ঢাকা ০৫:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

দুবাই উপকূলে কুয়েতি তেল ট্যাংকারে ড্রোন হামলা: সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই বন্দরের কাছে জ্বালানি তেলবোঝাই কুয়েতি জাহাজ ‘আল-সালমি’তে এক ড্রোন হামলায় আগুন ধরে গেছে। সোমবার এই হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ড্রোন আক্রমণকেই হামলার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

জাহাজটির মালিকানা প্রতিষ্ঠান কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (কেপিসি) জানিয়েছে, এই হামলায় জাহাজের মূল কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর ফলে সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ার একটি বড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে, নৌ-অগ্নিনির্বাপক দলের নিরলস প্রচেষ্টায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। সৌভাগ্যবশত, জাহাজের ২৪ জন ক্রু সদস্য সম্পূর্ণ নিরাপদে আছেন এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এই হামলাটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানকে দেওয়া হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টা পরেই ঘটে। তিনি সম্প্রতি সতর্ক করেছিলেন যে, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উন্মুক্ত না রাখে, তবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও তেলকূপগুলোতে আঘাত হানতে পারে।

সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু করার পর থেকে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে একের পর এক হামলা হচ্ছে। আল-সালমির উপর এই হামলা সাম্প্রতিক উত্তেজনার সর্বশেষ উদাহরণ। এই মাসব্যাপী চলা সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, যার ফলে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বিশ্ব অর্থনীতি তেলের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

সংবাদ সংস্থা কুনা (কেইউএনএ) জানিয়েছে, জাহাজটি কুয়েত ও সৌদি আরব থেকে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে চীনের চিংদাও বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। এই তেলের বর্তমান বাজারমূল্য ২০ কোটি ডলারের বেশি। হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে সাময়িকভাবে উর্ধ্বগতি দেখা যায়, যদিও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদনের পর তা কিছুটা কমে আসে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপকে অগ্রাধিকার দিয়ে যুদ্ধ শেষের পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রেখেছেন।

কেপিসি জানিয়েছে, বর্তমানে জাহাজের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ওমান সাগরে ইরানি জাহাজ জব্দের মার্কিন চেষ্টা নস্যাৎ করার দাবি

দুবাই উপকূলে কুয়েতি তেল ট্যাংকারে ড্রোন হামলা: সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

আপডেট সময় : ০১:৪৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই বন্দরের কাছে জ্বালানি তেলবোঝাই কুয়েতি জাহাজ ‘আল-সালমি’তে এক ড্রোন হামলায় আগুন ধরে গেছে। সোমবার এই হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ড্রোন আক্রমণকেই হামলার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

জাহাজটির মালিকানা প্রতিষ্ঠান কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (কেপিসি) জানিয়েছে, এই হামলায় জাহাজের মূল কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর ফলে সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ার একটি বড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে, নৌ-অগ্নিনির্বাপক দলের নিরলস প্রচেষ্টায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। সৌভাগ্যবশত, জাহাজের ২৪ জন ক্রু সদস্য সম্পূর্ণ নিরাপদে আছেন এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এই হামলাটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানকে দেওয়া হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টা পরেই ঘটে। তিনি সম্প্রতি সতর্ক করেছিলেন যে, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উন্মুক্ত না রাখে, তবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও তেলকূপগুলোতে আঘাত হানতে পারে।

সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু করার পর থেকে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে একের পর এক হামলা হচ্ছে। আল-সালমির উপর এই হামলা সাম্প্রতিক উত্তেজনার সর্বশেষ উদাহরণ। এই মাসব্যাপী চলা সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, যার ফলে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বিশ্ব অর্থনীতি তেলের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

সংবাদ সংস্থা কুনা (কেইউএনএ) জানিয়েছে, জাহাজটি কুয়েত ও সৌদি আরব থেকে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে চীনের চিংদাও বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। এই তেলের বর্তমান বাজারমূল্য ২০ কোটি ডলারের বেশি। হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে সাময়িকভাবে উর্ধ্বগতি দেখা যায়, যদিও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদনের পর তা কিছুটা কমে আসে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপকে অগ্রাধিকার দিয়ে যুদ্ধ শেষের পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রেখেছেন।

কেপিসি জানিয়েছে, বর্তমানে জাহাজের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।