ঢাকা ১০:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬

রাষ্ট্রপতিকে বিচারের আওতায় আনার দাবি, জুলাই ঐক্যের অভিশংসন প্রস্তাব

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অভিশংসন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে ‘জুলাই ঐক্য’ নামক একটি সংগঠন। একই সঙ্গে, গণহত্যার সহযোগী হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে বিচারের আওতায় আনার দাবিও তুলেছে তারা।

শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এই দাবিগুলো জানায়। জুলাই ঐক্যের সংগঠক ফাহিম ফারুকী বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের পর ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। সেই গণঅভ্যুত্থানে সরকারের গুলিতে ১৪০০-এর বেশি ছাত্র-জনতা নিহত হন এবং হাজার হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেন। অথচ, সেই সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দিয়ে ‘জনতার সংসদকে অপবিত্র’ করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ফাহিম ফারুকী আরও বলেন যে, গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি একাধিকবার শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং গণমাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে অসত্য তথ্য প্রদান করেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন যে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে জুলাই ঐক্য বঙ্গভবন ঘেরাও করতে গিয়েছিল। কিন্তু জুলাই ঐক্যের আত্মপ্রকাশ ঘটে ২০২৫ সালের মে মাসে। এমন অসত্য তথ্য দিয়ে দেশে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জুলাই ঐক্যের নেতারা দাবি করেন যে, শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে গঠিত বর্তমান সংসদে ‘গণহত্যাকারী সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির’ ভাষণ দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা অভিযোগ করেন যে, রাষ্ট্রপতিকে সংসদে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে সরকারি দল বিএনপি জুলাইয়ের চেতনা ও শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

তারা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দুটি শপথ গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হলেও, বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে উল্টো রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে ভাষণ করিয়েছে। এর মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

সংগঠনটির নেতারা সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন যে, ছাত্র-জনতার তাজা রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আজকের সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জুলাইয়ের আন্দোলন না হলে বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনেকেই দেশে ফিরতে পারতেন না বা রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে পারতেন না। সেই জুলাইকে অস্বীকার করলে তার পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে তারা মন্তব্য করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আজ ঢাকার আবহাওয়া: বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই, তাপমাত্রা বাড়তে পারে

রাষ্ট্রপতিকে বিচারের আওতায় আনার দাবি, জুলাই ঐক্যের অভিশংসন প্রস্তাব

আপডেট সময় : ০৮:১৯:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অভিশংসন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে ‘জুলাই ঐক্য’ নামক একটি সংগঠন। একই সঙ্গে, গণহত্যার সহযোগী হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে বিচারের আওতায় আনার দাবিও তুলেছে তারা।

শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এই দাবিগুলো জানায়। জুলাই ঐক্যের সংগঠক ফাহিম ফারুকী বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের পর ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। সেই গণঅভ্যুত্থানে সরকারের গুলিতে ১৪০০-এর বেশি ছাত্র-জনতা নিহত হন এবং হাজার হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেন। অথচ, সেই সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দিয়ে ‘জনতার সংসদকে অপবিত্র’ করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ফাহিম ফারুকী আরও বলেন যে, গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি একাধিকবার শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং গণমাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে অসত্য তথ্য প্রদান করেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন যে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে জুলাই ঐক্য বঙ্গভবন ঘেরাও করতে গিয়েছিল। কিন্তু জুলাই ঐক্যের আত্মপ্রকাশ ঘটে ২০২৫ সালের মে মাসে। এমন অসত্য তথ্য দিয়ে দেশে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জুলাই ঐক্যের নেতারা দাবি করেন যে, শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে গঠিত বর্তমান সংসদে ‘গণহত্যাকারী সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির’ ভাষণ দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা অভিযোগ করেন যে, রাষ্ট্রপতিকে সংসদে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে সরকারি দল বিএনপি জুলাইয়ের চেতনা ও শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

তারা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দুটি শপথ গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হলেও, বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে উল্টো রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে ভাষণ করিয়েছে। এর মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

সংগঠনটির নেতারা সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন যে, ছাত্র-জনতার তাজা রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আজকের সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জুলাইয়ের আন্দোলন না হলে বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনেকেই দেশে ফিরতে পারতেন না বা রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে পারতেন না। সেই জুলাইকে অস্বীকার করলে তার পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে তারা মন্তব্য করেন।