রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসটি উদ্ধার করে উপরে তোলা হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উদ্ধার হওয়া বাস থেকে একে একে মৃতদেহ বের করে আনতে দেখা যায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের। বাসের দরজা ভেঙে উদ্ধারকাজ চালানো হয়। উদ্ধারকালে বাসের ভেতর থেকে স্কুল ব্যাগ, জুতা-স্যান্ডেল, ভ্যানিটি ব্যাগসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ ভেসে উঠতে দেখা গেছে। উদ্ধার কাজে সহায়তা করার জন্য তিনটি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ পর্যন্ত তারা মোট ১২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ, ৬ জন মহিলা এবং ৩ জন শিশু রয়েছে।
পদ্মার পাড়ে ছোট বোন ফাতেমা তুজ জোহরা ও জামাই কাজী সাইফ আহমেদের খোঁজে এসেছেন রোকন। তিনি জানান, তার বন্ধুর ছোট বোন ও তার জামাই আজ (বুধবার) দুপুর সাড়ে ৩টার বাসে রাজবাড়ী থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। পরে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দৌলতদিয়ার পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়। দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পর তারা ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছালেও এখনও তাদের সন্ধান পাননি।
শরিফুল ইসলাম নামের আরেক ব্যক্তি জানান, রাজবাড়ী থেকে তার স্ত্রী, দুই সন্তান, ভাগ্নি এবং ভাগ্নির ছেলেও সৌহার্দ্য পরিবহনের ওই বাসে উঠেছিলেন। ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার পর তার স্ত্রী, মেয়ে এবং ভাগ্নি স্থানীয়দের সহায়তায় সাঁতরে পাড়ে উঠতে সক্ষম হলেও তার সাত বছরের ছেলে এবং এগারো বছরের ভাগ্নে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও এখনও উদ্ধার অভিযান শুরু করেনি। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলে ও ভাগ্নেকে তো আর ফিরে পাবো না, এখন তাদের লাশটা আমাকে বুঝিয়ে দিক। টাকার দরকার নেই, শুধু আমার সন্তানের লাশটা আমাকে বুঝিয়ে দিক। আমার সব শেষ।”
নবীজ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি তার দুই নাতির জন্য অপেক্ষা করছেন। তিনি অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, “আমার নাতি-নাতনি বাসের মধ্যে ছিল। তাদের জন্য অপেক্ষা করছি। আল্লাহ আমার দুইজনকে ফিরিয়ে দাও।”
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবহনের ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন জানান, ডুবে যাওয়া বাসটিতে নারী-শিশুসহ প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিল। বাসটি কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল এবং ঘটনার সময় তিন নম্বর ঘাটে ফেরির জন্য অপেক্ষা করছিল। আনুমানিক সোয়া পাঁচটার দিকে ‘হাসনা হেনা’ নামের একটি ছোট ইউটিলিটি ফেরি দ্রুতগতিতে পন্টুনে আঘাত করলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি নদীতে পড়ে যায়।
রিপোর্টারের নাম 
























