সিঙ্গাপুরের একজন আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ লিম টিয়ান সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন। তার মতে, আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আমেরিকানরা ঘুম থেকে উঠে দেখবে যে তাদের বিশ্বব্যাপী আধিপত্য সম্পূর্ণরূপে শেষ হয়ে গেছে। এই মন্তব্যটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
লিম টিয়ান তার পোস্টে দাবি করেন, এই পতনের অবসান ঘটেছে মাত্র এক দিনে। তিনি এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন যখন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সহযোগীদের জানান যে তিনি হরমুজ প্রণালী পুনরায় না খুলেই ইরান যুদ্ধ শেষ করতে প্রস্তুত। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম এই খবর প্রকাশ করে এবং পরবর্তীতে হোয়াইট হাউসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তা নিশ্চিত করেন বলে তিনি জানান। লিম টিয়ান এই ঘটনাকে বার্লিন প্রাচীরের পতনের মতোই ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে আখ্যায়িত করেন।
তিনি আরও বলেন, ইতিহাসে এমন আর কোনো ঘটনা তার মনে পড়ে না যেখানে একটি দেশের প্রভাবশালী অবস্থান রাতারাতি এত নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, যখন কোনো দেশ প্রতিপক্ষকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে যুদ্ধে লিপ্ত হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই শত্রুকে বিশ্বের তেল ও জ্বালানি সরবরাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণে রেখে আসে, তখন সেই দেশের মর্যাদা অনিবার্যভাবে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়।
লিম টিয়ান যুক্তি দেন, যদি কোনো পরাশক্তিকে এমন একটি অঞ্চল ছেড়ে যেতে হয় যেখানে তার একসময় ব্যাপক প্রভাব ছিল, এবং সেই অঞ্চলে তার আর কোনো সামরিক ঘাঁটি না থাকে কারণ প্রতিপক্ষ সেগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে, তবে এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে সেই দেশটি আর বিশ্বের পরাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না। একটি পরাশক্তি কখনোই কোনো কৌশলগত জলপথের নিয়ন্ত্রণ কোনো আঞ্চলিক শত্রুর হাতে তুলে দেয় না বা তাকে নিজের প্রভাবাধীন অঞ্চল থেকে বিতাড়িত হতে হয় না। তার মতে, ইরান যুদ্ধে ঠিক এমনটিই ঘটেছে।
লিম টিয়ান তার পোস্টে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, সাধারণত সাম্রাজ্যগুলো তাদের চূড়ান্ত পতনের আগে বহু বছর ধরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। কিন্তু ‘প্যাক্স আমেরিকানা’র ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেনি; বরং এর অবসান ঘটেছে মাত্র একদিনে, যা তার মতে সম্পূর্ণ অভূতপূর্ব।
রিপোর্টারের নাম 



















