ঢাকা ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে জানুন: খাঁটি গোলমরিচ চেনার সহজ উপায়

রান্নার স্বাদ ও ঝাঁঝ বাড়াতে ব্যবহৃত অপরিহার্য মসলার মধ্যে গোলমরিচ অন্যতম। এটি কেবল খাবারের রুচি বাড়ায় না, একইসঙ্গে শরীরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা এনে দেয়। তবে বর্তমানে বাজারজাত অনেক খাদ্যদ্রব্যের মতো গোলমরিচেও ভেজাল মেশানো হচ্ছে। ফলে না পাওয়া যাচ্ছে আসল স্বাদ, না মিলছে স্বাস্থ্যগত সুবিধা। উল্টো এই ভেজাল খাবার দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

অসাধু ব্যবসায়ীরা গোলমরিচের সঙ্গে পেঁপের বীজ, বেরির দানা ইত্যাদি মিশিয়ে বিক্রি করছে। পেঁপের বীজ ওজনে হালকা হওয়ায় এবং দাম কম হওয়ায় এটি গোলমরিচের প্রধান ভেজাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে একজন ক্রেতা কীভাবে বুঝবেন তার কেনা গোলমরিচ খাঁটি না ভেজাল? এখানে সহজ কয়েকটি পরীক্ষা দেওয়া হলো, যার মাধ্যমে আসল গোলমরিচ চেনা সম্ভব।

### খাঁটি গোলমরিচ চেনার ৪টি সহজ উপায়

**১. পানির পরীক্ষা**
খাঁটি গোলমরিচ চেনার এটি প্রাথমিক এবং সহজ উপায়। একটি গ্লাসে পানি নিয়ে তাতে এক চামচ গোলমরিচ মেশান।
* **ফলাফল:** যদি গোলমরিচের দানা ওপরে ভেসে ওঠে, তবে বুঝতে হবে এতে ভেজাল মেশানো আছে। পেঁপের বীজ ওজনে অত্যন্ত হালকা হওয়ার কারণে সেগুলো পানিতে ভেসে ওঠে।
* **সতর্কতা:** খাঁটি গোলমরিচ ভারী হওয়ায় তা সরাসরি পানিতে ডুবে যাবে। তবে অনেক সময় বাতাস আটকে থাকার কারণে কিছু খাঁটি গোলমরিচও হালকা ভেসে থাকতে পারে।

**২. গঠন ও ঘনত্ব পরীক্ষা**
আসল গোলমরিচ অত্যন্ত শক্ত এবং ভারী হয়। দু’আঙুল দিয়ে হালকা চাপ দিলে তা ভাঙা সম্ভব নয়। খাঁটি গোলমরিচ গুঁড়ো করার জন্য শিলপাটা বা গ্রাইন্ডারের মতো যন্ত্রের মাধ্যমে অনেক বেশি চাপ প্রয়োগের প্রয়োজন হয়।
* **ফলাফল:** যদি গোলমরিচ হাতে নিয়ে হালকা চাপেই ভেঙে যায় বা নরম মনে হয়, তাহলে বুঝতে হবে তাতে ভেজাল রয়েছে। ভেজাল মিশ্রিত দানাগুলো সাধারণত নরম হয়।

**৩. গন্ধ শুঁকে যাচাই**
গোলমরিচের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর কড়া ঝাঁঝালো গন্ধ। কয়েকটি গোলমরিচ হাতে নিয়ে ভালো করে ঘষে নিন। এরপর শুঁকলেই গোলমরিচের তীব্র ঝাঁজ অনুভব করা যাবে।
* **ফলাফল:** ঝাঁজ যদি কড়া হয়, তবে গোলমরিচ খাঁটি। আর যদি মসলাটির গন্ধ হালকা হয় বা ঝাঁঝ দুর্বল অনুভূত হয়, তাহলে বুঝতে হবে সেটি নকল বা ভেজাল মিশ্রিত।

**৪. রঙের পরীক্ষা**
অনেক অসাধু ব্যবসায়ী পেঁপের দানাকে পালিশ করে বা রং করে গোলমরিচের রূপ দেন। এই ভেজাল চেনার উপায়ও খুব সহজ।
* **ফলাফল:** কয়েকটি গোলমরিচ হাতে নিয়ে ভালো করে ঘষে নিন। যদি হাতে রং লেগে যায়, তাহলে বুঝবেন সেটি ভেজাল। খাঁটি গোলমরিচ হাতে ঘষলে শুধুমাত্র এর ঝাঁজালো তেল বেরোবে, কিন্তু কোনো রং উঠবে না। এছাড়া আসল গোলমরিচ সাধারণত খুব বেশি রংচঙে হয় না। দেখেও অনেক সময় খাঁটি ও নকল গোলমরিচের পার্থক্য বোঝা সম্ভব।

এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করে ক্রেতারা সহজেই ভেজাল গোলমরিচ চিহ্নিত করতে পারবেন এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে পারবেন।
এনএম

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ: সালমান ও আনিসুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ আজ

