ঢাকা ১২:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিরাপদ ও মানসম্মত বাসস্থান নিশ্চিত করতে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্য

‘আরবান ক্রাইসিস রেসপন্স’ বা ‘পরিকল্পিত উন্নয়নের ধারা, নগর সমস্যায় সারা’—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ সোমবার (৬ অক্টোবর) পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৫’ বা ‘ওয়ার্ল্ড হ্যাবিট্যাট ডে’। এই দিবস উপলক্ষে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।

এই দিবসের মাধ্যমে শহর এবং শহরগুলোর বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হয় এবং পর্যাপ্ত আশ্রয়ের মৌলিক অধিকারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বিশ্বজুড়ে মানুষের নিরাপদ ও মানসম্মত বাসস্থান নিশ্চিত করার সচেতনতা বাড়ানোই দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে আজ সকাল সাড়ে ৮টায় একটি র্যা লি চন্দ্রিমা উদ্যান থেকে শুরু হয়ে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এসে শেষ হয়। র্যা লিতে মন্ত্রণালয় এবং আওতাধীন দফতর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে একটি সেমিনারের আয়োজন করে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ইউএন রেসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটর ইন বাংলাদেশ গোয়েন লুইস প্রমুখ। সেমিনারে তিনটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। এ উপলক্ষে স্মরণিকা প্রকাশ, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন স্থাপন করা হয়। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।

দিবসটি উপলক্ষে সোম ও মঙ্গলবার (৬ ও ৭ অক্টোবর) চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে একটি বসতি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এবারের মেলায় ৬০টি স্টলে আবাসন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করবে। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে এবং মেলা প্রাঙ্গণ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রদর্শনীতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দফতর-সংস্থা এবং বেসরকারি সংস্থার স্টল থাকবে বলে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবারকে বিশ্ব বসতি দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। তার পরের বছর থেকেই বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। প্রতিবছরই ভিন্ন ভিন্ন প্রতিপাদ্য নিয়ে পালিত হয় এই দিবস।

মানুষের একত্রিত হয়ে একটি নির্দিষ্ট স্থানে স্থায়ীভাবে বসবাস করাকে মানব বসতি বলা হয়। যে বসতির সংখ্যাগরিষ্ঠ অধিবাসী জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রথম পর্যায়ের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বা কৃষির ওপর নির্ভরশীল, তাকে গ্রামীণ বসতি বলে। আর যে বসতি অঞ্চলে অধিকাংশ অধিবাসী প্রত্যক্ষ ভূমি ব্যবহার ছাড়া অন্যান্য অকৃষিকাজ পেশায় নিয়োজিত থাকে, তাকে শহুরে বসতি বলে। বাংলাদেশের কোনো বসতিকে ‘শহর’ হিসেবে স্বীকৃতি লাভের জন্য কমপক্ষে ৫০০০ জনসংখ্যা ও প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১৫০০ জনের বসবাস থাকতে হবে। পরিবেশের সঙ্গে মানুষের অভিযোজনের প্রথম ধাপ হচ্ছে এই বসতি। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্র হলো নগর। প্রাচীনকালে সবচেয়ে শক্তিশালী নগরী ছিল রোম। শিল্পবিপ্লবের পর নগরায়ন নতুন মাত্রা ও গতি পায়। বাংলাদেশের ‘প্রশাসনিক নগর’ ও ‘বাণিজ্যিক নগর’ বলা হয় যথাক্রমে ঢাকা ও চট্টগ্রামকে। বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় শতকরা ৪০ শতাংশ শহরে বাস করে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার সোহাগদল গ্রামের বাসিন্দা সোহরাব হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা কোনো দিবস বুঝি না। বসতি বলতে বাপ-দাদার ভিটাকেই বুঝি, যেখানে আমরা বংশ পরম্পরায় বাস করে আসছি। এখানেই আয় করি, ব্যয় করি, এখানেই জীবন গড়ি। এটি ছেড়ে কোথাও নতুন বসতি গড়ার কথা চিন্তাও করতে পারি না।’

অন্যদিকে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘শহরে বাস করি বলে আমাদের শহুরে মানুষ মনে করা হলেও, আসলে কি আমরা সবাই শহরে বসতি গড়তে পেরেছি? পারিনি। জীবিকার প্রয়োজনে শহরে আমরা অস্থায়ী বসতি গড়লেও অনেকেই স্থায়ী বসতি গড়তে পারিনি।’

দিবসটি প্রসঙ্গে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিশ্ব বসতি দিবস পালনের উদ্দেশ্য হলো বিশ্বজুড়ে মানুষের নিরাপদ ও মানসম্মত বাসস্থান নিশ্চিত করার সচেতনতা বাড়ানো। নানান আয়োজনের মাধ্যমে আমরা সেই চেষ্টাই করছি।’

