ঢাকা ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

ইরান যুদ্ধ: ট্রাম্পের বিজয়ের পথে সাত বাধা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে ইরান ইস্যু নিয়ে এক জটিল পরিস্থিতির সম্মুখীন, যেখানে তিনি সহজে বিজয় ঘোষণা করতে পারছেন না। পরিস্থিতি ক্রমশ তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। এই অবস্থায়, যুদ্ধ শেষ করলে যে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক পরিণতি হতে পারে, তা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষতির চেয়েও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অতীতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জনসন এবং জর্জ ডব্লিউ বুশ মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে জড়িয়ে পরাজিত হয়েছিলেন। যদিও ট্রাম্প এখনো সেই ভয়াবহ পরিণতির সম্মুখীন হননি, তবে চারদিকে বিপদের আশঙ্কা স্পষ্ট।

ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে, যা দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাতে ট্রাম্পের দুর্বলতাকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। ইরানের এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে, যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল সামরিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও সব সমস্যার সমাধান কেবল শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সম্ভব নয়।

হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়া ট্রাম্পের জন্য একটি বড় সামরিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ইরানের সামরিক শক্তি তুলনামূলকভাবে দুর্বল হলেও, এই পরিস্থিতিতে প্রণালীটি পুনরায় চালু করার চেষ্টা মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

এই যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনার অভাব স্পষ্ট ছিল, যা বর্তমান পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে ইঙ্গিত করছে। কারণ মার্কিন কর্মকর্তারা বহু দশক ধরে জানতেন যে, আক্রমণের মুখে ইরান কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।

অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন লরেন্স ব্রেনান সিএনএনকে বলেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে কোনো বিজয় সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য এটি পুনরায় চালু করা অপরিহার্য, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তা অত্যন্ত কঠিন, প্রায় অসম্ভব। তিনি আরও বলেন যে, ট্রাম্প যত দ্রুতই বিজয় প্রত্যাশা করুন না কেন, যুদ্ধের প্রথম দিনগুলোতে বিজয় ঘোষণা করা সঠিক হয়নি। এই সংঘাত প্রত্যাশার চেয়ে দীর্ঘায়িত হবে।

এই সংঘাত শুধু তেলের দামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় বড় পরিসরে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের ঝুঁকি সামনে এসেছে। এর আগে সংঘাতে সাত মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। উত্তেজনা ও নিরাপত্তা হুমকি বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ভার্জিনিয়ার একটি গুলি চালানোর ঘটনাকে সন্ত্রাসবাদ হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। অন্যদিকে, এফবিআই মিশিগানে একটি ইহুদি উপাসনালয়ে হামলার ঘটনাও খতিয়ে দেখছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লেবাননে ইসরাইলি হামলায় শিশু-নারীসহ ১৪ জনের প্রাণহানি, উত্তেজনা তুঙ্গে

ইরান যুদ্ধ: ট্রাম্পের বিজয়ের পথে সাত বাধা

আপডেট সময় : ০৮:১৯:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে ইরান ইস্যু নিয়ে এক জটিল পরিস্থিতির সম্মুখীন, যেখানে তিনি সহজে বিজয় ঘোষণা করতে পারছেন না। পরিস্থিতি ক্রমশ তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। এই অবস্থায়, যুদ্ধ শেষ করলে যে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক পরিণতি হতে পারে, তা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষতির চেয়েও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অতীতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জনসন এবং জর্জ ডব্লিউ বুশ মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে জড়িয়ে পরাজিত হয়েছিলেন। যদিও ট্রাম্প এখনো সেই ভয়াবহ পরিণতির সম্মুখীন হননি, তবে চারদিকে বিপদের আশঙ্কা স্পষ্ট।

ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে, যা দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাতে ট্রাম্পের দুর্বলতাকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। ইরানের এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে, যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল সামরিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও সব সমস্যার সমাধান কেবল শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সম্ভব নয়।

হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়া ট্রাম্পের জন্য একটি বড় সামরিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ইরানের সামরিক শক্তি তুলনামূলকভাবে দুর্বল হলেও, এই পরিস্থিতিতে প্রণালীটি পুনরায় চালু করার চেষ্টা মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

এই যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনার অভাব স্পষ্ট ছিল, যা বর্তমান পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে ইঙ্গিত করছে। কারণ মার্কিন কর্মকর্তারা বহু দশক ধরে জানতেন যে, আক্রমণের মুখে ইরান কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।

অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন লরেন্স ব্রেনান সিএনএনকে বলেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে কোনো বিজয় সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য এটি পুনরায় চালু করা অপরিহার্য, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তা অত্যন্ত কঠিন, প্রায় অসম্ভব। তিনি আরও বলেন যে, ট্রাম্প যত দ্রুতই বিজয় প্রত্যাশা করুন না কেন, যুদ্ধের প্রথম দিনগুলোতে বিজয় ঘোষণা করা সঠিক হয়নি। এই সংঘাত প্রত্যাশার চেয়ে দীর্ঘায়িত হবে।

এই সংঘাত শুধু তেলের দামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় বড় পরিসরে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের ঝুঁকি সামনে এসেছে। এর আগে সংঘাতে সাত মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। উত্তেজনা ও নিরাপত্তা হুমকি বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ভার্জিনিয়ার একটি গুলি চালানোর ঘটনাকে সন্ত্রাসবাদ হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। অন্যদিকে, এফবিআই মিশিগানে একটি ইহুদি উপাসনালয়ে হামলার ঘটনাও খতিয়ে দেখছে।