ঢাকা ০৭:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

বিস্ফোরণে আহত মাদ্রাসা ছাত্রের বাড়িতে বোম ডিসপোজাল টিমের তল্লাশি, উদ্ধার অবিস্ফোরিত ককটেল

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বিস্ফোরণে হাতের আঙুলের অংশ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং ঝলসে যাওয়া এক মাদ্রাসা ছাত্রের বাড়িতে পুলিশের বোম ডিসপোজাল টিম তল্লাশি চালিয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা থেকে আসা বোম ডিসপোজাল টিমের সদস্যরা টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কুশলী ইউনিয়নের নিলফা বাজার এলাকার ওই মাদ্রাসা ছাত্রের বাড়িতে পৌঁছান। দুপুর ২টা পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করে বিস্ফোরিত ককটেল সদৃশ বস্তুর কিছু আলামত জব্দ করেন এবং একটি অবিস্ফোরিত ককটেল সদৃশ বস্তু উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করেন।

টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, নিলফা গ্রামের মোস্তাক আহম্মেদের ছেলে মতিউর রহমান (২৩) প্রায় দেড় মাস আগে প্রথম ককটেল সদৃশ বিস্ফোরক বস্তু তৈরি করে। সেটি সে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ভেন্নাবাড়ী মাদ্রাসার পাশে বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর গত ২২ মার্চ সে এ ধরনের আরও একটি বিস্ফোরক দ্রব্য গ্রামের বাড়ির পাশে বিস্ফোরণ ঘটায়। গতকাল ২৩ মার্চ বাড়িতে বসে এসএস পাইপের মধ্যে দিয়াশলাইয়ের বারুদ সহ আরও কিছু উপাদান ভরে দুটি ককটেল সদৃশ বস্তু তৈরি করে মতিউর। এর মধ্যে একটি বিস্ফোরণের পর তার হাত-পা, মুখ সহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। অন্যটি অবিস্ফোরিত ছিল।

ওসি আইয়ুব আলী আরও জানান, আহত যুবককে পুলিশি পাহারায় গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) তাকে খুলনা থেকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। আহত মাদ্রাসা ছাত্র মতিউর রহমান টুঙ্গিপাড়া উপজেলার নিলফা বাজার এলাকার মোস্তাক আহম্মেদের ছেলে এবং গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ভেন্নাবাড়ি মাদ্রাসার ছাত্র। সে এক বছর পর মাওলানা পাশ করার কথা রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সোমবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যায় মতিউরের বাড়িতে বিস্ফোরণের ব্যাপক শব্দ হয়। পরে সেখানে গিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যাওয়া অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। তবে বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশের দুজন সদস্য সহ তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক: এক মাসে ৩৬ মৃত্যু, আক্রান্ত ৯ হাজার ছাড়ালো

বিস্ফোরণে আহত মাদ্রাসা ছাত্রের বাড়িতে বোম ডিসপোজাল টিমের তল্লাশি, উদ্ধার অবিস্ফোরিত ককটেল

আপডেট সময় : ০৭:১৩:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বিস্ফোরণে হাতের আঙুলের অংশ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং ঝলসে যাওয়া এক মাদ্রাসা ছাত্রের বাড়িতে পুলিশের বোম ডিসপোজাল টিম তল্লাশি চালিয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা থেকে আসা বোম ডিসপোজাল টিমের সদস্যরা টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কুশলী ইউনিয়নের নিলফা বাজার এলাকার ওই মাদ্রাসা ছাত্রের বাড়িতে পৌঁছান। দুপুর ২টা পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করে বিস্ফোরিত ককটেল সদৃশ বস্তুর কিছু আলামত জব্দ করেন এবং একটি অবিস্ফোরিত ককটেল সদৃশ বস্তু উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করেন।

টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, নিলফা গ্রামের মোস্তাক আহম্মেদের ছেলে মতিউর রহমান (২৩) প্রায় দেড় মাস আগে প্রথম ককটেল সদৃশ বিস্ফোরক বস্তু তৈরি করে। সেটি সে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ভেন্নাবাড়ী মাদ্রাসার পাশে বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর গত ২২ মার্চ সে এ ধরনের আরও একটি বিস্ফোরক দ্রব্য গ্রামের বাড়ির পাশে বিস্ফোরণ ঘটায়। গতকাল ২৩ মার্চ বাড়িতে বসে এসএস পাইপের মধ্যে দিয়াশলাইয়ের বারুদ সহ আরও কিছু উপাদান ভরে দুটি ককটেল সদৃশ বস্তু তৈরি করে মতিউর। এর মধ্যে একটি বিস্ফোরণের পর তার হাত-পা, মুখ সহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। অন্যটি অবিস্ফোরিত ছিল।

ওসি আইয়ুব আলী আরও জানান, আহত যুবককে পুলিশি পাহারায় গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) তাকে খুলনা থেকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। আহত মাদ্রাসা ছাত্র মতিউর রহমান টুঙ্গিপাড়া উপজেলার নিলফা বাজার এলাকার মোস্তাক আহম্মেদের ছেলে এবং গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ভেন্নাবাড়ি মাদ্রাসার ছাত্র। সে এক বছর পর মাওলানা পাশ করার কথা রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সোমবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যায় মতিউরের বাড়িতে বিস্ফোরণের ব্যাপক শব্দ হয়। পরে সেখানে গিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যাওয়া অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। তবে বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশের দুজন সদস্য সহ তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।