যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট মায়ার্স শহরে নিলুফার ইয়াসমিন নামে এক বাংলাদেশি নারীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মার্কিন রাজনীতিতে তীব্র উত্তজনা সৃষ্টি হয়েছে। গত ২ এপ্রিল একটি গ্যাস স্টেশনে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত রোলবার্ট জোয়াচিনকে পুলিশ দ্রুত গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে বাকযুদ্ধ। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হত্যাকাণ্ডের কঠোর নিন্দা জানান এবং এর জন্য জো বাইডেন প্রশাসনের অভিবাসন নীতিকে দায়ী করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, অভিযুক্ত জোয়াচিন হাইতি থেকে আসা একজন অবৈধ অভিবাসী, যাকে বাইডেন প্রশাসনের ‘উদার’ নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
ট্রাম্প তার পোস্টে এই হত্যাকাণ্ডকে বাইডেন প্রশাসনের ব্যর্থতার এক চরম উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, ‘টেম্পোরারি প্রোটেক্টিভ স্ট্যাটাস’ (TPS) নামক একটি কর্মসূচির অপব্যবহার করে বর্তমান প্রশাসন যাচাই-বাছাই ছাড়াই সারা বিশ্বের অপরাধী ও মানসিকভাবে বিকৃত মানুষদের দেশে প্রবেশের সুযোগ করে দিচ্ছে। ট্রাম্পের মতে, ডেমোক্র্যাটরা আমেরিকাকে একটি ‘ময়লার ভাগাড়ে’ পরিণত করেছে এবং তার প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নে বিচার বিভাগ বারবার বাধা দিচ্ছে। তিনি আরও সতর্ক করেন যে, এই ধরনের অপরাধীদের দেশে থাকতে দেওয়া হলে আমেরিকানদের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। যদিও ট্রাম্প তার পোস্টে নিহত নিলুফার ইয়াসমিনের নাম বা তার বাংলাদেশি পরিচয়ের কথা উল্লেখ করেননি, তবে তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য প্রার্থনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের এই কড়া অবস্থান মূলত আসন্ন মিডটার্ম ইলেকশন বা মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে রিপাবলিকানদের জন্য যে প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা থেকে ভোটারদের মনোযোগ অভিবাসন সংকটের দিকে ঘুরিয়ে দিতেই ট্রাম্প এই ইস্যুটি বেছে নিয়েছেন। তিনি ভিডিওটি অত্যন্ত ভয়াবহ উল্লেখ করে বলেন, ডেমোক্র্যাটরা আসলে কাদের সুরক্ষা দিচ্ছে তা দেশের মানুষকে দেখানোর জন্যই তিনি এটি প্রকাশ করেছেন। এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে এবং তারা দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছেন।
রিপোর্টারের নাম 





