স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে জানুন: খাঁটি গোলমরিচ চেনার সহজ উপায়

আপডেট সময় : ০৩:১৫:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

রান্নার স্বাদ ও ঝাঁঝ বাড়াতে ব্যবহৃত অপরিহার্য মসলার মধ্যে গোলমরিচ অন্যতম। এটি কেবল খাবারের রুচি বাড়ায় না, একইসঙ্গে শরীরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা এনে দেয়। তবে বর্তমানে বাজারজাত অনেক খাদ্যদ্রব্যের মতো গোলমরিচেও ভেজাল মেশানো হচ্ছে। ফলে না পাওয়া যাচ্ছে আসল স্বাদ, না মিলছে স্বাস্থ্যগত সুবিধা। উল্টো এই ভেজাল খাবার দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

অসাধু ব্যবসায়ীরা গোলমরিচের সঙ্গে পেঁপের বীজ, বেরির দানা ইত্যাদি মিশিয়ে বিক্রি করছে। পেঁপের বীজ ওজনে হালকা হওয়ায় এবং দাম কম হওয়ায় এটি গোলমরিচের প্রধান ভেজাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে একজন ক্রেতা কীভাবে বুঝবেন তার কেনা গোলমরিচ খাঁটি না ভেজাল? এখানে সহজ কয়েকটি পরীক্ষা দেওয়া হলো, যার মাধ্যমে আসল গোলমরিচ চেনা সম্ভব।

### খাঁটি গোলমরিচ চেনার ৪টি সহজ উপায়

**১. পানির পরীক্ষা**
খাঁটি গোলমরিচ চেনার এটি প্রাথমিক এবং সহজ উপায়। একটি গ্লাসে পানি নিয়ে তাতে এক চামচ গোলমরিচ মেশান।
* **ফলাফল:** যদি গোলমরিচের দানা ওপরে ভেসে ওঠে, তবে বুঝতে হবে এতে ভেজাল মেশানো আছে। পেঁপের বীজ ওজনে অত্যন্ত হালকা হওয়ার কারণে সেগুলো পানিতে ভেসে ওঠে।
* **সতর্কতা:** খাঁটি গোলমরিচ ভারী হওয়ায় তা সরাসরি পানিতে ডুবে যাবে। তবে অনেক সময় বাতাস আটকে থাকার কারণে কিছু খাঁটি গোলমরিচও হালকা ভেসে থাকতে পারে।

**২. গঠন ও ঘনত্ব পরীক্ষা**
আসল গোলমরিচ অত্যন্ত শক্ত এবং ভারী হয়। দু’আঙুল দিয়ে হালকা চাপ দিলে তা ভাঙা সম্ভব নয়। খাঁটি গোলমরিচ গুঁড়ো করার জন্য শিলপাটা বা গ্রাইন্ডারের মতো যন্ত্রের মাধ্যমে অনেক বেশি চাপ প্রয়োগের প্রয়োজন হয়।
* **ফলাফল:** যদি গোলমরিচ হাতে নিয়ে হালকা চাপেই ভেঙে যায় বা নরম মনে হয়, তাহলে বুঝতে হবে তাতে ভেজাল রয়েছে। ভেজাল মিশ্রিত দানাগুলো সাধারণত নরম হয়।

**৩. গন্ধ শুঁকে যাচাই**
গোলমরিচের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর কড়া ঝাঁঝালো গন্ধ। কয়েকটি গোলমরিচ হাতে নিয়ে ভালো করে ঘষে নিন। এরপর শুঁকলেই গোলমরিচের তীব্র ঝাঁজ অনুভব করা যাবে।
* **ফলাফল:** ঝাঁজ যদি কড়া হয়, তবে গোলমরিচ খাঁটি। আর যদি মসলাটির গন্ধ হালকা হয় বা ঝাঁঝ দুর্বল অনুভূত হয়, তাহলে বুঝতে হবে সেটি নকল বা ভেজাল মিশ্রিত।

**৪. রঙের পরীক্ষা**
অনেক অসাধু ব্যবসায়ী পেঁপের দানাকে পালিশ করে বা রং করে গোলমরিচের রূপ দেন। এই ভেজাল চেনার উপায়ও খুব সহজ।
* **ফলাফল:** কয়েকটি গোলমরিচ হাতে নিয়ে ভালো করে ঘষে নিন। যদি হাতে রং লেগে যায়, তাহলে বুঝবেন সেটি ভেজাল। খাঁটি গোলমরিচ হাতে ঘষলে শুধুমাত্র এর ঝাঁজালো তেল বেরোবে, কিন্তু কোনো রং উঠবে না। এছাড়া আসল গোলমরিচ সাধারণত খুব বেশি রংচঙে হয় না। দেখেও অনেক সময় খাঁটি ও নকল গোলমরিচের পার্থক্য বোঝা সম্ভব।

এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করে ক্রেতারা সহজেই ভেজাল গোলমরিচ চিহ্নিত করতে পারবেন এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে পারবেন।
এনএম