ঢাকা ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

২০২৬ সাল নাগাদ বিশ্ব খাদ্য সংকট চরমে পৌঁছাতে পারে: জাতিসংঘ

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে ২০২৬ সাল নাগাদ বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে। সংস্থাটির ধারণা অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতে নতুন করে প্রায় চার কোটি পঞ্চাশ লক্ষ মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটের সম্মুখীন হতে পারে।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩১ কোটি ৮০ লক্ষ মানুষ গুরুতর খাদ্য সংকটে রয়েছেন। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে যে, সংঘাত অব্যাহত থাকলে এবং তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। ডব্লিউএফপি আরও জানিয়েছে, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের সময় বিশ্বব্যাপী যে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিও একই ধরনের ধাক্কা দিতে পারে।

যুদ্ধ সরাসরি খাদ্য উৎপাদন অঞ্চলে সংঘটিত না হলেও, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন, সার এবং কৃষিক্ষেত্রে খরচ বেড়ে যায়, যা শেষ পর্যন্ত খাদ্যের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। সংস্থার এক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, “যারা আগে থেকেই দুর্বল অবস্থায় আছেন, তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা না পেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।”

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়া এবং লোহিত সাগরের পথে ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণে তেল, সার ও খাদ্যের দামের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চল এবং এশিয়ার কিছু অংশ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকায় খাদ্য সংকট ২১ শতাংশ, পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৭ শতাংশ এবং এশিয়ার কিছু এলাকায় ২৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

সুদান ও সোমালিয়ার মতো দেশগুলোতে পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হতে পারে। তহবিল সংকটের কারণে অনেক স্থানে খাদ্য সহায়তা কমিয়ে দিতে হয়েছে, যা ভবিষ্যতে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পুনরায় পাকিস্তান সফর: যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব

২০২৬ সাল নাগাদ বিশ্ব খাদ্য সংকট চরমে পৌঁছাতে পারে: জাতিসংঘ

আপডেট সময় : ০৯:১৬:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে ২০২৬ সাল নাগাদ বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে। সংস্থাটির ধারণা অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতে নতুন করে প্রায় চার কোটি পঞ্চাশ লক্ষ মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটের সম্মুখীন হতে পারে।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩১ কোটি ৮০ লক্ষ মানুষ গুরুতর খাদ্য সংকটে রয়েছেন। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে যে, সংঘাত অব্যাহত থাকলে এবং তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। ডব্লিউএফপি আরও জানিয়েছে, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের সময় বিশ্বব্যাপী যে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিও একই ধরনের ধাক্কা দিতে পারে।

যুদ্ধ সরাসরি খাদ্য উৎপাদন অঞ্চলে সংঘটিত না হলেও, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন, সার এবং কৃষিক্ষেত্রে খরচ বেড়ে যায়, যা শেষ পর্যন্ত খাদ্যের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। সংস্থার এক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, “যারা আগে থেকেই দুর্বল অবস্থায় আছেন, তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা না পেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।”

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়া এবং লোহিত সাগরের পথে ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণে তেল, সার ও খাদ্যের দামের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চল এবং এশিয়ার কিছু অংশ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকায় খাদ্য সংকট ২১ শতাংশ, পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৭ শতাংশ এবং এশিয়ার কিছু এলাকায় ২৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

সুদান ও সোমালিয়ার মতো দেশগুলোতে পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হতে পারে। তহবিল সংকটের কারণে অনেক স্থানে খাদ্য সহায়তা কমিয়ে দিতে হয়েছে, যা ভবিষ্যতে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।