ঢাকা ১০:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

আফগানিস্তানে নারীর স্বাস্থ্যসেবা সংকটাপন্ন: বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর শঙ্কা!

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৫:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

আফগানিস্তানে তালেবান শাসনের অধীনে নারীর স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এক চরম সংকটের মুখে। ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট তালেবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকেই নারীর স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হতে শুরু করে, যা এখন তাদের জীবন ধারণের মৌলিক অধিকার, বিশেষত চিকিৎসার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের হুমকি তৈরি করেছে। বিনা চিকিৎসায় আফগান নারীদের মৃত্যুর শঙ্কা ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে।

তালেবান ক্ষমতা দখলের পর নারীর ঘরের বাইরে কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা নিষিদ্ধ করা হয়। গত বছর থেকে নারীর স্বাস্থ্যসেবাও সংকুচিত হতে থাকে। ভয়ে অনেক নারী ঘর থেকে বের হতে পারেন না; যারা সাহস করে বের হন, তাদের অভিজ্ঞতাও সুখকর নয়। মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিয়ে ক্লিনিকে গিয়েও তাদের হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে, কারণ কেবল নারী হওয়ার কারণে অনেক সময় তারা চিকিৎসা পাচ্ছেন না। কিছু প্রদেশে পুরুষ চিকিৎসকের কাছে নারী রোগীর চিকিৎসা নিষিদ্ধ, অথচ নারী স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা ক্রমাগত কমছে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তালেবান কর্তৃপক্ষ নারীদের মেডিসিন ও ধাত্রীবিদ্যা পড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যা তাদের চিকিৎসক হওয়ার সুযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। এই চিকিৎসা সংকটের ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে আফগান নারীদের ওপর। অধিকাংশ নারী নিজের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না; এ দায়িত্ব চলে গেছে পুরুষ অভিভাবকের হাতে। এর ফলস্বরূপ, তারা আগের তুলনায় কম সুস্থ, কম আয়ু নিয়ে বেঁচে আছেন। বাল্যবিয়ে বেড়ে যাওয়ায় মাতৃমৃত্যুর ঝুঁকিও আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ঘরে বন্দি থাকায় তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। শারীরিক ব্যায়াম, সামাজিক যোগাযোগ ও মানসিক সহায়তার অভাবে তাদের মধ্যে উদ্বেগ, হতাশা ও নিরাশা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। মারাত্মক আর্থিক সংকটে হাবুডুবু খাওয়ায় তারা নিজের স্বাস্থ্যের চেয়ে সন্তান ও পরিবারের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

তালেবান শাসন শুরুর আগেও আফগান নারীরা সংকটে ছিলেন। দারিদ্র্য, কড়া লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক রীতি ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে প্রায় ৩০ শতাংশ মেয়ে কখনোই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারত না। অর্থনৈতিক সংকটে অনেক পরিবার ছেলেমেয়ে উভয়কেই স্কুল থেকে নিয়ে আয়-রোজগারে নামায়। মেয়েশিশুকে বিয়ে দিতে পারলেই যেন অভিভাবকদের মুক্তি—এই ধারণা দিন দিন আরও প্রকট হচ্ছে। যদিও কিছু অনানুষ্ঠানিক বা অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু আছে, তবে তা নিতান্তই হাতেগোনা এবং খুব অল্পসংখ্যক মেয়ের কাছে পৌঁছাতে পারছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক

আফগানিস্তানে নারীর স্বাস্থ্যসেবা সংকটাপন্ন: বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর শঙ্কা!

আপডেট সময় : ১১:১৫:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

আফগানিস্তানে তালেবান শাসনের অধীনে নারীর স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এক চরম সংকটের মুখে। ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট তালেবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকেই নারীর স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হতে শুরু করে, যা এখন তাদের জীবন ধারণের মৌলিক অধিকার, বিশেষত চিকিৎসার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের হুমকি তৈরি করেছে। বিনা চিকিৎসায় আফগান নারীদের মৃত্যুর শঙ্কা ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে।

তালেবান ক্ষমতা দখলের পর নারীর ঘরের বাইরে কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা নিষিদ্ধ করা হয়। গত বছর থেকে নারীর স্বাস্থ্যসেবাও সংকুচিত হতে থাকে। ভয়ে অনেক নারী ঘর থেকে বের হতে পারেন না; যারা সাহস করে বের হন, তাদের অভিজ্ঞতাও সুখকর নয়। মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিয়ে ক্লিনিকে গিয়েও তাদের হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে, কারণ কেবল নারী হওয়ার কারণে অনেক সময় তারা চিকিৎসা পাচ্ছেন না। কিছু প্রদেশে পুরুষ চিকিৎসকের কাছে নারী রোগীর চিকিৎসা নিষিদ্ধ, অথচ নারী স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা ক্রমাগত কমছে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তালেবান কর্তৃপক্ষ নারীদের মেডিসিন ও ধাত্রীবিদ্যা পড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যা তাদের চিকিৎসক হওয়ার সুযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। এই চিকিৎসা সংকটের ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে আফগান নারীদের ওপর। অধিকাংশ নারী নিজের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না; এ দায়িত্ব চলে গেছে পুরুষ অভিভাবকের হাতে। এর ফলস্বরূপ, তারা আগের তুলনায় কম সুস্থ, কম আয়ু নিয়ে বেঁচে আছেন। বাল্যবিয়ে বেড়ে যাওয়ায় মাতৃমৃত্যুর ঝুঁকিও আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ঘরে বন্দি থাকায় তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। শারীরিক ব্যায়াম, সামাজিক যোগাযোগ ও মানসিক সহায়তার অভাবে তাদের মধ্যে উদ্বেগ, হতাশা ও নিরাশা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। মারাত্মক আর্থিক সংকটে হাবুডুবু খাওয়ায় তারা নিজের স্বাস্থ্যের চেয়ে সন্তান ও পরিবারের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

তালেবান শাসন শুরুর আগেও আফগান নারীরা সংকটে ছিলেন। দারিদ্র্য, কড়া লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক রীতি ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে প্রায় ৩০ শতাংশ মেয়ে কখনোই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারত না। অর্থনৈতিক সংকটে অনেক পরিবার ছেলেমেয়ে উভয়কেই স্কুল থেকে নিয়ে আয়-রোজগারে নামায়। মেয়েশিশুকে বিয়ে দিতে পারলেই যেন অভিভাবকদের মুক্তি—এই ধারণা দিন দিন আরও প্রকট হচ্ছে। যদিও কিছু অনানুষ্ঠানিক বা অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু আছে, তবে তা নিতান্তই হাতেগোনা এবং খুব অল্পসংখ্যক মেয়ের কাছে পৌঁছাতে পারছে।