বাগেরহাটের মোংলা সুন্দরবন এলাকায় কোস্ট গার্ডের এক বিশেষ অভিযানে কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর এক সক্রিয় সদস্যকে অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদসহ আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ ২০২৬) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু চক্র সুন্দরবনে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে কোস্ট গার্ড ইতোমধ্যে বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে।
এই অভিযানের ধারাবাহিকতায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোর ৪টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা, আউটপোস্ট নলিয়ান, স্টেশন কয়রা এবং পুলিশের সমন্বয়ে কয়রা থানাধীন নারায়ণপুর এলাকায় একটি বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সক্রিয় সদস্য আফজাল সরদার (৩২) কে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, সকাল ১১টায় মোংলা থানাধীন পাশাখালী ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১টি শটগান, ১টি একনলা বন্দুক, ২১ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ১টি ওয়াকিটকি সেট উদ্ধার করা হয়। জানা গেছে, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে সুন্দরবনে যৌথ অভিযান শুরু হলে, এই ডাকাত সদস্য আতঙ্কিত হয়ে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ উক্ত এলাকায় পুঁতে রেখে কয়রার নারায়ণপুর এলাকায় আত্মগোপন করেছিল।
আটককৃত আফজাল সরদার (৩২) খুলনা জেলার কয়রা থানার বাসিন্দা। সে দীর্ঘদিন ধরে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সঙ্গে ডাকাতির কার্যক্রমে জড়িত ছিল এবং ডাকাত দলকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও রসদ সরবরাহের মাধ্যমে সহযোগিতা করে আসছিলো। উল্লেখ্য, এই ডাকাত সদস্যের বিরুদ্ধে কয়রা ও ডুমুরিয়া থানায় মোট ৫টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
আটককৃত ডাকাত এবং জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আরও জানানো হয়েছে যে, দস্যুদের উদ্দেশ্যে বলা হচ্ছে, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রিপোর্টারের নাম 





















