ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের মধ্যে চলমান সংঘাত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানে বসবাসরত প্রায় ২ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরানে দুই হাজারের বেশি বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৪০০ জন রাজধানী তেহরানে বসবাস করেন। এদের অনেকেই স্থানীয় নারীদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। এছাড়াও, উপকূলীয় অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি মৎস্যজীবী হিসেবে কাজ করছেন, যাদের অনেকের বৈধ কাগজপত্র নেই।
২০২৫ সালের জুন মাসে ১২ দিনের সংঘাত চলাকালীন কিছু বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন এবং পারমাণবিক স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি হয়। এখন পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার ইরানি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। তেহরানের কাছে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলায় ১৬৮ শিশুর প্রাণহানির ঘটনাও পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরেছে।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার জরুরি ভিত্তিতে প্রবাসীদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ২০০ বাংলাদেশিকে সড়কপথে সীমান্ত পেরিয়ে আজারবাইজানের বাকু হয়ে দেশে ফেরানো হবে।
তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আমানুল হক বর্তমানে আজারবাইজানে অবস্থান করছেন এবং এই কার্যক্রম তদারকি করছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগ্রহী বাংলাদেশিদের প্রথমে সড়কপথে সীমান্ত পেরিয়ে আজারবাইজানে নেওয়া হবে, এরপর বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে ঢাকায় পাঠানো হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে আগামী বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) থেকেই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু হতে পারে। এদিকে, বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে তেহরানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস প্রবাসীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
রিপোর্টারের নাম 




















