল করে মনিরুল ইসলামের অনুসারীরা। এছাড়া তিন দিন ধরে নড়াইল জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির সামনে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে বিএনপি নেতাকর্মীদের আমরণ অনশন কর্মসূচি পালিত হয়।
এদিকে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর এক ফেসবুক পোস্টে মনিরুল ইসলাম লিখেছেন, প্রিয় লোহাগড়া ও নড়াইলবাসী, আসসালামু আলাইকুম। আপনারা জানেন, গত ৪ ডিসেম্বর বিএনপির পক্ষ থেকে নড়াইল-২ আসনে আমাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে আমি প্রতিটি দিন আপনাদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছি, ধানের শীষের জন্য ভোট ও দোয়া চেয়েছি। নড়াইল-২ আসনের ইতিহাসে এই প্রথম আমি গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে নড়াইল জেলা, দুই পৌরসভা এবং ২০টি ইউনিয়নের উন্নয়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ও বিশদ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করি।
আমি বিশ্বাস করি, আগামীর নড়াইল হবে ‘সমৃদ্ধ ও প্রযুক্তি নির্ভর’। তাই অফলাইন ও অনলাইনের মাধ্যমে ভোটারদের মতামত নিয়েছি। এমনকি সফ্টওয়্যার কোম্পানির সহায়তায় নড়াইলের নাগরিকদের জন্য একটি ‘সুপার অ্যাপ’ তৈরি করেছি, যার মাধ্যমে ঘরে বসেই এক অ্যাপে সব নাগরিক সেবা পাওয়া সম্ভব হতো। বিগত একমাসে আপনাদের কাছ থেকে যে অভাবনীয় সাড়া পেয়েছি, তা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন।
কিন্তু গত ২৪ ডিসেম্বর আকস্মিকভাবে মনোনয়ন পরিবর্তনের ফলে নড়াইল ও লোহাগড়ার মানুষের সেই স্বপ্নযাত্রায় ছন্দপতন ঘটে। দলের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও আনুগত্য বজায় রেখে, আমি দেশনায়ক তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কর্মসূচি সফল করতে নড়াইল থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী নিয়ে ঢাকায় গিয়েছিলাম। দলের সিদ্ধান্ত মেনে আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতেই চেয়েছিলাম। কিন্তু ফিরে এসে দেখলাম এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। হাজার হাজার নেতাকর্মী রাস্তায় নেমে এসেছেন। প্রতিবাদ মিছিল, সমাবেশ, মানববন্ধন, মশাল মিছিল এবং সড়ক অবরোধ করে তাঁরা আমাকে চাইলেন। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো- আমার মনোনয়ন ফেরতের দাবিতে দলীয় কার্যালয়ের সামনে ও শহীদ মিনারে শত শত নেতাকর্মী, এমনকি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও মায়েরা, বোনেরা পর্যন্ত আমরণ অনশন শুরু করলেন।
রিপোর্টারের নাম 

























