ঢাকা ০৬:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

পর্যটন মৌসুম শুরু: কক্সবাজার ও সুন্দরবনের চাহিদা বৃদ্ধি, যোগাযোগ সংকটে কমছে সিলেটে

বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে শীতকালীন পর্যটন মৌসুম শুরু হয়েছে, যা সাধারণত ভ্রমণ ও অবকাশের জন্য সবচেয়ে বেশি আকাঙ্ক্ষিত সময়। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বরাবরের মতো এবারও পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ কক্সবাজার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল। তবে নতুন করে সুন্দরবনের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অন্যদিকে, যাতায়াতের দুর্ভোগ এবং ভ্রমণসংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে সেন্ট মার্টিন ও সিলেটে ভ্রমণের আগ্রহ কিছুটা কমেছে। গত বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রভাব কাটিয়ে এবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় পর্যটন ব্যবসায়ীরা ভালো ব্যবসার আশা করছেন।


🏝️ পর্যটকদের আকৃষ্ট করার উদ্যোগ ও ছাড়

পর্যটক টানতে হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলো এই মৌসুমে বিভিন্ন ধরনের মূল্যছাড় ও সুবিধা দিচ্ছে। বিদেশী পর্যটকদের জন্যেও ট্যুর অপারেটররা বিশেষ প্যাকেজের ব্যবস্থা করছেন।

  • সিলেট ও শ্রীমঙ্গল: এখানকার রিসোর্টগুলো ছুটির দিন ও কার্যদিবস বিবেচনা করে ২০ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে। শ্রীমঙ্গলের বালিশিরা রিসোর্ট ও নভেম ইকো রিসোর্ট ২০ থেকে ৩০ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে, আর গ্র্যান্ড সুলতান তাদের ওয়েবসাইটে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের উল্লেখ করেছে। প্রায় ২০০টি হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট শ্রীমঙ্গলে হানিমুনসহ বিভিন্ন প্যাকেজে ছাড় দিচ্ছে।
  • সাজেক: রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার এই জনপ্রিয় গন্তব্যের অধিকাংশ রিসোর্ট ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় দিচ্ছে। মেঘকাব্য হিলটপ কটেজ, মেঘপল্লী ও ডিমোর সাজেক ভ্যালি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের মতো স্থানগুলো এই সুবিধা দিচ্ছে।
  • বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনও তাদের সেবায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় ঘোষণা করেছে।

🏖️ কক্সবাজার ও সেন্ট মার্টিন পরিস্থিতি

দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার ও সেন্ট মার্টিনে এবার ভিন্ন পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। গত নয় মাস সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকার পর ১ নভেম্বর সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে অনুমতি দেওয়া হলেও এই মাসে পর্যটকেরা শুধু দিনের বেলায় সেখানে থাকতে পারবেন। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাত্রিযাপনের সুযোগ মিললেও সেখানে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজারের বেশি পর্যটকের প্রবেশের সুযোগ থাকবে না, এবং এরপরেই আবার নয় মাসের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। ফলে সেন্ট মার্টিনে হোটেল ও রিসোর্টের ভাড়া এবার বেশি থাকবে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

কক্সবাজারে প্রায় ৪৫০টি হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। পর্যটক টানতে এখানে ২০ থেকে ৪০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। তবে ডিসেম্বরে পর্যটকের ভিড় বাড়লে এই ছাড়ের পরিমাণ কমতে পারে। কক্সবাজার হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান জানান, সেন্ট মার্টিনে যাতায়াত সীমিত থাকায় এবার কক্সবাজারের ওপর পর্যটকদের চাপ বেশি পড়ার সম্ভাবনা আছে।


🛣️ যোগাযোগ সংকটে সিলেটে কমছে পর্যটক

সিলেটে শীত ও বর্ষা উভয় মৌসুমেই পর্যটকের আনাগোনা বেশি থাকলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। স্থানীয় হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সংস্কার কাজের কারণে সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট লেগে থাকে, ফলে গন্তব্যে পৌঁছাতে ৪-৬ ঘণ্টার বদলে ১৬-১৮ ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। এছাড়া স্থানীয় সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের খারাপ দশার কারণে জাফলং ও জৈন্তাপুরে যেতেও দুর্ভোগ হচ্ছে। অন্যদিকে, সিলেট রুটে বিমান ভাড়া অত্যাধিক এবং ট্রেনের টিকিটও সহজে পাওয়া যায় না। এসব কারণে সিলেটে পর্যটকের সংখ্যা কমছে। সিলেটের হোটেল অ্যান্ড গেস্টহাউস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি না হলে চলতি মৌসুমে সিলেটে পর্যটন ব্যবসায় ধস নামতে পারে।