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের ঐতিহাসিক অভিষেক

নিরাপদ ও মানসম্মত বাসস্থান নিশ্চিত করতে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্য

আপডেট সময় : ০৫:৪৮:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫

‘আরবান ক্রাইসিস রেসপন্স’ বা ‘পরিকল্পিত উন্নয়নের ধারা, নগর সমস্যায় সারা’—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ সোমবার (৬ অক্টোবর) পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৫’ বা ‘ওয়ার্ল্ড হ্যাবিট্যাট ডে’। এই দিবস উপলক্ষে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।

এই দিবসের মাধ্যমে শহর এবং শহরগুলোর বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হয় এবং পর্যাপ্ত আশ্রয়ের মৌলিক অধিকারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বিশ্বজুড়ে মানুষের নিরাপদ ও মানসম্মত বাসস্থান নিশ্চিত করার সচেতনতা বাড়ানোই দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে আজ সকাল সাড়ে ৮টায় একটি র্যা লি চন্দ্রিমা উদ্যান থেকে শুরু হয়ে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এসে শেষ হয়। র্যা লিতে মন্ত্রণালয় এবং আওতাধীন দফতর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে একটি সেমিনারের আয়োজন করে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ইউএন রেসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটর ইন বাংলাদেশ গোয়েন লুইস প্রমুখ। সেমিনারে তিনটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। এ উপলক্ষে স্মরণিকা প্রকাশ, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন স্থাপন করা হয়। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।

দিবসটি উপলক্ষে সোম ও মঙ্গলবার (৬ ও ৭ অক্টোবর) চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে একটি বসতি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এবারের মেলায় ৬০টি স্টলে আবাসন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করবে। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে এবং মেলা প্রাঙ্গণ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রদর্শনীতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দফতর-সংস্থা এবং বেসরকারি সংস্থার স্টল থাকবে বলে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবারকে বিশ্ব বসতি দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। তার পরের বছর থেকেই বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। প্রতিবছরই ভিন্ন ভিন্ন প্রতিপাদ্য নিয়ে পালিত হয় এই দিবস।

মানুষের একত্রিত হয়ে একটি নির্দিষ্ট স্থানে স্থায়ীভাবে বসবাস করাকে মানব বসতি বলা হয়। যে বসতির সংখ্যাগরিষ্ঠ অধিবাসী জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রথম পর্যায়ের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বা কৃষির ওপর নির্ভরশীল, তাকে গ্রামীণ বসতি বলে। আর যে বসতি অঞ্চলে অধিকাংশ অধিবাসী প্রত্যক্ষ ভূমি ব্যবহার ছাড়া অন্যান্য অকৃষিকাজ পেশায় নিয়োজিত থাকে, তাকে শহুরে বসতি বলে। বাংলাদেশের কোনো বসতিকে ‘শহর’ হিসেবে স্বীকৃতি লাভের জন্য কমপক্ষে ৫০০০ জনসংখ্যা ও প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১৫০০ জনের বসবাস থাকতে হবে। পরিবেশের সঙ্গে মানুষের অভিযোজনের প্রথম ধাপ হচ্ছে এই বসতি। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্র হলো নগর। প্রাচীনকালে সবচেয়ে শক্তিশালী নগরী ছিল রোম। শিল্পবিপ্লবের পর নগরায়ন নতুন মাত্রা ও গতি পায়। বাংলাদেশের ‘প্রশাসনিক নগর’ ও ‘বাণিজ্যিক নগর’ বলা হয় যথাক্রমে ঢাকা ও চট্টগ্রামকে। বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় শতকরা ৪০ শতাংশ শহরে বাস করে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার সোহাগদল গ্রামের বাসিন্দা সোহরাব হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা কোনো দিবস বুঝি না। বসতি বলতে বাপ-দাদার ভিটাকেই বুঝি, যেখানে আমরা বংশ পরম্পরায় বাস করে আসছি। এখানেই আয় করি, ব্যয় করি, এখানেই জীবন গড়ি। এটি ছেড়ে কোথাও নতুন বসতি গড়ার কথা চিন্তাও করতে পারি না।’

অন্যদিকে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘শহরে বাস করি বলে আমাদের শহুরে মানুষ মনে করা হলেও, আসলে কি আমরা সবাই শহরে বসতি গড়তে পেরেছি? পারিনি। জীবিকার প্রয়োজনে শহরে আমরা অস্থায়ী বসতি গড়লেও অনেকেই স্থায়ী বসতি গড়তে পারিনি।’

দিবসটি প্রসঙ্গে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিশ্ব বসতি দিবস পালনের উদ্দেশ্য হলো বিশ্বজুড়ে মানুষের নিরাপদ ও মানসম্মত বাসস্থান নিশ্চিত করার সচেতনতা বাড়ানো। নানান আয়োজনের মাধ্যমে আমরা সেই চেষ্টাই করছি।’