ঢাকা ০৩:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থায় সংকটে বাংলাদেশের প্রধান শ্রমবাজার

ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের ১৫টি দেশে যুদ্ধের ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়ায় বাংলাদেশের বৈদেশিক শ্রমবাজার এক গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েতসহ এই অঞ্চলের দেশগুলো বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির প্রধান উৎস, যেখানে মোট অভিবাসীর প্রায় ৭০ শতাংশ কর্মরত। বিশেষ করে সৌদি আরব কেন্দ্রিক শ্রমবাজার হওয়ায় যুদ্ধের প্রভাবে বর্তমানে নতুন কর্মী পাঠানো এবং কর্মরতদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিএমইটির তথ্যমতে, ২০২৫ সালে বিদেশে যাওয়া ১১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি কর্মীর মধ্যে ৬৭ শতাংশই গেছেন সৌদি আরবে। এখন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় বিকল্প বাজার না থাকায় পুরো অভিবাসন খাত স্থবির হয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট বাতিলের মহোৎসব চলছে। এ পর্যন্ত সর্বমোট ৬১৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যার ফলে হাজার হাজার প্রবাসী কর্মী দেশে আটকে পড়েছেন। অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে, আবার যারা ৪-৫ লাখ টাকা খরচ করে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন, তারা পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ৩ জনসহ মোট ৫ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। ব্র্যাকের অভিবাসন বিভাগের তথ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা কয়েক লাখ অনিয়মিত কর্মী যারা দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করেন, তারা কাজ হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন, যার প্রভাব সরাসরি দেশের রেমিটেন্স প্রবাহে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শ্রমবাজারের এই নাজুক পরিস্থিতির জন্য দীর্ঘদিনের গবেষণা ও বাজার বৈচিত্র্যকরণের অভাবকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০১৮ সালের পর বিএমইটি নতুন কোনো শ্রমবাজার নিয়ে গবেষণা করেনি। বর্তমান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে এবং জাপান, মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার মতো নতুন বাজারগুলোতে জোর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে সৌদি আরবও ভুয়া চাহিদাপত্র ও কাজের অভাবের অভিযোগে নতুন ভিসা ইস্যু কমিয়ে দিয়েছে এবং কয়েক হাজার আবেদন বাতিল করেছে। জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রা জানিয়েছে, দ্রুত এই সংকটের নিষ্পত্তি না হলে এবং বিকল্প বাজার না ধরলে এজেন্সি ও কর্মী উভয় পক্ষই অপূরণীয় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রযুক্তির বিস্ময় আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র: যেভাবে আকাশপথে নিখুঁত লক্ষ্যভেদ করে এই মারণাস্ত্র

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থায় সংকটে বাংলাদেশের প্রধান শ্রমবাজার

আপডেট সময় : ০৯:৫৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের ১৫টি দেশে যুদ্ধের ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়ায় বাংলাদেশের বৈদেশিক শ্রমবাজার এক গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েতসহ এই অঞ্চলের দেশগুলো বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির প্রধান উৎস, যেখানে মোট অভিবাসীর প্রায় ৭০ শতাংশ কর্মরত। বিশেষ করে সৌদি আরব কেন্দ্রিক শ্রমবাজার হওয়ায় যুদ্ধের প্রভাবে বর্তমানে নতুন কর্মী পাঠানো এবং কর্মরতদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিএমইটির তথ্যমতে, ২০২৫ সালে বিদেশে যাওয়া ১১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি কর্মীর মধ্যে ৬৭ শতাংশই গেছেন সৌদি আরবে। এখন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় বিকল্প বাজার না থাকায় পুরো অভিবাসন খাত স্থবির হয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট বাতিলের মহোৎসব চলছে। এ পর্যন্ত সর্বমোট ৬১৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যার ফলে হাজার হাজার প্রবাসী কর্মী দেশে আটকে পড়েছেন। অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে, আবার যারা ৪-৫ লাখ টাকা খরচ করে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন, তারা পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ৩ জনসহ মোট ৫ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। ব্র্যাকের অভিবাসন বিভাগের তথ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা কয়েক লাখ অনিয়মিত কর্মী যারা দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করেন, তারা কাজ হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন, যার প্রভাব সরাসরি দেশের রেমিটেন্স প্রবাহে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শ্রমবাজারের এই নাজুক পরিস্থিতির জন্য দীর্ঘদিনের গবেষণা ও বাজার বৈচিত্র্যকরণের অভাবকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০১৮ সালের পর বিএমইটি নতুন কোনো শ্রমবাজার নিয়ে গবেষণা করেনি। বর্তমান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে এবং জাপান, মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার মতো নতুন বাজারগুলোতে জোর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে সৌদি আরবও ভুয়া চাহিদাপত্র ও কাজের অভাবের অভিযোগে নতুন ভিসা ইস্যু কমিয়ে দিয়েছে এবং কয়েক হাজার আবেদন বাতিল করেছে। জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রা জানিয়েছে, দ্রুত এই সংকটের নিষ্পত্তি না হলে এবং বিকল্প বাজার না ধরলে এজেন্সি ও কর্মী উভয় পক্ষই অপূরণীয় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।