🐅 সুন্দরবন ও হাউসবোট জনপ্রিয়তা

এবার পর্যটকদের কাছে নতুন গন্তব্য হিসেবে সুন্দরবনের প্রতি বাড়তি আকর্ষণ দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৬০টি ক্রুজ বা জাহাজে করে সুন্দরবন ভ্রমণের ব্যবস্থা রয়েছে। দুই রাত ও তিন দিনের প্যাকেজ ভ্রমণে খরচ পড়ে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা। সি পার্ল বিচ রিসোর্ট ও স্পা লিমিটেডের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা এ কে এম আসাদুর রহমান জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে তাদের ক্রুজগুলোতে ডিসেম্বর মাসের ৯০ শতাংশ বুকিং হয়ে গেছে।

এছাড়াও হাউসবোটকেন্দ্রিক পর্যটনও জনপ্রিয় হচ্ছে। দেশে প্রায় ৩০০টি হাউসবোটের মধ্যে আড়াই শ’র বেশি টাঙ্গুয়ার হাওরে চলে। হাউসবোটে চড়ে টাঙ্গুয়ার হাওরে জনপ্রতি ৪ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা, কাপ্তাই হ্রদে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা এবং পদ্মা নদীতে দেড় হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা খরচ হয়।


📉 বিদেশি পর্যটকে ভাটা ও নির্বাচনের শঙ্কা

দেশে বিদেশী পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করার ক্ষেত্রে অন্যতম বড় বাধা হলো তাদের ভ্রমণের মোট অর্থের ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়, পাশাপাশি দেশে ভালো গাইডের স্বল্পতা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে ভ্রমণে নানা বিধিনিষেধ রয়েছে। বিদেশি পর্যটক নিয়ে কাজ করা রয়েল বেঙ্গল ট্যুরসের মুনাফা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১১ লাখ টাকা থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭ লাখ টাকায় নেমে এসেছে। স্বত্বাধিকারী মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, বিদেশী পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সবচেয়ে জরুরি।

ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, আগামী সাধারণ নির্বাচন (২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে) ঘিরে অনেক প্রবাসী ও বিদেশী দেশে আসবেন, যারা স্বাভাবিকভাবে বিভিন্ন স্থানে ঘুরতেও যাবেন, ফলে হোটেল-মোটেলগুলোর ব্যবসা বাড়বে। তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা নিয়েও তাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা রয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

বিপিএল মহারণ: আজ সিলেট-রংপুর, ঢাকা-রাজশাহী; টিভিতে কখন দেখবেন?

পর্যটন মৌসুম শুরু: কক্সবাজার ও সুন্দরবনের চাহিদা বৃদ্ধি, যোগাযোগ সংকটে কমছে সিলেটে

আপডেট সময় : ০৫:০২:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে শীতকালীন পর্যটন মৌসুম শুরু হয়েছে, যা সাধারণত ভ্রমণ ও অবকাশের জন্য সবচেয়ে বেশি আকাঙ্ক্ষিত সময়। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বরাবরের মতো এবারও পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ কক্সবাজার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল। তবে নতুন করে সুন্দরবনের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অন্যদিকে, যাতায়াতের দুর্ভোগ এবং ভ্রমণসংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে সেন্ট মার্টিন ও সিলেটে ভ্রমণের আগ্রহ কিছুটা কমেছে। গত বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রভাব কাটিয়ে এবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় পর্যটন ব্যবসায়ীরা ভালো ব্যবসার আশা করছেন।


🏝️ পর্যটকদের আকৃষ্ট করার উদ্যোগ ও ছাড়

পর্যটক টানতে হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলো এই মৌসুমে বিভিন্ন ধরনের মূল্যছাড় ও সুবিধা দিচ্ছে। বিদেশী পর্যটকদের জন্যেও ট্যুর অপারেটররা বিশেষ প্যাকেজের ব্যবস্থা করছেন।

  • সিলেট ও শ্রীমঙ্গল: এখানকার রিসোর্টগুলো ছুটির দিন ও কার্যদিবস বিবেচনা করে ২০ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে। শ্রীমঙ্গলের বালিশিরা রিসোর্ট ও নভেম ইকো রিসোর্ট ২০ থেকে ৩০ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে, আর গ্র্যান্ড সুলতান তাদের ওয়েবসাইটে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের উল্লেখ করেছে। প্রায় ২০০টি হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট শ্রীমঙ্গলে হানিমুনসহ বিভিন্ন প্যাকেজে ছাড় দিচ্ছে।
  • সাজেক: রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার এই জনপ্রিয় গন্তব্যের অধিকাংশ রিসোর্ট ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় দিচ্ছে। মেঘকাব্য হিলটপ কটেজ, মেঘপল্লী ও ডিমোর সাজেক ভ্যালি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের মতো স্থানগুলো এই সুবিধা দিচ্ছে।
  • বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনও তাদের সেবায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় ঘোষণা করেছে।

