ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক পরিমাণ অর্থ লেনদেনের অভিযোগে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাউল হককে বদলি করা হয়েছে। অনলাইন জুয়ার সঙ্গে তার জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর এই সিদ্ধান্ত এলো।
বুধবার ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জানানো হয়, ওসি ইমাউল হককে ভাটারা থানা থেকে নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে ডেভেলপমেন্ট বিভাগে বদলি করা হয়েছে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি একজন প্রবাসী সাংবাদিক প্রথম তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের ২০ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে ওসির বিকাশ ও নগদ হিসাবে মোট ৩২ লাখ ৩৩ হাজার টাকা লেনদেন হয়েছে। এই অর্থ সাতটি ভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন সময়ে তার কাছে পাঠানো হয়। অভিযোগকারী সাংবাদিক আরও দাবি করেন, ওসি এসব টাকা এপিআই সিস্টেমের মাধ্যমে বিভিন্ন অনলাইন জুয়াতেও ব্যবহার করেছেন।
মাসখানেক আগে এসব তথ্য সামনে আসার পর আরও জানা যায়, ভাটারা থানার পেছনের একটি বিকাশ/নগদ এজেন্ট দোকান থেকে দুই মাসে ওসির নম্বরে ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছে। একই থানায় কর্মরত কনস্টেবল আমজাদের নম্বর থেকে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা এবং কনস্টেবল সাদ্দামের নম্বর থেকে ৬ লাখ ৯১ হাজার ৬২৯ টাকা এসেছে। এছাড়া, নাসিম নামে এক বাড়িওয়ালার নম্বর থেকে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮০ টাকা, মদিনা এজেন্ট হাউজ থেকে ২ লাখ ১৪ হাজার টাকা এবং খালেক নামে এক ব্যক্তির নম্বর থেকে ২ লাখ ৯০ হাজার ৮৫০ টাকা পাঠানো হয়।
পাশাপাশি ‘লন্ড্রি পিকআপ অ্যান্ড ড্রপ’ নামে নিবন্ধিত একটি নম্বর থেকে ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৯১০ টাকা এবং মিজানুর নামে আরেক ব্যক্তির নম্বর থেকে ৫ লাখ ৪৯ হাজার ১২০ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। তার ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও উল্লেখযোগ্য অঙ্কের লেনদেনের তথ্য মিলেছে।
তবে, ওসি ইমাউল হক অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, অনলাইন জুয়া সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই এবং একটি চক্র তার মোবাইল হ্যাক করে এই কাজ করেছে। তিনি এ ঘটনায় ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও জানান।
রিপোর্টারের নাম 
























