ঢাকা ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

যুদ্ধের ডামাডোলে সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে ইরানে শোক, বিক্ষোভ

চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি যৌথ হামলার মধ্যেই শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে রাজধানী তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে শোক পালন করেছেন হাজারো মানুষ। শোকাহত জনতা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ প্রার্থনাও করেন। এরপর তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।

গত শুক্রবার, পবিত্র রমজান মাসের তৃতীয় জুমায় তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মসজিদে সমবেত হন বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি। সাত দিন আগে শুরু হওয়া যুদ্ধ এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর এটিই ছিল প্রথম বড় ধর্মীয় সমাবেশ। এতে অংশগ্রহণকারী মুসল্লিদের হাতে ছিল প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবি। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি হামলার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তীব্র স্লোগান দেন।

বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে বোমাবর্ষণ অব্যাহত থাকলেও মানুষের এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিতিতে কোনো ভাটা পড়েনি। কালো পোশাকে সজ্জিত নারী-পুরুষরা মসজিদের বাইরের চত্বরে জমায়েত হয়ে প্রয়াত নেতাকে ‘তাকওয়া ও অভিভাবকত্বের মূর্ত প্রতীক’ হিসেবে অভিহিত করে শোক প্রকাশ করেন এবং তার জন্য প্রার্থনা করেন। এরপর তারা যুদ্ধের প্রতিবাদে বিশাল এক বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, কালো পোশাক পরিহিত নারী ও পুরুষরা ইরানের জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে রাজধানীর ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মসজিদের সামনে জড়ো হয়েছেন। সেখানে তারা প্রার্থনা করেন এবং খামেনির স্মরণে গভীর শোক প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, এই উত্তেজনার মধ্যেই ইসরাইল অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে জুমার নামাজ বাতিল করা হয়েছে। ইরানি হামলার দোহাই দিয়ে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও আল-আকসার খতিব শেখ ইকরিমা সাবরি এটিকে সম্পূর্ণ অন্যায় বলে অভিহিত করেছেন।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমন্বিত বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। তার মৃত্যুতে দেশটিতে ৪০ দিনের শোক এবং সাত দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ইরানও পাল্টা হামলা চালায়। ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী খামেনির হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছে। বর্তমানে সংঘাত সপ্তম দিনে গড়িয়েছে এবং ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা অব্যাহত রয়েছে। দেশজুড়ে শোক ও অনিশ্চয়তার এক গভীর পরিবেশ বিরাজ করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পুনরায় পাকিস্তান সফর: যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব

যুদ্ধের ডামাডোলে সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে ইরানে শোক, বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ১০:২২:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি যৌথ হামলার মধ্যেই শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে রাজধানী তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে শোক পালন করেছেন হাজারো মানুষ। শোকাহত জনতা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ প্রার্থনাও করেন। এরপর তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।

গত শুক্রবার, পবিত্র রমজান মাসের তৃতীয় জুমায় তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মসজিদে সমবেত হন বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি। সাত দিন আগে শুরু হওয়া যুদ্ধ এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর এটিই ছিল প্রথম বড় ধর্মীয় সমাবেশ। এতে অংশগ্রহণকারী মুসল্লিদের হাতে ছিল প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবি। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি হামলার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তীব্র স্লোগান দেন।

বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে বোমাবর্ষণ অব্যাহত থাকলেও মানুষের এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিতিতে কোনো ভাটা পড়েনি। কালো পোশাকে সজ্জিত নারী-পুরুষরা মসজিদের বাইরের চত্বরে জমায়েত হয়ে প্রয়াত নেতাকে ‘তাকওয়া ও অভিভাবকত্বের মূর্ত প্রতীক’ হিসেবে অভিহিত করে শোক প্রকাশ করেন এবং তার জন্য প্রার্থনা করেন। এরপর তারা যুদ্ধের প্রতিবাদে বিশাল এক বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, কালো পোশাক পরিহিত নারী ও পুরুষরা ইরানের জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে রাজধানীর ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মসজিদের সামনে জড়ো হয়েছেন। সেখানে তারা প্রার্থনা করেন এবং খামেনির স্মরণে গভীর শোক প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, এই উত্তেজনার মধ্যেই ইসরাইল অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে জুমার নামাজ বাতিল করা হয়েছে। ইরানি হামলার দোহাই দিয়ে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও আল-আকসার খতিব শেখ ইকরিমা সাবরি এটিকে সম্পূর্ণ অন্যায় বলে অভিহিত করেছেন।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমন্বিত বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। তার মৃত্যুতে দেশটিতে ৪০ দিনের শোক এবং সাত দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ইরানও পাল্টা হামলা চালায়। ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী খামেনির হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছে। বর্তমানে সংঘাত সপ্তম দিনে গড়িয়েছে এবং ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা অব্যাহত রয়েছে। দেশজুড়ে শোক ও অনিশ্চয়তার এক গভীর পরিবেশ বিরাজ করছে।