ঢাকা ০৮:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

সার সংকটে ভারতে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা

ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের কৃষক গুরবিন্দর সিং এক অভূতপূর্ব উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ তার নিজের শহরের শান্ত পরিবেশকেও অস্থির করে তুলেছে। ভারতের শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত পাঞ্জাবে, যেখানে গুরবিন্দর মূলত গম ও ধানের চাষ করেন, সেখানে তিনি এখন তার আসন্ন ধানের ফলন নিয়ে চিন্তিত। হাজার হাজার মাইল দূরে চলমান একটি যুদ্ধ তার জীবনযাত্রাকে পঙ্গু করে দিচ্ছে, কারণ তিনি আশঙ্কা করছেন সময়মতো এবং ন্যায্য মূল্যে সার না পেলে তার ফসলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব কেবল জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং কৃষি খাতেও এর ঢেউ লেগেছে। গুরবিন্দর জানান, ইতিমধ্যেই উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় মুনাফা নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর উপর যদি সার পেতে সমস্যা হয়, তবে ফলন কম হবে। এর প্রভাব কেবল তার নিজের পরিবারের উপরই পড়বে না, বরং পুরো অঞ্চলের উপর পড়বে, কারণ এখানকার সবাই কৃষির উপর নির্ভরশীল। তাই তিনি যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে কৃষি খাতকে বাঁচানো যায়।

প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাত বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা-ইসরাইল যৌথ হামলার পর ইরানও পাল্টা জবাব দিয়েছে। তেহরান প্রতিশোধ হিসেবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। তাদের এই সিদ্ধান্তে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে তেল ও গ্যাস আমদানিকারক দেশগুলো চরম বিপাকে পড়ে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।

ভারত সরকার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০২৩-২৪ সালে সার ভর্তুকিতে ১.৮ ট্রিলিয়ন রুপির (২২ বিলিয়ন ডলার) বেশি ব্যয় করেছে। এটি কৃষিখাতে সারের গুরুত্ব এবং বিশ্বব্যাপী মূল্যবৃদ্ধির প্রতি কৃষি খাতের সংবেদনশীলতাকে তুলে ধরে। কৃষি অর্থনীতিবিদ দেবিন্দর শর্মা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে যুদ্ধের কারণে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং খরচ বৃদ্ধির প্রাথমিক লক্ষণগুলো ইতোমধ্যেই কৃষকদের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। ভারতীয় কৃষি এখনো রাসায়নিক সারের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, এবং সরবরাহ ঘাটতি দ্রুত উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক ইস্যু অজুহাত, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান

সার সংকটে ভারতে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা

আপডেট সময় : ০৯:৫১:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের কৃষক গুরবিন্দর সিং এক অভূতপূর্ব উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ তার নিজের শহরের শান্ত পরিবেশকেও অস্থির করে তুলেছে। ভারতের শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত পাঞ্জাবে, যেখানে গুরবিন্দর মূলত গম ও ধানের চাষ করেন, সেখানে তিনি এখন তার আসন্ন ধানের ফলন নিয়ে চিন্তিত। হাজার হাজার মাইল দূরে চলমান একটি যুদ্ধ তার জীবনযাত্রাকে পঙ্গু করে দিচ্ছে, কারণ তিনি আশঙ্কা করছেন সময়মতো এবং ন্যায্য মূল্যে সার না পেলে তার ফসলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব কেবল জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং কৃষি খাতেও এর ঢেউ লেগেছে। গুরবিন্দর জানান, ইতিমধ্যেই উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় মুনাফা নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর উপর যদি সার পেতে সমস্যা হয়, তবে ফলন কম হবে। এর প্রভাব কেবল তার নিজের পরিবারের উপরই পড়বে না, বরং পুরো অঞ্চলের উপর পড়বে, কারণ এখানকার সবাই কৃষির উপর নির্ভরশীল। তাই তিনি যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে কৃষি খাতকে বাঁচানো যায়।

প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাত বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা-ইসরাইল যৌথ হামলার পর ইরানও পাল্টা জবাব দিয়েছে। তেহরান প্রতিশোধ হিসেবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। তাদের এই সিদ্ধান্তে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে তেল ও গ্যাস আমদানিকারক দেশগুলো চরম বিপাকে পড়ে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।

ভারত সরকার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০২৩-২৪ সালে সার ভর্তুকিতে ১.৮ ট্রিলিয়ন রুপির (২২ বিলিয়ন ডলার) বেশি ব্যয় করেছে। এটি কৃষিখাতে সারের গুরুত্ব এবং বিশ্বব্যাপী মূল্যবৃদ্ধির প্রতি কৃষি খাতের সংবেদনশীলতাকে তুলে ধরে। কৃষি অর্থনীতিবিদ দেবিন্দর শর্মা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে যুদ্ধের কারণে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং খরচ বৃদ্ধির প্রাথমিক লক্ষণগুলো ইতোমধ্যেই কৃষকদের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। ভারতীয় কৃষি এখনো রাসায়নিক সারের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, এবং সরবরাহ ঘাটতি দ্রুত উদ্বেগ সৃষ্টি করে।