ঢাকা ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ইরান যুদ্ধের উত্তাপ: মধ্যপ্রাচ্যে ৩০০০ সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৭:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানকে আরও জোরদার করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত তিন হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীর বিশেষ শাখা ‘৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন’কে রণক্ষেত্রে মোতায়েন করা হবে। পারস্য উপসাগরে হাজার হাজার মার্কিন মেরিন সেনা ইতিমধ্যেই ইরানের অভ্যন্তরে বিশেষ অভিযানের জন্য অগ্রসর হচ্ছে, এমন সময়ে পেন্টাগনের এই পদক্ষেপটি নেওয়া হলো। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা এখনও স্থলপথে ইরানে প্রবেশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেননি, তবে সামরিক বিশ্লেষকেরা এটিকে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের একটি বড় উসকানি এবং সরাসরি ইরানি ভূখণ্ডে মার্কিন সেনা অভিযানের স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) গত মঙ্গলবার জানিয়েছে যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের অভ্যন্তরে নয় হাজারেরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। এই হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, নৌবাহিনী এবং প্রতিরক্ষা শিল্প অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় ইরানের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের কয়েকজন নিহত হয়েছেন। বর্তমানে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং নতুন করে সেনা পাঠানোর এই সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত শক্তি প্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিতে আগ্রহী।

যুদ্ধের এক মাস পার হতে চললেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি, বরং বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। ইরান বিশ্ববাজারের প্রধান তেলের পথ ‘হরমুজ প্রণালি’র প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়ায় এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই সরবরাহ করা হয়। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দাবি করছে, তারা সামরিকভাবে ইরানকে পঙ্গু করে দিচ্ছে, অন্যদিকে ইরান মঙ্গলবারও ইসরাইল ও পাশের দেশগুলোর ওপর ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়ে শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ চলছে বলে দাবি করলেও, তেহরান বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধের উত্তাপ: মধ্যপ্রাচ্যে ৩০০০ সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় : ০৮:৪৭:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানকে আরও জোরদার করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত তিন হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীর বিশেষ শাখা ‘৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন’কে রণক্ষেত্রে মোতায়েন করা হবে। পারস্য উপসাগরে হাজার হাজার মার্কিন মেরিন সেনা ইতিমধ্যেই ইরানের অভ্যন্তরে বিশেষ অভিযানের জন্য অগ্রসর হচ্ছে, এমন সময়ে পেন্টাগনের এই পদক্ষেপটি নেওয়া হলো। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা এখনও স্থলপথে ইরানে প্রবেশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেননি, তবে সামরিক বিশ্লেষকেরা এটিকে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের একটি বড় উসকানি এবং সরাসরি ইরানি ভূখণ্ডে মার্কিন সেনা অভিযানের স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) গত মঙ্গলবার জানিয়েছে যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের অভ্যন্তরে নয় হাজারেরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। এই হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, নৌবাহিনী এবং প্রতিরক্ষা শিল্প অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় ইরানের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের কয়েকজন নিহত হয়েছেন। বর্তমানে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং নতুন করে সেনা পাঠানোর এই সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত শক্তি প্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিতে আগ্রহী।

যুদ্ধের এক মাস পার হতে চললেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি, বরং বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। ইরান বিশ্ববাজারের প্রধান তেলের পথ ‘হরমুজ প্রণালি’র প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়ায় এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই সরবরাহ করা হয়। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দাবি করছে, তারা সামরিকভাবে ইরানকে পঙ্গু করে দিচ্ছে, অন্যদিকে ইরান মঙ্গলবারও ইসরাইল ও পাশের দেশগুলোর ওপর ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়ে শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ চলছে বলে দাবি করলেও, তেহরান বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখছে।