এইচএসসি পরীক্ষায় চরম হতাশাজনক ফলাফলের দায়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা ১৩টি কলেজের একাদশ শ্রেণির পাঠদান ও একাডেমিক স্বীকৃতি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। পাসের হার শূন্য থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর এই ব্যবস্থা নিয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। স্থগিত হওয়া তালিকায় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার জীবগাঁও জেনারেল হক হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং শরিফ উল্লাহ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজও রয়েছে।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর রুনা নাছরিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. সামছুল ইসলাম।
বোর্ড চেয়ারম্যান জানান, যেসব প্রতিষ্ঠান শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পরিচালনার শর্তাবলী পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং যাদের ফলাফল অত্যন্ত শোচনীয়, তাদের একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় যেসব কলেজের পাসের হার ৫ শতাংশের নিচে, সেগুলোকে মানোন্নয়নে ব্যর্থ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর মো. নুরুন্নবী আলম এ প্রসঙ্গে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে যেসব প্রতিষ্ঠান একাদশ শ্রেণিতে নিম্নমুখী ফলাফল করছিল এবং বারবার সতর্ক করার পরেও শিক্ষার মানোন্নয়নে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি, মূলত তাদের বিরুদ্ধেই এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। এটি অন্য সব প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি সতর্কবার্তা। তবে এটি স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নয়; সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো যদি ভবিষ্যতে নির্ধারিত শর্ত পূরণ ও শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে পারে, তবে পুনরায় তাদের কার্যক্রম চালুর সুযোগ দেওয়া হবে।”
এবারের ফলাফলে সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার জীবগাঁও জেনারেল হক হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি, অর্থাৎ পাসের হার শূন্য শতাংশ। অন্যদিকে, একই উপজেলার শরিফ উল্লাহ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাসের হারও ৫ শতাংশের নিচে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর মতলব উত্তর উপজেলার ১১টি কলেজ থেকে মোট ১ হাজার ৭৮২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে মাত্র ৪০৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ২ জন। উপজেলায় গড় পাসের হার মাত্র ২২ দশমিক ৭২ শতাংশ।
একই উপজেলার মাদ্রাসা শিক্ষার (আলিম) চিত্রও খুব একটা সন্তোষজনক নয়। ৬টি মাদ্রাসা থেকে ১৫৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, যেখানে পাসের হার ৫০ দশমিক ৬৩ শতাংশ। তবে আলিম পর্যায়ে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে না পারায় এমন গণ-বিপর্যয় ঘটেছে।
রিপোর্টারের নাম 























