বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারতের পক্ষ থেকে পাওয়া বার্ষিক অর্থ সহায়তা গত এক যুগের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। গত ২০ মার্চ ভারতের লোকসভা অধিবেশনে দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিংয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে এই সহায়তার পরিমাণ মাত্র ২৫ কোটি রুপিতে দাঁড়িয়েছে। যেখানে পাঁচ বছর আগেও ভারত বছরে ২০০ কোটি রুপির বেশি অর্থ প্রদান করত, সেখানে বর্তমান অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই সংখ্যাটি আট ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে।
গত এক দশকে ভারত বাংলাদেশকে মোট প্রায় ১ হাজার ৫৫৭ কোটি রুপি অনুদান দিলেও শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে এই প্রবাহে বড় ধরনের ধস নেমেছে। উল্লেখযোগ্য যে, ২০২১-২২ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ২১৯ কোটি ৫৩ লাখ রুপি সহায়তা এসেছিল, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫৯ কোটি এবং বর্তমানে ২৫ কোটিতে এসে ঠেকেছে।
ভারতের লোকসভায় দেওয়া এই হিসাবে লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) বা ঋণের অর্থ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং জানান, ভারতের প্রতিবেশী নীতি জনমুখী এবং তারা বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে ভারতীয় বন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের অগ্রাধিকারের বিষয়ে নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
এদিকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সাল থেকে তিনটি এলওসির আওতায় ভারত মোট ৭৩৬ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি দিলেও গত জানুয়ারি পর্যন্ত ছাড় হয়েছে মাত্র ২১০ কোটি ডলার। অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ খাতের অনেক প্রকল্প এখনো প্রস্তাবনা বা প্রাথমিক পর্যায়ে ঝুলে আছে।
ইআরডির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতীয় ঋণের অর্থ ছাড়ের গতি আরও কমেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেক প্রকল্পের কাজ ধীর হয়ে পড়েছে। তবে বর্তমান সরকার ভারতের ঋণের আওতায় থাকা প্রকল্পগুলোর অর্থ ছাড়ের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে এবং কাজ পুনরায় সচল করতে পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে।
দিল্লির পক্ষ থেকে একটি স্থিতিশীল ও প্রগতিশীল বাংলাদেশের প্রতি সমর্থনের কথা বলা হলেও দ্বিপাক্ষিক অর্থ সহায়তার এই বিশাল ঘাটতি দুই দেশের বর্তমান শীতল সম্পর্কের বাস্তব চিত্রই ফুটিয়ে তুলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
রিপোর্টারের নাম 

























