ঢাকা ০২:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিন ২ থেকে ২.৫ কোটি টাকার চাঁদাবাজি: উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২৪:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৩৫ বার পড়া হয়েছে

শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার চাঁদাবাজি সংঘটিত হয়। সোমবার সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক বছরের অর্জন ও সাফল্য নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি সংক্রান্ত হাইকোর্টের বিভক্ত রায় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, যারা এই রায় নিয়ে আলোচনা করছেন, তারা সম্ভবত নতুন বেঞ্চে যাবেন বা প্রধান বিচারপতির শরণাপন্ন হবেন।

তিনি রায়ের বিরুদ্ধে কোনো মন্তব্য না করে বন্দরের অবৈধ টাকা উত্তোলনের বিষয়টি তুলে ধরেন। এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দুনিয়াতে ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ হয়েছে, বন্দরে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, গণমাধ্যমে এগুলি এলেও কখনো কেউ জানতে চান না যে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রতিদিন কত অবৈধ টাকা ওঠে? তিনি স্বীকার করেন, একটি আনুমানিক সংখ্যা দিলে হয়তো বিতর্ক হবে, কিন্তু এই চাঁদাবাজি প্রায় প্রতিটি স্তরে বিদ্যমান। ভেতরে ট্রাক দিনের পর দিন দাঁড় করানো থাকে, যা দাঁড়ানোর জায়গা নয়, আর তার জন্য কেউ না কেউ চাঁদা নেয়। এসব ট্রাক বাইরে বের করে দেওয়ার পরও সেখানেও চাঁদাবাজি হয়।

অতীতে যিনি চট্টগ্রামের মেয়র হন, তিনি মেয়র কম বন্দরের রক্ষক বেশি, এমন মন্তব্য করে এম সাখাওয়াত হোসেন চট্টগ্রাম বন্দরকে ‘সোনার ডিম পাড়া মুরগি’-র সঙ্গে তুলনা করেন, যাকে দ্রুত জবাই করে সব খেয়ে ফেলার প্রবণতা ছিল।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এক সময় আশঙ্কা করা হয়েছিল বন্দরের পুরোনো নেতৃত্ব চলে গেলে কার্যক্রম ‘ডাউন’ হয়ে যাবে। তিনি নিজেও ভয় পেয়েছিলেন। তবে এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। তিনি বলেন, “এখন তো ফাস্ট, বন্দরে যেখানে দিনের পর দিন লাগত সেখানে একদিন, দেড় দিন এবং তারও কম সময় লাগছে।”

উপদেষ্টা ব্যবসায়ীদের সাথে তার আলোচনার প্রসঙ্গে বলেন, যারা তার সঙ্গে দেখা করেছেন, তাদের শতভাগই এই পরিবর্তনের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, বন্দরের এই উন্নতি হঠাৎ করে আসেনি, এটি আগের পরিকল্পনার ফল।

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রতিদিন আনুমানিক কত টাকা অবৈধভাবে আসে—জানতে চাইলে উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, আনুমানিক দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা, এবং বন্দরে খোঁজ নিলে হয়তো আরও বেশি জানা যাবে। এত বড় অঙ্কের টাকা আদায় বন্ধ করতে পেরেছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, চাঁদাবাজির পরিমাণ ‘অনেক কমেছে’।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার জন্য বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি-সম্পর্কিত প্রক্রিয়ার রিট আবেদনের ওপর গত ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ বিভক্ত রায় দেন। জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা নজীব চুক্তি-সম্পর্কিত প্রক্রিয়াকে অবৈধ ঘোষণা করেন, অন্যদিকে বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রিট আবেদন খারিজ করে ভিন্নমত পোষণ করেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

মিয়ানমারে সু চির সাবেক আসনে জয়ী জান্তা সমর্থিত দল ইউএসডিপি

চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিন ২ থেকে ২.৫ কোটি টাকার চাঁদাবাজি: উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন

আপডেট সময় : ০২:২৪:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার চাঁদাবাজি সংঘটিত হয়। সোমবার সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক বছরের অর্জন ও সাফল্য নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি সংক্রান্ত হাইকোর্টের বিভক্ত রায় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, যারা এই রায় নিয়ে আলোচনা করছেন, তারা সম্ভবত নতুন বেঞ্চে যাবেন বা প্রধান বিচারপতির শরণাপন্ন হবেন।

তিনি রায়ের বিরুদ্ধে কোনো মন্তব্য না করে বন্দরের অবৈধ টাকা উত্তোলনের বিষয়টি তুলে ধরেন। এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দুনিয়াতে ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ হয়েছে, বন্দরে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, গণমাধ্যমে এগুলি এলেও কখনো কেউ জানতে চান না যে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রতিদিন কত অবৈধ টাকা ওঠে? তিনি স্বীকার করেন, একটি আনুমানিক সংখ্যা দিলে হয়তো বিতর্ক হবে, কিন্তু এই চাঁদাবাজি প্রায় প্রতিটি স্তরে বিদ্যমান। ভেতরে ট্রাক দিনের পর দিন দাঁড় করানো থাকে, যা দাঁড়ানোর জায়গা নয়, আর তার জন্য কেউ না কেউ চাঁদা নেয়। এসব ট্রাক বাইরে বের করে দেওয়ার পরও সেখানেও চাঁদাবাজি হয়।

অতীতে যিনি চট্টগ্রামের মেয়র হন, তিনি মেয়র কম বন্দরের রক্ষক বেশি, এমন মন্তব্য করে এম সাখাওয়াত হোসেন চট্টগ্রাম বন্দরকে ‘সোনার ডিম পাড়া মুরগি’-র সঙ্গে তুলনা করেন, যাকে দ্রুত জবাই করে সব খেয়ে ফেলার প্রবণতা ছিল।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এক সময় আশঙ্কা করা হয়েছিল বন্দরের পুরোনো নেতৃত্ব চলে গেলে কার্যক্রম ‘ডাউন’ হয়ে যাবে। তিনি নিজেও ভয় পেয়েছিলেন। তবে এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। তিনি বলেন, “এখন তো ফাস্ট, বন্দরে যেখানে দিনের পর দিন লাগত সেখানে একদিন, দেড় দিন এবং তারও কম সময় লাগছে।”

উপদেষ্টা ব্যবসায়ীদের সাথে তার আলোচনার প্রসঙ্গে বলেন, যারা তার সঙ্গে দেখা করেছেন, তাদের শতভাগই এই পরিবর্তনের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, বন্দরের এই উন্নতি হঠাৎ করে আসেনি, এটি আগের পরিকল্পনার ফল।

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রতিদিন আনুমানিক কত টাকা অবৈধভাবে আসে—জানতে চাইলে উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, আনুমানিক দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা, এবং বন্দরে খোঁজ নিলে হয়তো আরও বেশি জানা যাবে। এত বড় অঙ্কের টাকা আদায় বন্ধ করতে পেরেছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, চাঁদাবাজির পরিমাণ ‘অনেক কমেছে’।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার জন্য বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি-সম্পর্কিত প্রক্রিয়ার রিট আবেদনের ওপর গত ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ বিভক্ত রায় দেন। জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা নজীব চুক্তি-সম্পর্কিত প্রক্রিয়াকে অবৈধ ঘোষণা করেন, অন্যদিকে বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রিট আবেদন খারিজ করে ভিন্নমত পোষণ করেন।