ঢাকা ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, তাঁর সরকার পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও আস্থার ভিত্তিতে বিশ্বের সকল দেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং সমাজে সহনশীলতা ও বহুত্ববাদের সংস্কৃতি গড়ে তোলাকে বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও বিদেশি মিশনের প্রতিনিধিদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উদার অর্থনীতি ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ: প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জানান, তাঁর সরকার একটি ‘বিচক্ষণ নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ’ নীতি অনুসরণ করবে, যা ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশকে সহজতর করবে। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো জনগণের এবং বেসরকারি খাতের পূর্ণ সম্ভাবনাকে উন্মোচিত করা। দায়িত্বশীল বিনিয়োগ আকর্ষণে আমরা একটি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ গড়ে তুলব।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সরকারের পররাষ্ট্রনীতি হবে বাস্তববাদী ও টেকসই, যা ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব’ নীতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে।

সামাজিক সুরক্ষা ও শিক্ষা সংস্কার: সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ধাপে ধাপে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হবে, যাতে নারী ও কৃষি সম্প্রদায়ের কাছে সরাসরি সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা পৌঁছানো যায়। এছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার এনে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার এবং পাঠ্যক্রমে ‘তৃতীয় ভাষা’ অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

গণতন্ত্রের নতুন সংজ্ঞা: প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের কাছে গণতন্ত্র শুধু ব্যালট বাক্সে সীমাবদ্ধ নয়; এটি অন্তর্ভুক্তি, স্বচ্ছতা ও সংলাপের ধারাবাহিক অঙ্গীকার।” তিনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী করা এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখার মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রার্থীতা: অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (UNGA) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে সমর্থন দেওয়ার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

ইফতার মাহফিলে মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যগণ এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও বক্তব্য রাখেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার

আপডেট সময় : ০৮:৩৭:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, তাঁর সরকার পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও আস্থার ভিত্তিতে বিশ্বের সকল দেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং সমাজে সহনশীলতা ও বহুত্ববাদের সংস্কৃতি গড়ে তোলাকে বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও বিদেশি মিশনের প্রতিনিধিদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উদার অর্থনীতি ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ: প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জানান, তাঁর সরকার একটি ‘বিচক্ষণ নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ’ নীতি অনুসরণ করবে, যা ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশকে সহজতর করবে। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো জনগণের এবং বেসরকারি খাতের পূর্ণ সম্ভাবনাকে উন্মোচিত করা। দায়িত্বশীল বিনিয়োগ আকর্ষণে আমরা একটি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ গড়ে তুলব।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সরকারের পররাষ্ট্রনীতি হবে বাস্তববাদী ও টেকসই, যা ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব’ নীতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে।

সামাজিক সুরক্ষা ও শিক্ষা সংস্কার: সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ধাপে ধাপে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হবে, যাতে নারী ও কৃষি সম্প্রদায়ের কাছে সরাসরি সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা পৌঁছানো যায়। এছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার এনে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার এবং পাঠ্যক্রমে ‘তৃতীয় ভাষা’ অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

গণতন্ত্রের নতুন সংজ্ঞা: প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের কাছে গণতন্ত্র শুধু ব্যালট বাক্সে সীমাবদ্ধ নয়; এটি অন্তর্ভুক্তি, স্বচ্ছতা ও সংলাপের ধারাবাহিক অঙ্গীকার।” তিনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী করা এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখার মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রার্থীতা: অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (UNGA) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে সমর্থন দেওয়ার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

ইফতার মাহফিলে মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যগণ এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও বক্তব্য রাখেন।