এইচএসসি পরীক্ষায় চরম ফলাফল বিপর্যয় এবং পরিচালনা সংক্রান্ত শর্তাবলি পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা ১৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান ও একাডেমিক স্বীকৃতি স্থগিত করা হয়েছে। গত ৫ মার্চ কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর রুনা নাছরিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. সামছুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, যেসব প্রতিষ্ঠান শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ন্যূনতম শর্ত পূরণ করতে পারেনি এবং যাদের পরীক্ষার ফলাফল অত্যন্ত হতাশাজনক, তাদের কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় যেসব প্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, তাদের পারফরম্যান্সকে ‘অসন্তোষজনক’ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে গত ৭ জানুয়ারি বোর্ড চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা কমিটির সভায় এই ১৩টি প্রতিষ্ঠানের একাদশ শ্রেণির পাঠদান ও একাডেমিক স্বীকৃতি স্থগিতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্থগিতাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকায় রয়েছে—ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের জিনদপুর ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বিজয়নগরের নিদারাবাদ ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং চানপুর আদর্শ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ। লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের তোরাবগঞ্জ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, তোহা স্মৃতি গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সেবা গ্রাম ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং লক্ষ্মীপুর সদরের কেমব্রিজ সিটি কলেজ।
এছাড়া কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার ষাইটশালা আদর্শ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, লালমাইয়ের সুরুজ মেমোরিয়াল উচ্চবিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ, চৌদ্দগ্রামের চৌদ্দগ্রাম মডেল কলেজ এবং দাউদকান্দির অজরা এসইএসডিপি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজও এই তালিকায় রয়েছে। চাঁদপুরের মতলব উত্তরের জিবগাও জেনারেল হক হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং শরিফুল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজকেও একই নির্দেশনার আওতায় আনা হয়েছে।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর মো. নুরুন্নবী আলম জানান, এই নির্দেশনাটি সাময়িকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো যদি ভবিষ্যতে বোর্ডের নির্ধারিত শর্তাবলি পূরণ করতে সক্ষম হয়, তবে তারা পুনরায় একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরার আবেদন করতে পারবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যেসব প্রতিষ্ঠান বারবার সতর্ক করার পরেও ফলাফলের মানোন্নয়নে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি, তাদের বিরুদ্ধেই মূলত এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে এ ধরনের তদারকি ও ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
রিপোর্টারের নাম 























