ইরানে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতে প্রাণহানির সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই সহিংসতায় দেশটিতে নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে সাতশ ছাড়িয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সির (এইচআরএএনএ) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
সংস্থাটির তথ্যমতে, সোমবার বিকেল পর্যন্ত সংঘাতের কবলে পড়ে অন্তত ৭৪২ জন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৭৬ জনই শিশু, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। এছাড়া ৯০০-এর বেশি নাগরিক গুরুতর আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৯৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আরও শতাধিক নিহতের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে।
তীব্র ক্ষয়ক্ষতির মুখে জনপদ
সহিংসতার কবলে পড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয় ও আবাসিক এলাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তেহরানের নিকটবর্তী কারাজ শহরের একটি মসজিদ এবং রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত একটি গভর্নরের কার্যালয়ে হামলার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর আব্বাসের শহীদ বাহোনার পিয়ার এবং তেহরানের বেশ কয়েকটি হাসপাতালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য ব্যক্তিগত ও আবাসিক ভবন।
নিশানায় সামরিক স্থাপনা
সংঘাতে বেসামরিক জানমালের পাশাপাশি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। গত এক দিনে সানান্দাজে অবস্থিত কুর্দিস্তান আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও সীমান্তরক্ষী কমান্ড কেন্দ্র, ইসফাহানের একটি বিমানঘাঁটি এবং তেহরানের একটি বড় সেনাঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে হামলাকারীরা।
মানবাধিকার সংস্থাটি উল্লেখ করেছে যে, যুদ্ধের অস্থির পরিস্থিতির কারণে প্রাপ্ত এই তথ্যগুলো প্রাথমিক এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে যুদ্ধকালীন সীমাবদ্ধতার কারণে সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে আসা এই প্রতিবেদনের তথ্যগুলো স্বাধীনভাবে পুরোপুরি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
রিপোর্টারের নাম 
























