ঢাকা ০৭:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

খানসামায় ঈদের আনন্দ ম্লান, তিন দিনে অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

দিনাজপুরের খানসামায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দঘন মুহূর্তে টানা তিন দিন ধরে ঘটে যাওয়া তিনটি পৃথক অগ্নিকাণ্ড জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এসব অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মানুষের স্বপ্ন, জীবিকা ও শেষ সম্বল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, রেখে গেছে কেবলই ধ্বংসস্তূপ আর দীর্ঘশ্বাস।

উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে সংঘটিত এসব দুর্ঘটনায় বহু বসতঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং মূল্যবান গবাদিপশু পুড়ে গেছে। স্থানীয়দের অক্লান্ত প্রচেষ্টা এবং ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল বিপুল।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে ঈদের দিন শনিবার (২১ মার্চ) রাতে ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের টংগুয়া এলাকার টুপারমোড়ে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে সূত্রপাত হওয়া আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে একটি মার্কেটে, যার ফলে মুহূর্তেই ১০টি দোকান ভস্মীভূত হয়ে যায়। বহু বছরের পরিশ্রমে গড়ে তোলা ব্যবসায়িক স্বপ্ন ধ্বংস হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দিশেহারা হয়ে পড়েন।

পরদিন রোববার (২২ মার্চ) ভোরে একই ইউনিয়নের খামার বিষ্ণুগঞ্জ এলাকার জোলাপাড়ায় সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে কয়েলের আগুন থেকে আরেকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় তিনটি গরু ও দুটি ছাগল পুড়ে মারা যায়। এছাড়াও, একটি মোটরসাইকেলসহ ঘরের আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামালও আগুনে পুড়ে যায়। হঠাৎ এমন অপূরণীয় ক্ষতি পরিবারটিকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ফেলে দেয়।

সর্বশেষ সোমবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যায় আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের পাকেরহাট জিয়া মাঠ এলাকায় নাসিরের বাড়িতে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগে। এতে ওই পরিবারের বসতঘরের সবকিছু পুড়ে যায় এবং মুহূর্তেই তারা সর্বস্ব হারান।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র অনুযায়ী, প্রথম দিনের মার্কেট অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দ্বিতীয় ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় ঘটনায় প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে প্রতিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) অয়ন ফারহান শামস। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।

খানসামা ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার আবুল কালাম আজাদ জানান, তাদের দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে এবং কিছু মূল্যবান জিনিসপত্রও রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বৈদ্যুতিক সংযোগ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন এবং খোলা আগুন ব্যবহারে অধিক সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক: এক মাসে ৩৬ মৃত্যু, আক্রান্ত ৯ হাজার ছাড়ালো

খানসামায় ঈদের আনন্দ ম্লান, তিন দিনে অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

আপডেট সময় : ০৭:০৭:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

দিনাজপুরের খানসামায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দঘন মুহূর্তে টানা তিন দিন ধরে ঘটে যাওয়া তিনটি পৃথক অগ্নিকাণ্ড জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এসব অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মানুষের স্বপ্ন, জীবিকা ও শেষ সম্বল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, রেখে গেছে কেবলই ধ্বংসস্তূপ আর দীর্ঘশ্বাস।

উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে সংঘটিত এসব দুর্ঘটনায় বহু বসতঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং মূল্যবান গবাদিপশু পুড়ে গেছে। স্থানীয়দের অক্লান্ত প্রচেষ্টা এবং ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল বিপুল।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে ঈদের দিন শনিবার (২১ মার্চ) রাতে ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের টংগুয়া এলাকার টুপারমোড়ে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে সূত্রপাত হওয়া আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে একটি মার্কেটে, যার ফলে মুহূর্তেই ১০টি দোকান ভস্মীভূত হয়ে যায়। বহু বছরের পরিশ্রমে গড়ে তোলা ব্যবসায়িক স্বপ্ন ধ্বংস হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দিশেহারা হয়ে পড়েন।

পরদিন রোববার (২২ মার্চ) ভোরে একই ইউনিয়নের খামার বিষ্ণুগঞ্জ এলাকার জোলাপাড়ায় সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে কয়েলের আগুন থেকে আরেকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় তিনটি গরু ও দুটি ছাগল পুড়ে মারা যায়। এছাড়াও, একটি মোটরসাইকেলসহ ঘরের আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামালও আগুনে পুড়ে যায়। হঠাৎ এমন অপূরণীয় ক্ষতি পরিবারটিকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ফেলে দেয়।

সর্বশেষ সোমবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যায় আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের পাকেরহাট জিয়া মাঠ এলাকায় নাসিরের বাড়িতে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগে। এতে ওই পরিবারের বসতঘরের সবকিছু পুড়ে যায় এবং মুহূর্তেই তারা সর্বস্ব হারান।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র অনুযায়ী, প্রথম দিনের মার্কেট অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দ্বিতীয় ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় ঘটনায় প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে প্রতিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) অয়ন ফারহান শামস। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।

খানসামা ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার আবুল কালাম আজাদ জানান, তাদের দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে এবং কিছু মূল্যবান জিনিসপত্রও রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বৈদ্যুতিক সংযোগ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন এবং খোলা আগুন ব্যবহারে অধিক সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া।