ঢাকা ০৬:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

কর্মক্ষেত্রে মর্মান্তিক মৃত্যু: নিভৃতেই চলে গেলেন প্রবাসী শ্রমিক জুবিন নাথ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০৭:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

উৎসবের আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল ২৬ বছর বয়সী যুবক জুবিন নাথের। আসামের চিরাং জেলার এই বাসিন্দা বেঙ্গালুরুর একটি টাইলস নির্মাণ কারখানায় কাজ করতেন। গত ফেব্রুয়ারিতে ‘বিহু’ উৎসব এবং স্ত্রীর জন্মদিনে পরিবারের কাছে ফেরার সব প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ১৩ ফেব্রুয়ারি একটি টেলিফোন কল জুবিনের পরিবারের সব স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দেয়। কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় জুবিন আর নেই।

জুবিনের বাবা অনন্ত নাথ জানান, ঘটনার বিস্তারিত জানতে তিনি ছেলের নম্বরে ফোন করলে একজন ঠিকাদার সেটি রিসিভ করেন। তিনি জানান, মেশিনের নিচে শুয়ে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত কেউ মেশিনটি চালু করে দিলে জুবিনের দেহ দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়। গত পাঁচ বছর ধরে ওই প্রতিষ্ঠানে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কর্মরত ছিলেন জুবিন। তার অকাল মৃত্যুতে বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী এবং এক বছরের শিশু সন্তান এখন দিশেহারা।

পরদিন জুবিনের নিথর দেহ আসামের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। অথচ আসামজুড়ে কোনো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে যে শোকের আবহ তৈরি হয়, জুবিন নাথের মতো হাজারো সাধারণ শ্রমিকের এমন করুণ মৃত্যু যেন প্রচারের আড়ালেই থেকে যায়। প্রবাসী শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে এই হৃদয়বিদারক ঘটনার মধ্য দিয়ে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা: সরকার বদলেও একই বঞ্চনা, বলছেন সম্পাদক মাহমুদুর রহমান

কর্মক্ষেত্রে মর্মান্তিক মৃত্যু: নিভৃতেই চলে গেলেন প্রবাসী শ্রমিক জুবিন নাথ

আপডেট সময় : ১২:০৭:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

উৎসবের আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল ২৬ বছর বয়সী যুবক জুবিন নাথের। আসামের চিরাং জেলার এই বাসিন্দা বেঙ্গালুরুর একটি টাইলস নির্মাণ কারখানায় কাজ করতেন। গত ফেব্রুয়ারিতে ‘বিহু’ উৎসব এবং স্ত্রীর জন্মদিনে পরিবারের কাছে ফেরার সব প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ১৩ ফেব্রুয়ারি একটি টেলিফোন কল জুবিনের পরিবারের সব স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দেয়। কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় জুবিন আর নেই।

জুবিনের বাবা অনন্ত নাথ জানান, ঘটনার বিস্তারিত জানতে তিনি ছেলের নম্বরে ফোন করলে একজন ঠিকাদার সেটি রিসিভ করেন। তিনি জানান, মেশিনের নিচে শুয়ে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত কেউ মেশিনটি চালু করে দিলে জুবিনের দেহ দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়। গত পাঁচ বছর ধরে ওই প্রতিষ্ঠানে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কর্মরত ছিলেন জুবিন। তার অকাল মৃত্যুতে বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী এবং এক বছরের শিশু সন্তান এখন দিশেহারা।

পরদিন জুবিনের নিথর দেহ আসামের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। অথচ আসামজুড়ে কোনো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে যে শোকের আবহ তৈরি হয়, জুবিন নাথের মতো হাজারো সাধারণ শ্রমিকের এমন করুণ মৃত্যু যেন প্রচারের আড়ালেই থেকে যায়। প্রবাসী শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে এই হৃদয়বিদারক ঘটনার মধ্য দিয়ে।