ঢাকা ০৬:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের জন্য ট্রাম্পের ১৫ দফার প্রস্তাব: পরমাণু কর্মসূচি ত্যাগের বিনিময়ে মিলবে বড় সুবিধা?

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৫ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি বিলুপ্ত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব কমিয়ে আনা। প্রস্তাবিত শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে নাতাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোরদোর মতো গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ ও ধ্বংস করা।

শান্তি প্রস্তাবের শর্তানুযায়ী, ইরানকে তাদের সব ধরনের পারমাণবিক কর্মকাণ্ডে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পূর্ণ তদারকি নিশ্চিত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার লিখিত অঙ্গীকার দিতে হবে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা দেওয়া বন্ধ করা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ‘মুক্ত সামুদ্রিক অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করার শর্তও দেওয়া হয়েছে। বিনিময়ে ইরানকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বেসামরিক পারমাণবিক প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা এবং দেশটির ওপর আরোপিত সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ওয়াশিংটন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় এক মাসের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে। তবে হোয়াইট হাউস কিংবা ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই প্রস্তাবের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এই শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিচ্ছেন যুবদলের সাবেক নেতা ইসহাক সরকার

ইরানের জন্য ট্রাম্পের ১৫ দফার প্রস্তাব: পরমাণু কর্মসূচি ত্যাগের বিনিময়ে মিলবে বড় সুবিধা?

আপডেট সময় : ০৬:২২:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৫ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি বিলুপ্ত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব কমিয়ে আনা। প্রস্তাবিত শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে নাতাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোরদোর মতো গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ ও ধ্বংস করা।

শান্তি প্রস্তাবের শর্তানুযায়ী, ইরানকে তাদের সব ধরনের পারমাণবিক কর্মকাণ্ডে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পূর্ণ তদারকি নিশ্চিত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার লিখিত অঙ্গীকার দিতে হবে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা দেওয়া বন্ধ করা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ‘মুক্ত সামুদ্রিক অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করার শর্তও দেওয়া হয়েছে। বিনিময়ে ইরানকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বেসামরিক পারমাণবিক প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা এবং দেশটির ওপর আরোপিত সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ওয়াশিংটন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় এক মাসের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে। তবে হোয়াইট হাউস কিংবা ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই প্রস্তাবের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এই শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।