ঢাকা ০৩:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও অধিবেশন নিয়ে এনসিপির হুঁশিয়ারি: সংসদে সমাধান না হলে রাজপথের লড়াই

জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে জাতীয় সংসদে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে রাজপথে কঠোর আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের রায় অনুযায়ী দ্রুত এই সংস্কার পরিষদ গঠন ও শপথের উদ্যোগ নেওয়া প্রধানমন্ত্রীর নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব বলে দাবি করেছে দলটি। বর্তমানে সংসদে এই ইস্যু নিয়ে বিএনপি এবং জামায়াত-এনসিপি জোটের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে এই সংস্কার আদেশের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে; দলটির দাবি, রাষ্ট্রপতির এ ধরনের আদেশ জারির কোনো সাংবিধানিক এখতিয়ার নেই। এই দ্বিমতের কারণে বিএনপির নির্বাচিত এমপিরা কেবল সংসদের শপথ নিলেও জামায়াত ও এনসিপির প্রতিনিধিরা সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দ্বৈত শপথ গ্রহণ করেছেন।

গত রোববার সংসদে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান যুক্তি দেন যে, বর্তমান সংসদ কোনো সাধারণ প্রক্রিয়ায় নয়, বরং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিশেষ প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে। ‘জুলাই সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’ অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের অনুরূপ পদ্ধতিতে সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন ডাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা এখনো কার্যকর হয়নি।

আদেশে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করবেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও অধিবেশন না ডাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জোটের নেতারা। এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, সংবিধানের দোহাই দিয়ে জনগণের বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষাকে ধামাচাপা দেওয়া যাবে না এবং এর সম্পূর্ণ দায়ভার প্রধানমন্ত্রীকেই নিতে হবে।

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানিয়েছেন, গণভোটে জনগণের যে ‘হ্যাঁ’ সূচক রায় এসেছে, তা বাস্তবায়ন করা এখন বাধ্যতামূলক। তিনি বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করে বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া মেনে প্রথমে সংসদের ভেতরেই দাবি আদায়ের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

তবে ঈদের পর সংসদ অধিবেশন শুরু হলে যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বানের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না আসে, তবে এনসিপি রাজপথে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য অর্জনে কোনো ধরনের কালক্ষেপণ সহ্য করা হবে না বলেও দলটির পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রযুক্তির বিস্ময় আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র: যেভাবে আকাশপথে নিখুঁত লক্ষ্যভেদ করে এই মারণাস্ত্র

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও অধিবেশন নিয়ে এনসিপির হুঁশিয়ারি: সংসদে সমাধান না হলে রাজপথের লড়াই

আপডেট সময় : ০৯:৪৩:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে জাতীয় সংসদে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে রাজপথে কঠোর আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের রায় অনুযায়ী দ্রুত এই সংস্কার পরিষদ গঠন ও শপথের উদ্যোগ নেওয়া প্রধানমন্ত্রীর নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব বলে দাবি করেছে দলটি। বর্তমানে সংসদে এই ইস্যু নিয়ে বিএনপি এবং জামায়াত-এনসিপি জোটের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে এই সংস্কার আদেশের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে; দলটির দাবি, রাষ্ট্রপতির এ ধরনের আদেশ জারির কোনো সাংবিধানিক এখতিয়ার নেই। এই দ্বিমতের কারণে বিএনপির নির্বাচিত এমপিরা কেবল সংসদের শপথ নিলেও জামায়াত ও এনসিপির প্রতিনিধিরা সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দ্বৈত শপথ গ্রহণ করেছেন।

গত রোববার সংসদে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান যুক্তি দেন যে, বর্তমান সংসদ কোনো সাধারণ প্রক্রিয়ায় নয়, বরং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিশেষ প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে। ‘জুলাই সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’ অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের অনুরূপ পদ্ধতিতে সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন ডাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা এখনো কার্যকর হয়নি।

আদেশে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করবেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও অধিবেশন না ডাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জোটের নেতারা। এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, সংবিধানের দোহাই দিয়ে জনগণের বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষাকে ধামাচাপা দেওয়া যাবে না এবং এর সম্পূর্ণ দায়ভার প্রধানমন্ত্রীকেই নিতে হবে।

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানিয়েছেন, গণভোটে জনগণের যে ‘হ্যাঁ’ সূচক রায় এসেছে, তা বাস্তবায়ন করা এখন বাধ্যতামূলক। তিনি বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করে বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া মেনে প্রথমে সংসদের ভেতরেই দাবি আদায়ের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

তবে ঈদের পর সংসদ অধিবেশন শুরু হলে যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বানের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না আসে, তবে এনসিপি রাজপথে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য অর্জনে কোনো ধরনের কালক্ষেপণ সহ্য করা হবে না বলেও দলটির পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।