লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে চলমান ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর সংঘর্ষে গতকাল সোমবার তাদের আরও দুই সদস্য নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি দ্বিতীয় প্রাণহানির ঘটনা।
লেবাননে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিরক্ষা বাহিনী (ইউনিফিল) জানিয়েছে, অজ্ঞাত উৎস থেকে সৃষ্ট এক বিস্ফোরণে তাদের একটি যানবাহন ধ্বংস হয়েছে এবং দুই ইন্দোনেশীয় শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই শান্তিরক্ষী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের এক হামলায় তাদের এক সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। একই সময়ে নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে ইসরাইলের আরেকটি হামলায় হিজবুল্লাহর তিন সদস্য নিহত হয়েছেন।
গত ২ মার্চ ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধ শুরুর সময় তেহরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীটি ইসরাইলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করলে লেবানন মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। ইসরাইল লেবানন জুড়ে ব্যাপক হামলা এবং দক্ষিণে স্থল অভিযান চালিয়ে এর জবাব দিচ্ছে। লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ১,২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
ইউনিফিল জানিয়েছে, সোমবারের এই মৃত্যুর ঘটনায় তারা একটি তদন্ত শুরু করেছে। এর একদিন আগে ইউনিফিলের একটি অবস্থানের কাছে অজানা উৎস থেকে আসা একটি ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরিত হয়ে আরেকজন ইন্দোনেশীয় শান্তিরক্ষী নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছিলেন। ইসরাইলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা দুটি ঘটনাই তদন্ত করছে, যাতে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট করা যায় এবং সেগুলো হিজবুল্লাহর হামলার কারণে নাকি ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) কার্যক্রমের ফলে ঘটেছে, তা নির্ধারণ করা যায়।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জ্যাঁ-পিয়ের লাক্রোয়া এসব ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে কঠোরভাবে নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, ‘শান্তিরক্ষীদের ঝুঁকির মুখে ফেলার এসব কার্যক্রম অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।’ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে একটি বৈঠক চাইছে, অন্যদিকে স্পেনও এই প্রাণঘাতী হামলার নিন্দা করেছে।
রিপোর্টারের নাম 



















