ঢাকা ১১:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

মানব পাচার মামলায় আলোচিত মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ফের ৩ দিনের রিমান্ডে

মানব পাচার আইনে দায়ের করা মামলায় এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সেনা কর্মকর্তা এবং ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে তৃতীয় দফায় ৩ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিগারুল আলমের আদালত শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে এই আদেশ দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক মো. রায়হানুর রহমান আসামিকে আদালতে হাজির করে ফের চার দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পাওয়ার অব অ্যাটর্নিপ্রাপ্ত এজেন্সিগুলোর নির্বাচন পদ্ধতি, এফডব্লিউসিএসএম-এর অপারেশনাল কার্যক্রম এবং ২০২২-২০২৪ সালে মালয়েশিয়ায় কতজন কর্মী প্রেরণ করা হয়েছে তার সঠিক তথ্য উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন। এছাড়া, এই আসামির এজেন্সির মাধ্যমে প্রেরিত যাত্রীদের মধ্যে কতজন ফেরত এসেছে, মেডিকেল ফি বাবদ কত টাকা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ওয়ার্ক পারমিট সংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করার জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। আত্মসাৎ করা টাকা উদ্ধার এবং পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের স্বার্থেও এই রিমান্ড প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে, গত ২৩ মার্চ দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আটক করা হয়। ২৪ মার্চ তাকে পাঁচ দিন এবং ২৯ মার্চ ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। সিন্ডিকেট করে অর্থ আত্মসাৎ ও মানবপাচারের অভিযোগে গত ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্টন থানায় আফিয়া ওভারসিজের স্বত্বাধিকারী আলতাব খান এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সাবেক প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদ, সাবেক সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক এমপি বেনজীর আহমেদ এবং ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মো. রুহুল আমীন স্বপনসহ ১০৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়, জনশক্তি রপ্তানিতে দুই হাজারের বেশি রিক্রুটিং এজেন্ট থাকা সত্ত্বেও আসামিরা একটি ‘মাফিয়া সিন্ডিকেট’ তৈরি করে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করে জঘন্য অপরাধ করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাখাইন দখলের চূড়ান্ত লড়াই: মিয়ানমারে নতুন করে গৃহযুদ্ধের দামামা

মানব পাচার মামলায় আলোচিত মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ফের ৩ দিনের রিমান্ডে

আপডেট সময় : ০৫:৫৬:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

মানব পাচার আইনে দায়ের করা মামলায় এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সেনা কর্মকর্তা এবং ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে তৃতীয় দফায় ৩ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিগারুল আলমের আদালত শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে এই আদেশ দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক মো. রায়হানুর রহমান আসামিকে আদালতে হাজির করে ফের চার দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পাওয়ার অব অ্যাটর্নিপ্রাপ্ত এজেন্সিগুলোর নির্বাচন পদ্ধতি, এফডব্লিউসিএসএম-এর অপারেশনাল কার্যক্রম এবং ২০২২-২০২৪ সালে মালয়েশিয়ায় কতজন কর্মী প্রেরণ করা হয়েছে তার সঠিক তথ্য উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন। এছাড়া, এই আসামির এজেন্সির মাধ্যমে প্রেরিত যাত্রীদের মধ্যে কতজন ফেরত এসেছে, মেডিকেল ফি বাবদ কত টাকা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ওয়ার্ক পারমিট সংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করার জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। আত্মসাৎ করা টাকা উদ্ধার এবং পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের স্বার্থেও এই রিমান্ড প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে, গত ২৩ মার্চ দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আটক করা হয়। ২৪ মার্চ তাকে পাঁচ দিন এবং ২৯ মার্চ ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। সিন্ডিকেট করে অর্থ আত্মসাৎ ও মানবপাচারের অভিযোগে গত ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্টন থানায় আফিয়া ওভারসিজের স্বত্বাধিকারী আলতাব খান এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সাবেক প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদ, সাবেক সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক এমপি বেনজীর আহমেদ এবং ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মো. রুহুল আমীন স্বপনসহ ১০৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়, জনশক্তি রপ্তানিতে দুই হাজারের বেশি রিক্রুটিং এজেন্ট থাকা সত্ত্বেও আসামিরা একটি ‘মাফিয়া সিন্ডিকেট’ তৈরি করে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করে জঘন্য অপরাধ করেছেন।