ঢাকা ০৬:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬

সংসদের নতুন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ: জানুন তার পরিচয়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৫:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। একই সাথে নেত্রকোনা-১ আসনের ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন। সংসদের প্রথম বৈঠকে কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে তারা নির্বাচিত হন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই নির্বাচন সম্পন্ন হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ১৯৪৪ সালের ২৯ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন প্রখ্যাত সামরিক ব্যক্তিত্ব, রাজনীতিবিদ, ফুটবলার, দৌড়বিদ এবং মুক্তিযোদ্ধা। পূর্বে তিনি খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ভোলা-৩ আসন থেকে পরপর ছয় বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তার অসামান্য সাহসিকতার জন্য তিনি বীর বিক্রম খেতাবে ভূষিত হন। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য।

হাফিজ উদ্দিন আহমদের জন্ম ভোলার লালমোহনে। তার বাবা আজাহার উদ্দিন আহমদ ছিলেন একজন চিকিৎসক। তিনি ১৯৬৩ ও ১৯৬৫ সালে দুবার প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং বিরোধী দলের ডেপুটি নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তার মায়ের নাম করিমুন্নেছা। চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে হাফিজ উদ্দিন আহমদ সবার বড়।

তিনি ১৯৫৯ সালে ম্যাট্রিক এবং ১৯৬১ সালে আইএ পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯৬৪ সালে বিএ (অনার্স) এবং ১৯৬৫ সালে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনা শেষ করে তিনি ১৯৬৮ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে কমিশন পান এবং প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে তিনি যশোরের প্রত্যন্ত এলাকা জগদীশপুরে শীতকালীন প্রশিক্ষণে ছিলেন। ২৫ মার্চের পর তারা সেনানিবাসে ফেরেন এবং পরে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। তিনি কামালপুর, ধলই বিওপি, কানাইঘাট ও সিলেটের এমসি কলেজের যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতেই কর্মরত ছিলেন। তিনি ১৯৬৭ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলেরও সদস্য ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাড়ে ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ: ‘সূর্যের হাসি নেটওয়ার্কের’ ৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

সংসদের নতুন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ: জানুন তার পরিচয়

আপডেট সময় : ১২:৪৫:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। একই সাথে নেত্রকোনা-১ আসনের ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন। সংসদের প্রথম বৈঠকে কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে তারা নির্বাচিত হন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই নির্বাচন সম্পন্ন হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ১৯৪৪ সালের ২৯ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন প্রখ্যাত সামরিক ব্যক্তিত্ব, রাজনীতিবিদ, ফুটবলার, দৌড়বিদ এবং মুক্তিযোদ্ধা। পূর্বে তিনি খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ভোলা-৩ আসন থেকে পরপর ছয় বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তার অসামান্য সাহসিকতার জন্য তিনি বীর বিক্রম খেতাবে ভূষিত হন। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য।

হাফিজ উদ্দিন আহমদের জন্ম ভোলার লালমোহনে। তার বাবা আজাহার উদ্দিন আহমদ ছিলেন একজন চিকিৎসক। তিনি ১৯৬৩ ও ১৯৬৫ সালে দুবার প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং বিরোধী দলের ডেপুটি নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তার মায়ের নাম করিমুন্নেছা। চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে হাফিজ উদ্দিন আহমদ সবার বড়।

তিনি ১৯৫৯ সালে ম্যাট্রিক এবং ১৯৬১ সালে আইএ পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯৬৪ সালে বিএ (অনার্স) এবং ১৯৬৫ সালে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনা শেষ করে তিনি ১৯৬৮ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে কমিশন পান এবং প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে তিনি যশোরের প্রত্যন্ত এলাকা জগদীশপুরে শীতকালীন প্রশিক্ষণে ছিলেন। ২৫ মার্চের পর তারা সেনানিবাসে ফেরেন এবং পরে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। তিনি কামালপুর, ধলই বিওপি, কানাইঘাট ও সিলেটের এমসি কলেজের যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতেই কর্মরত ছিলেন। তিনি ১৯৬৭ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলেরও সদস্য ছিলেন।