ঢাকা ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

প্রশ্নফাঁস ও নকলমুক্ত পরীক্ষা: সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

আসন্ন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস এবং নকল রোধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এই পরীক্ষার পবিত্রতা রক্ষায় মাঠপর্যায়ে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা হবে।

শনিবার রাজধানীর মিন্টুরোডে তার সরকারি বাসভবনে ‘এডুকেশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ইরাব)’ সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা ও অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করা তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, অতীতে যেমন সফল হয়েছেন, এবারও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে যারা প্রশ্ন ফাঁসের অপচেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তিনি নিজেও মাঠপর্যায়ে গিয়ে সার্বিক নিরাপত্তা তদারকি করবেন।

দেশের সব শিক্ষার্থীর জন্য অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে বড় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলো যদি একই মানদণ্ডে হতে পারে, তবে আমাদের দেশেও তা সম্ভব। আগামী বছর থেকে এই পদ্ধতি চালুর বিষয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে।

নিজের মন্ত্রণালয়কে ‘ইবাদতখানা’ হিসেবে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী মিলন বলেন, আগামী ১৮০ দিনের কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি এমন একটি ভিত্তি তৈরি করতে চান, যা ১৮০ বছরের সমতুল্য প্রভাব ফেলবে। তার লক্ষ্য হলো ধীরস্থিরভাবে কাজ করে যাওয়া, যাতে কোনো ভুল পদক্ষেপ না হয়।

এছাড়াও, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও শিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ে তিন স্তরের স্ক্রিনিং প্রসেস রাখার পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি নিয়োগের ক্ষেত্রে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার বাধ্যবাধকতা নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে বলেন, বিগত ১৫-১৭ বছরে রাজনৈতিক কারণে বঞ্চিত শিক্ষকদের সুযোগ দিতেই এই যৌক্তিক পুনর্নির্ধারণ। ২০২৭ সালের নতুন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনকেও তিনি তার অন্যতম প্রধান মিশন হিসেবে উল্লেখ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা: তেল ব্যবহারকারী দেশগুলোর দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান ট্রাম্পের

প্রশ্নফাঁস ও নকলমুক্ত পরীক্ষা: সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

আপডেট সময় : ০২:২১:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

আসন্ন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস এবং নকল রোধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এই পরীক্ষার পবিত্রতা রক্ষায় মাঠপর্যায়ে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা হবে।

শনিবার রাজধানীর মিন্টুরোডে তার সরকারি বাসভবনে ‘এডুকেশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ইরাব)’ সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা ও অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করা তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, অতীতে যেমন সফল হয়েছেন, এবারও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে যারা প্রশ্ন ফাঁসের অপচেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তিনি নিজেও মাঠপর্যায়ে গিয়ে সার্বিক নিরাপত্তা তদারকি করবেন।

দেশের সব শিক্ষার্থীর জন্য অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে বড় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলো যদি একই মানদণ্ডে হতে পারে, তবে আমাদের দেশেও তা সম্ভব। আগামী বছর থেকে এই পদ্ধতি চালুর বিষয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে।

নিজের মন্ত্রণালয়কে ‘ইবাদতখানা’ হিসেবে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী মিলন বলেন, আগামী ১৮০ দিনের কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি এমন একটি ভিত্তি তৈরি করতে চান, যা ১৮০ বছরের সমতুল্য প্রভাব ফেলবে। তার লক্ষ্য হলো ধীরস্থিরভাবে কাজ করে যাওয়া, যাতে কোনো ভুল পদক্ষেপ না হয়।

এছাড়াও, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও শিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ে তিন স্তরের স্ক্রিনিং প্রসেস রাখার পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি নিয়োগের ক্ষেত্রে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার বাধ্যবাধকতা নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে বলেন, বিগত ১৫-১৭ বছরে রাজনৈতিক কারণে বঞ্চিত শিক্ষকদের সুযোগ দিতেই এই যৌক্তিক পুনর্নির্ধারণ। ২০২৭ সালের নতুন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনকেও তিনি তার অন্যতম প্রধান মিশন হিসেবে উল্লেখ করেন।