ঢাকা ০৯:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬

ঈদযাত্রায় ভাড়া নৈরাজ্য: ২০ বছরের রেকর্ড ভাঙার পথে অতিরিক্ত আদায়, যাত্রী কল্যাণ সমিতির উদ্বেগ

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি অভিযোগ করেছে যে, আসন্ন ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের যে নৈরাজ্য চলছে, তা গত ২০ বছরের রেকর্ড ভাঙতে পারে। ঈদযাত্রায় ভাড়া নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি পর্যবেক্ষণ করে সংগঠনটি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, তাদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে দেশের প্রায় ৮৭ শতাংশ বাস-মিনিবাসে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এমনকি রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের সিটি বাসেও এই অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতা শুরু হয়েছে।

সংগঠনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা থেকে বিভিন্ন রুটে ভাড়া কয়েকগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ঢাকা-পাবনা রুটে যেখানে স্বাভাবিক ভাড়া ৫৫০-৬০০ টাকা, সেখানে আদায় করা হচ্ছে ১২০০ টাকা। ঢাকা-রংপুর রুটে ৫০০ টাকার ভাড়া বাড়িয়ে ১৫০০ টাকা এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ লোকাল রুটে ২৫০ টাকার ভাড়া ৬০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করার ঘটনা ঘটছে। এর পাশাপাশি, অনেক পরিবহন সংস্থা যাত্রীদের তাদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের টিকিট না দিয়ে দূরের গন্তব্যের টিকিট কিনতে বাধ্য করছে। সিএনজি ও ডিজেলচালিত বাসের ভাড়ার ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও উভয় ক্ষেত্রেই সমান হারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাব মতে, ঈদে দূরপাল্লার প্রায় ৪০ লাখ যাত্রীর প্রত্যেকের কাছ থেকে গড়ে ৩৫০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হলে মোট অতিরিক্ত অর্থের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১২১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এছাড়া, সিটি সার্ভিসে ৬০ লাখ যাত্রীর কাছ থেকে গড়ে ৫০ টাকা করে বাড়তি নিলে আরও ২৬ কোটি ১০ লাখ টাকা আদায় হবে। সব মিলিয়ে এই অস্বাভাবিক ভাড়া আদায়ের অঙ্ক প্রায় ১৪৮ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।

সংগঠনটি মনে করে, এই ভাড়া নৈরাজ্যের পেছনে পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি, পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি, ঈদ বোনাস এবং মালিকদের অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের প্রবণতা কাজ করছে। এছাড়াও, ভাড়া নিয়ন্ত্রণে গঠিত মনিটরিং টিমে যাত্রী প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত না করায় কার্যকর নজরদারির অভাব রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গণপরিবহনে ডিজিটাল লেনদেন চালুর মাধ্যমে নগদ লেনদেন কমানো, সড়কে সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। তাদের মতে, এই ভাড়া নৈরাজ্য অব্যাহত থাকলে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, সামাজিক অস্থিরতা, পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা এবং সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যার ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে নিম্ন আয়ের মানুষ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হামলার অভিযোগে খাগড়াছড়িতে সাংবাদিক গ্রেপ্তার

ঈদযাত্রায় ভাড়া নৈরাজ্য: ২০ বছরের রেকর্ড ভাঙার পথে অতিরিক্ত আদায়, যাত্রী কল্যাণ সমিতির উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০৯:০৯:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি অভিযোগ করেছে যে, আসন্ন ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের যে নৈরাজ্য চলছে, তা গত ২০ বছরের রেকর্ড ভাঙতে পারে। ঈদযাত্রায় ভাড়া নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি পর্যবেক্ষণ করে সংগঠনটি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, তাদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে দেশের প্রায় ৮৭ শতাংশ বাস-মিনিবাসে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এমনকি রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের সিটি বাসেও এই অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতা শুরু হয়েছে।

সংগঠনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা থেকে বিভিন্ন রুটে ভাড়া কয়েকগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ঢাকা-পাবনা রুটে যেখানে স্বাভাবিক ভাড়া ৫৫০-৬০০ টাকা, সেখানে আদায় করা হচ্ছে ১২০০ টাকা। ঢাকা-রংপুর রুটে ৫০০ টাকার ভাড়া বাড়িয়ে ১৫০০ টাকা এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ লোকাল রুটে ২৫০ টাকার ভাড়া ৬০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করার ঘটনা ঘটছে। এর পাশাপাশি, অনেক পরিবহন সংস্থা যাত্রীদের তাদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের টিকিট না দিয়ে দূরের গন্তব্যের টিকিট কিনতে বাধ্য করছে। সিএনজি ও ডিজেলচালিত বাসের ভাড়ার ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও উভয় ক্ষেত্রেই সমান হারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাব মতে, ঈদে দূরপাল্লার প্রায় ৪০ লাখ যাত্রীর প্রত্যেকের কাছ থেকে গড়ে ৩৫০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হলে মোট অতিরিক্ত অর্থের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১২১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এছাড়া, সিটি সার্ভিসে ৬০ লাখ যাত্রীর কাছ থেকে গড়ে ৫০ টাকা করে বাড়তি নিলে আরও ২৬ কোটি ১০ লাখ টাকা আদায় হবে। সব মিলিয়ে এই অস্বাভাবিক ভাড়া আদায়ের অঙ্ক প্রায় ১৪৮ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।

সংগঠনটি মনে করে, এই ভাড়া নৈরাজ্যের পেছনে পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি, পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি, ঈদ বোনাস এবং মালিকদের অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের প্রবণতা কাজ করছে। এছাড়াও, ভাড়া নিয়ন্ত্রণে গঠিত মনিটরিং টিমে যাত্রী প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত না করায় কার্যকর নজরদারির অভাব রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গণপরিবহনে ডিজিটাল লেনদেন চালুর মাধ্যমে নগদ লেনদেন কমানো, সড়কে সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। তাদের মতে, এই ভাড়া নৈরাজ্য অব্যাহত থাকলে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, সামাজিক অস্থিরতা, পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা এবং সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যার ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে নিম্ন আয়ের মানুষ।