ঢাকা ০৮:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

চা বিক্রেতার সততায় ফিরলো চিকিৎসাবাবদ সঞ্চিত লক্ষাধিক টাকা

ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌর সদরে এক চা বিক্রেতা নিজের সততা ও মানবতা দিয়ে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। হৃদরোগে আক্রান্ত এক অসহায় রোগীর চিকিৎসার জন্য রাখা প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকা তিনি খুঁজে পেয়ে মালিকের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছেন। এই ঘটনায় চা বিক্রেতা জোবায়ের হোসেন এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভাঙ্গা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদরুল আলম সিয়ামের কার্যালয়ে উপস্থিত সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সামনে টাকার মালিকের হাতে টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়। চা বিক্রেতা জোবায়ের হোসেনের এই মহৎ কাজটি সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে। ভাঙ্গা পৌর সদরের বটতলা মোড়ে অবস্থিত হাইওয়ে থানার সামনে জোবায়ের হোসেনের চায়ের দোকানে আলগী ইউনিয়নের শাহমল্লিকদী গ্রামের বাসিন্দা মিরাজ শেখ ভুলক্রমে তার চিকিৎসার জন্য সঞ্চিত টাকার ব্যাগটি ফেলে যান। এই দোকানটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরণের চা বিক্রির জন্য এলাকায় পরিচিত।

টাকার ব্যাগটি খুঁজে পাওয়ার পর জোবায়ের হোসেন বিচলিত ও উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে টাকার মালিককে খুঁজে বের করার চেষ্টা শুরু করেন। কিন্তু কারো কাছ থেকে কোনো সদুত্তর না পেয়ে তিনি হতাশ হয়ে পড়েন। তবে হাল ছাড়েননি জোবায়ের। তিনি এলাকায় মাইকিং করার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রচার চালান।

প্রচারণার সূত্র ধরে টাকার পরিমাণ এবং ব্যাগের রং সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর জোবায়ের হোসেন ভাঙ্গা সহকারী কমিশনারের শরণাপন্ন হন। সব প্রমাণ যাচাই-বাছাই শেষে, হৃদরোগে আক্রান্ত রোগী মিরাজ শেখের হাতে তার হারানো টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

টাকা ফেরত পেয়ে মিরাজ শেখ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি জানান, এই টাকাগুলো তার অপারেশনের জন্য রাখা হয়েছিল। টাকা হারানোর পর তিনি আরও ভেঙে পড়েছিলেন। মাইকিং ও প্রচারণার মাধ্যমে টাকা ফিরে পাওয়ার খবর শুনে তিনি জোবায়েরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি বলেন, “একজন সৎ মানুষের হাতে টাকাগুলো পড়েছিল। আল্লাহ পাকের ইচ্ছায় দুনিয়ায় এখনো ভালো মানুষ আছে, না হলে আমার চিকিৎসা হয়তো সম্ভব হতো না।” এই কথা বলতে গিয়ে তিনি অঝোরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

জোবায়ের হোসেন বলেন, “সততা, ন্যায় ও নীতি মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে। টাকাগুলো যার হারিয়েছিল, তাকে খুঁজে বের করে টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে আমি আমার ঈমানি দায়িত্ব পালন করেছি।”

ভাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদরুল আলম সিয়াম এই ঘটনায় জোবায়ের হোসেনের প্রশংসা করে বলেন, “জোবায়ের মিয়া আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে হারানো টাকা প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দিতে সহযোগিতা চেয়েছিলেন। প্রমাণ যাচাই-বাছাই শেষে মালিকের হাতে টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে। চা বিক্রেতা জোবায়ের মিয়া সততার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী: মিয়া গোলাম পরওয়ার

চা বিক্রেতার সততায় ফিরলো চিকিৎসাবাবদ সঞ্চিত লক্ষাধিক টাকা

আপডেট সময় : ০৭:২৪:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌর সদরে এক চা বিক্রেতা নিজের সততা ও মানবতা দিয়ে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। হৃদরোগে আক্রান্ত এক অসহায় রোগীর চিকিৎসার জন্য রাখা প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকা তিনি খুঁজে পেয়ে মালিকের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছেন। এই ঘটনায় চা বিক্রেতা জোবায়ের হোসেন এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভাঙ্গা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদরুল আলম সিয়ামের কার্যালয়ে উপস্থিত সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সামনে টাকার মালিকের হাতে টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়। চা বিক্রেতা জোবায়ের হোসেনের এই মহৎ কাজটি সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে। ভাঙ্গা পৌর সদরের বটতলা মোড়ে অবস্থিত হাইওয়ে থানার সামনে জোবায়ের হোসেনের চায়ের দোকানে আলগী ইউনিয়নের শাহমল্লিকদী গ্রামের বাসিন্দা মিরাজ শেখ ভুলক্রমে তার চিকিৎসার জন্য সঞ্চিত টাকার ব্যাগটি ফেলে যান। এই দোকানটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরণের চা বিক্রির জন্য এলাকায় পরিচিত।

টাকার ব্যাগটি খুঁজে পাওয়ার পর জোবায়ের হোসেন বিচলিত ও উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে টাকার মালিককে খুঁজে বের করার চেষ্টা শুরু করেন। কিন্তু কারো কাছ থেকে কোনো সদুত্তর না পেয়ে তিনি হতাশ হয়ে পড়েন। তবে হাল ছাড়েননি জোবায়ের। তিনি এলাকায় মাইকিং করার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রচার চালান।

প্রচারণার সূত্র ধরে টাকার পরিমাণ এবং ব্যাগের রং সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর জোবায়ের হোসেন ভাঙ্গা সহকারী কমিশনারের শরণাপন্ন হন। সব প্রমাণ যাচাই-বাছাই শেষে, হৃদরোগে আক্রান্ত রোগী মিরাজ শেখের হাতে তার হারানো টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

টাকা ফেরত পেয়ে মিরাজ শেখ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি জানান, এই টাকাগুলো তার অপারেশনের জন্য রাখা হয়েছিল। টাকা হারানোর পর তিনি আরও ভেঙে পড়েছিলেন। মাইকিং ও প্রচারণার মাধ্যমে টাকা ফিরে পাওয়ার খবর শুনে তিনি জোবায়েরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি বলেন, “একজন সৎ মানুষের হাতে টাকাগুলো পড়েছিল। আল্লাহ পাকের ইচ্ছায় দুনিয়ায় এখনো ভালো মানুষ আছে, না হলে আমার চিকিৎসা হয়তো সম্ভব হতো না।” এই কথা বলতে গিয়ে তিনি অঝোরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

জোবায়ের হোসেন বলেন, “সততা, ন্যায় ও নীতি মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে। টাকাগুলো যার হারিয়েছিল, তাকে খুঁজে বের করে টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে আমি আমার ঈমানি দায়িত্ব পালন করেছি।”

ভাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদরুল আলম সিয়াম এই ঘটনায় জোবায়ের হোসেনের প্রশংসা করে বলেন, “জোবায়ের মিয়া আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে হারানো টাকা প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দিতে সহযোগিতা চেয়েছিলেন। প্রমাণ যাচাই-বাছাই শেষে মালিকের হাতে টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে। চা বিক্রেতা জোবায়ের মিয়া সততার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।”