🏖️ কক্সবাজার ও সেন্ট মার্টিন পরিস্থিতি

দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার ও সেন্ট মার্টিনে এবার ভিন্ন পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। গত নয় মাস সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকার পর ১ নভেম্বর সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে অনুমতি দেওয়া হলেও এই মাসে পর্যটকেরা শুধু দিনের বেলায় সেখানে থাকতে পারবেন। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাত্রিযাপনের সুযোগ মিললেও সেখানে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজারের বেশি পর্যটকের প্রবেশের সুযোগ থাকবে না, এবং এরপরেই আবার নয় মাসের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। ফলে সেন্ট মার্টিনে হোটেল ও রিসোর্টের ভাড়া এবার বেশি থাকবে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

কক্সবাজারে প্রায় ৪৫০টি হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। পর্যটক টানতে এখানে ২০ থেকে ৪০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। তবে ডিসেম্বরে পর্যটকের ভিড় বাড়লে এই ছাড়ের পরিমাণ কমতে পারে। কক্সবাজার হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান জানান, সেন্ট মার্টিনে যাতায়াত সীমিত থাকায় এবার কক্সবাজারের ওপর পর্যটকদের চাপ বেশি পড়ার সম্ভাবনা আছে।


🛣️ যোগাযোগ সংকটে সিলেটে কমছে পর্যটক

সিলেটে শীত ও বর্ষা উভয় মৌসুমেই পর্যটকের আনাগোনা বেশি থাকলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। স্থানীয় হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সংস্কার কাজের কারণে সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট লেগে থাকে, ফলে গন্তব্যে পৌঁছাতে ৪-৬ ঘণ্টার বদলে ১৬-১৮ ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। এছাড়া স্থানীয় সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের খারাপ দশার কারণে জাফলং ও জৈন্তাপুরে যেতেও দুর্ভোগ হচ্ছে। অন্যদিকে, সিলেট রুটে বিমান ভাড়া অত্যাধিক এবং ট্রেনের টিকিটও সহজে পাওয়া যায় না। এসব কারণে সিলেটে পর্যটকের সংখ্যা কমছে। সিলেটের হোটেল অ্যান্ড গেস্টহাউস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি না হলে চলতি মৌসুমে সিলেটে পর্যটন ব্যবসায় ধস নামতে পারে।


🐅 সুন্দরবন ও হাউসবোট জনপ্রিয়তা

এবার পর্যটকদের কাছে নতুন গন্তব্য হিসেবে সুন্দরবনের প্রতি বাড়তি আকর্ষণ দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৬০টি ক্রুজ বা জাহাজে করে সুন্দরবন ভ্রমণের ব্যবস্থা রয়েছে। দুই রাত ও তিন দিনের প্যাকেজ ভ্রমণে খরচ পড়ে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা। সি পার্ল বিচ রিসোর্ট ও স্পা লিমিটেডের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা এ কে এম আসাদুর রহমান জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে তাদের ক্রুজগুলোতে ডিসেম্বর মাসের ৯০ শতাংশ বুকিং হয়ে গেছে।

এছাড়াও হাউসবোটকেন্দ্রিক পর্যটনও জনপ্রিয় হচ্ছে। দেশে প্রায় ৩০০টি হাউসবোটের মধ্যে আড়াই শ’র বেশি টাঙ্গুয়ার হাওরে চলে। হাউসবোটে চড়ে টাঙ্গুয়ার হাওরে জনপ্রতি ৪ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা, কাপ্তাই হ্রদে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা এবং পদ্মা নদীতে দেড় হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা খরচ হয়।


📉 বিদেশি পর্যটকে ভাটা ও নির্বাচনের শঙ্কা

দেশে বিদেশী পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করার ক্ষেত্রে অন্যতম বড় বাধা হলো তাদের ভ্রমণের মোট অর্থের ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়, পাশাপাশি দেশে ভালো গাইডের স্বল্পতা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে ভ্রমণে নানা বিধিনিষেধ রয়েছে। বিদেশি পর্যটক নিয়ে কাজ করা রয়েল বেঙ্গল ট্যুরসের মুনাফা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১১ লাখ টাকা থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭ লাখ টাকায় নেমে এসেছে। স্বত্বাধিকারী মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, বিদেশী পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সবচেয়ে জরুরি।

ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, আগামী সাধারণ নির্বাচন (২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে) ঘিরে অনেক প্রবাসী ও বিদেশী দেশে আসবেন, যারা স্বাভাবিকভাবে বিভিন্ন স্থানে ঘুরতেও যাবেন, ফলে হোটেল-মোটেলগুলোর ব্যবসা বাড়বে। তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা নিয়েও তাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা রয়েছে।