ঢাকা ০৯:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি: অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল বন্ধের আশঙ্কা

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম প্রায় ৯০ টাকা বৃদ্ধি করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এই মূল্যবৃদ্ধি আজ মধ্যরাত থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। তবে, এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি) এই দাম বৃদ্ধিকে অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে তা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

বিইআরসি কর্তৃক জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরপরই এওএবি তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংস্থাটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, হঠাৎ করে জেট এ-১ জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বর্তমান বাজার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এওএবির সেক্রেটারি জেনারেল মফিজুর রহমান উল্লেখ করেন যে, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই বলে জানানো হয়েছে। গত ২২ দিনে প্রায় ২৫টি তেলবাহী জাহাজ দেশে এসেছে এবং আগের নির্ধারিত দামেই এসব তেল কেনা হয়েছে। এছাড়াও, আন্তর্জাতিক বাজারেও সম্প্রতি তেলের দাম কমতির দিকে। এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কার উপর ভিত্তি করে এত বড় মূল্যবৃদ্ধি কোনোভাবেই যৌক্তিক নয় বলে তারা মনে করেন।

সংস্থাটি আরও উল্লেখ করে যে, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে এই মূল্যবৃদ্ধি অস্বাভাবিকভাবে বেশি। ভারত ও নেপাল জেট ফুয়েলের দাম অপরিবর্তিত রাখলেও, পাকিস্তান ২৪.৪৯ শতাংশ এবং মালদ্বীপ ১৮.৫৪ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি করেছে। এর তুলনায় বাংলাদেশে প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি অযৌক্তিক বলে তারা মনে করেন। নতুন এই মূল্য কার্যকর হলে দেশের এয়ারলাইন্সগুলো মারাত্মক আর্থিক চাপে পড়বে এবং এর প্রভাব সরাসরি পড়বে অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীদের ওপর, যার ফলে বিমান ভাড়া বৃদ্ধি পাবে। জেট ফুয়েলের ওপর কর বৃদ্ধির কারণে পরিচালন ব্যয় আরও বেড়ে যাবে, যা পুরো এভিয়েশন খাতের টেকসই উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এওএবি সতর্ক করে বলেছে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তান ইস্যুতে শীতল সম্পর্ক কাটিয়ে তুরস্কের সঙ্গে ভারতের নতুন অধ্যায়

জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি: অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল বন্ধের আশঙ্কা

আপডেট সময় : ০৫:৫৯:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম প্রায় ৯০ টাকা বৃদ্ধি করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এই মূল্যবৃদ্ধি আজ মধ্যরাত থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। তবে, এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি) এই দাম বৃদ্ধিকে অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে তা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

বিইআরসি কর্তৃক জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরপরই এওএবি তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংস্থাটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, হঠাৎ করে জেট এ-১ জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বর্তমান বাজার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এওএবির সেক্রেটারি জেনারেল মফিজুর রহমান উল্লেখ করেন যে, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই বলে জানানো হয়েছে। গত ২২ দিনে প্রায় ২৫টি তেলবাহী জাহাজ দেশে এসেছে এবং আগের নির্ধারিত দামেই এসব তেল কেনা হয়েছে। এছাড়াও, আন্তর্জাতিক বাজারেও সম্প্রতি তেলের দাম কমতির দিকে। এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কার উপর ভিত্তি করে এত বড় মূল্যবৃদ্ধি কোনোভাবেই যৌক্তিক নয় বলে তারা মনে করেন।

সংস্থাটি আরও উল্লেখ করে যে, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে এই মূল্যবৃদ্ধি অস্বাভাবিকভাবে বেশি। ভারত ও নেপাল জেট ফুয়েলের দাম অপরিবর্তিত রাখলেও, পাকিস্তান ২৪.৪৯ শতাংশ এবং মালদ্বীপ ১৮.৫৪ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি করেছে। এর তুলনায় বাংলাদেশে প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি অযৌক্তিক বলে তারা মনে করেন। নতুন এই মূল্য কার্যকর হলে দেশের এয়ারলাইন্সগুলো মারাত্মক আর্থিক চাপে পড়বে এবং এর প্রভাব সরাসরি পড়বে অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীদের ওপর, যার ফলে বিমান ভাড়া বৃদ্ধি পাবে। জেট ফুয়েলের ওপর কর বৃদ্ধির কারণে পরিচালন ব্যয় আরও বেড়ে যাবে, যা পুরো এভিয়েশন খাতের টেকসই উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এওএবি সতর্ক করে বলেছে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।